যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রবাসী দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে লোমহর্ষক সব তথ্য। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছেন স্থানীয় তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ফ্লোরিডার একটি আদালত শুনানি শেষে তাকে জামিন অযোগ্য আদেশে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ অপরাধের চিত্র। প্রসিকিউটরদের দাখিল করা তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত হিশাম এই হত্যাকাণ্ডের আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘চ্যাটজিপিটি’র কাছে জানতে চেয়েছিলেন কীভাবে মানুষকে প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি হিলসবরো রিভার স্টেট পার্কে প্রবেশের সময় গাড়িতে তল্লাশি করা হয় কি না, সে বিষয়েও তিনি অনুসন্ধান করেছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল থেকে লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার পর তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফোনের লোকেশন ট্র্যাকিং করে দেখতে পান, ওই রাতে হিশাম একাধিকবার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুর দিকে যাতায়াত করেছেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যার রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ডোরড্যাশের মাধ্যমে ঘর পরিষ্কার করার সামগ্রী ও আবর্জনা ফেলার ব্যাগ অর্ডার করেছিলেন। পরবর্তীতে একটি ডাম্পস্টার থেকে লিমনের রক্তমাখা পোশাক, মানিব্যাগ এবং বৃষ্টির ফোনের কভার উদ্ধার করা হয়। গত ২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুর নিচ থেকে একটি কালো ব্যাগে লিমনের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। এর দুদিন পর একই এলাকা থেকে আরও কিছু মানবদেহের অংশ পাওয়া যায়, যা বৃষ্টির হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসামি হিশাম জিজ্ঞাসাবাদে বারবার বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও তার ফোনের তথ্য এবং অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের সিসিটিভি ফুটেজ তার বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এমনকি তার মায়ের ভাষ্যমতে, হিশাম আগে থেকেই উগ্র মেজাজের ছিলেন এবং পরিবারের সাথেও সহিংস আচরণ করতেন। এই ঘটনায় প্রযুক্তি ব্যবহারের সংশ্লিষ্টতা থাকায় ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল ওপেনএআই-কেও তদন্তের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট এবং মরদেহ গুমের মতো গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে।
তথ্যের মূল উৎস : সিএনএন (CNN) ও ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টি আদালত প্রতিবেদন।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রবাসী দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে লোমহর্ষক সব তথ্য। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছেন স্থানীয় তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ফ্লোরিডার একটি আদালত শুনানি শেষে তাকে জামিন অযোগ্য আদেশে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ অপরাধের চিত্র। প্রসিকিউটরদের দাখিল করা তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত হিশাম এই হত্যাকাণ্ডের আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘চ্যাটজিপিটি’র কাছে জানতে চেয়েছিলেন কীভাবে মানুষকে প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি হিলসবরো রিভার স্টেট পার্কে প্রবেশের সময় গাড়িতে তল্লাশি করা হয় কি না, সে বিষয়েও তিনি অনুসন্ধান করেছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল থেকে লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার পর তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফোনের লোকেশন ট্র্যাকিং করে দেখতে পান, ওই রাতে হিশাম একাধিকবার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুর দিকে যাতায়াত করেছেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, হত্যার রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ডোরড্যাশের মাধ্যমে ঘর পরিষ্কার করার সামগ্রী ও আবর্জনা ফেলার ব্যাগ অর্ডার করেছিলেন। পরবর্তীতে একটি ডাম্পস্টার থেকে লিমনের রক্তমাখা পোশাক, মানিব্যাগ এবং বৃষ্টির ফোনের কভার উদ্ধার করা হয়। গত ২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুর নিচ থেকে একটি কালো ব্যাগে লিমনের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। এর দুদিন পর একই এলাকা থেকে আরও কিছু মানবদেহের অংশ পাওয়া যায়, যা বৃষ্টির হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসামি হিশাম জিজ্ঞাসাবাদে বারবার বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও তার ফোনের তথ্য এবং অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের সিসিটিভি ফুটেজ তার বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এমনকি তার মায়ের ভাষ্যমতে, হিশাম আগে থেকেই উগ্র মেজাজের ছিলেন এবং পরিবারের সাথেও সহিংস আচরণ করতেন। এই ঘটনায় প্রযুক্তি ব্যবহারের সংশ্লিষ্টতা থাকায় ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল ওপেনএআই-কেও তদন্তের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট এবং মরদেহ গুমের মতো গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে।
তথ্যের মূল উৎস : সিএনএন (CNN) ও ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টি আদালত প্রতিবেদন।

আপনার মতামত লিখুন