দিকপাল

বৃষ্টির মাঝেও শ্বাস নেওয়া দায়! ঢাকার বায়ুমান আজও ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:০২ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বৃষ্টির মাঝেও শ্বাস নেওয়া দায়! ঢাকার বায়ুমান আজও ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং ক্রমবর্ধমান নগরায়নের ভিড়ে মেগাসিটি ঢাকার বাতাসের মানের কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বৃষ্টির উপস্থিতিতে প্রকৃতির সতেজতা ফিরলেও দূষণের কবল থেকে মুক্তি মেলেনি রাজধানীর। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir) এর প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ঢাকার বাতাস আজও সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১৩৭ স্কোর নিয়ে আজ চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। তালিকার শীর্ষস্থানগুলোতে যথাক্রমে রয়েছে ইরাকের বাগদাদ (১৬৪ স্কোর) এবং ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৬৩ স্কোর)। বাতাসের এই মান নির্দেশ করে যে, সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কিছুটা কম থাকলেও শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এই পরিবেশ যথেষ্ট উদ্বেগের। বায়ুমান সূচকে ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়, যার মধ্যে আজ অবস্থান করছে ঢাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণের এই মাত্রা নির্ধারণ করা হয় মূলত পাঁচটি উপাদানের ওপর ভিত্তি করে, যার মধ্যে রয়েছে বস্তুকণা (PM10 ও PM2.5), এনও২, সিও, এসও২ এবং ওজোন। এই বিষাক্ত উপাদানগুলো সরাসরি ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, যা সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মাস্ক ব্যবহার করা এবং যতটা সম্ভব ঘরের বাইরে শারীরিক পরিশ্রম কমানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে দূষিত বাতাসের তালিকায় শীর্ষ থাকা ঢাকার এই পরিস্থিতি নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের অভাবকে দায়ী করছেন পরিবেশবাদীরা। তাদের মতে, নিয়মিত বৃষ্টিপাত ধূলিকণা সাময়িকভাবে কমিয়ে দিলেও বাতাসে মিশে থাকা অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানগুলো সরানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর এই নীরব ঘাতক প্রতিনিয়ত তার নেতিবাচক প্রভাব ফেলে যাচ্ছে।

তথ্যের মূল উৎস (Original Source): আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir)।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


বৃষ্টির মাঝেও শ্বাস নেওয়া দায়! ঢাকার বায়ুমান আজও ‘অস্বাস্থ্যকর’ ক্যাটাগরিতে

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং ক্রমবর্ধমান নগরায়নের ভিড়ে মেগাসিটি ঢাকার বাতাসের মানের কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বৃষ্টির উপস্থিতিতে প্রকৃতির সতেজতা ফিরলেও দূষণের কবল থেকে মুক্তি মেলেনি রাজধানীর। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir) এর প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ঢাকার বাতাস আজও সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১৩৭ স্কোর নিয়ে আজ চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। তালিকার শীর্ষস্থানগুলোতে যথাক্রমে রয়েছে ইরাকের বাগদাদ (১৬৪ স্কোর) এবং ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৬৩ স্কোর)। বাতাসের এই মান নির্দেশ করে যে, সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কিছুটা কম থাকলেও শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এই পরিবেশ যথেষ্ট উদ্বেগের। বায়ুমান সূচকে ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়, যার মধ্যে আজ অবস্থান করছে ঢাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণের এই মাত্রা নির্ধারণ করা হয় মূলত পাঁচটি উপাদানের ওপর ভিত্তি করে, যার মধ্যে রয়েছে বস্তুকণা (PM10 ও PM2.5), এনও২, সিও, এসও২ এবং ওজোন। এই বিষাক্ত উপাদানগুলো সরাসরি ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, যা সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মাস্ক ব্যবহার করা এবং যতটা সম্ভব ঘরের বাইরে শারীরিক পরিশ্রম কমানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে দূষিত বাতাসের তালিকায় শীর্ষ থাকা ঢাকার এই পরিস্থিতি নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের অভাবকে দায়ী করছেন পরিবেশবাদীরা। তাদের মতে, নিয়মিত বৃষ্টিপাত ধূলিকণা সাময়িকভাবে কমিয়ে দিলেও বাতাসে মিশে থাকা অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানগুলো সরানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর এই নীরব ঘাতক প্রতিনিয়ত তার নেতিবাচক প্রভাব ফেলে যাচ্ছে।

তথ্যের মূল উৎস (Original Source): আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir)।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল