দেশের জ্বালানি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়ার আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৯০ শতাংশ বা প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে দেশটি, যা আগামী ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬ টাকা অনুমিত হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা ১২ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে। প্রায় ৬০ বছর আয়ুষ্কালের এই কেন্দ্রটি যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরও ৩০ বছর অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৯০ বছর পর্যন্ত সচল রাখা সম্ভব হবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়েছে তৃতীয় প্রজন্মের আধুনিক রি-অ্যাক্টর প্রযুক্তি। এর বিশেষত্ব হলো এর স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা, যা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে আনে। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় জ্বালানি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) কঠোর তত্ত্বাবধানে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রূপপুর প্রকল্পটি কেবল বিদ্যুৎ সংকট মেটাবে না, বরং কয়লা ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং দেশের কারিগরি জনবল তৈরিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
প্রকল্পের অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশ হলো এর জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা। ছোট ছোট ইউরেনিয়াম অক্সাইড প্যালেট দিয়ে তৈরি জ্বালানি রডগুলো বিশেষ কাঠামোয় সাজিয়ে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বা জ্বালানি বান্ডেল হিসেবে রি-অ্যাক্টরের কেন্দ্রে স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি বান্ডেলে রয়েছে ৩১২টি জ্বালানি রড। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগবে প্রায় ৩০ দিন। জ্বালানি স্থাপনের পর শুরু হবে 'ফিজিক্যাল স্টার্টআপ' বা নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ঘটানোর কাজ, যা সম্পূর্ণ করতে আরও ৩৪ দিনের মতো সময় প্রয়োজন হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার বা সক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাওয়ার ৩ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এরপর ১০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ—এভাবে পর্যায়ক্রমে সক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে চলবে বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিড পূর্ণ সক্ষমতায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ পেতে শুরু করবে। রাশিয়ার সাথে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী প্রথম তিন বছরের জ্বালানি তারাই সরবরাহ করবে, এরপর বাংলাদেশকে দুই বছর অন্তর ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করতে হবে।
তথ্যের মূল উৎস (Original Source): রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দেশের জ্বালানি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়ার আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ৯০ শতাংশ বা প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে দেশটি, যা আগামী ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬ টাকা অনুমিত হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা ১২ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে। প্রায় ৬০ বছর আয়ুষ্কালের এই কেন্দ্রটি যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরও ৩০ বছর অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৯০ বছর পর্যন্ত সচল রাখা সম্ভব হবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়েছে তৃতীয় প্রজন্মের আধুনিক রি-অ্যাক্টর প্রযুক্তি। এর বিশেষত্ব হলো এর স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা, যা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে আনে। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় জ্বালানি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) কঠোর তত্ত্বাবধানে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রূপপুর প্রকল্পটি কেবল বিদ্যুৎ সংকট মেটাবে না, বরং কয়লা ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং দেশের কারিগরি জনবল তৈরিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
প্রকল্পের অত্যন্ত সংবেদনশীল অংশ হলো এর জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা। ছোট ছোট ইউরেনিয়াম অক্সাইড প্যালেট দিয়ে তৈরি জ্বালানি রডগুলো বিশেষ কাঠামোয় সাজিয়ে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বা জ্বালানি বান্ডেল হিসেবে রি-অ্যাক্টরের কেন্দ্রে স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি বান্ডেলে রয়েছে ৩১২টি জ্বালানি রড। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগবে প্রায় ৩০ দিন। জ্বালানি স্থাপনের পর শুরু হবে 'ফিজিক্যাল স্টার্টআপ' বা নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ঘটানোর কাজ, যা সম্পূর্ণ করতে আরও ৩৪ দিনের মতো সময় প্রয়োজন হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার বা সক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাওয়ার ৩ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এরপর ১০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ—এভাবে পর্যায়ক্রমে সক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে চলবে বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিড পূর্ণ সক্ষমতায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ পেতে শুরু করবে। রাশিয়ার সাথে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী প্রথম তিন বছরের জ্বালানি তারাই সরবরাহ করবে, এরপর বাংলাদেশকে দুই বছর অন্তর ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করতে হবে।
তথ্যের মূল উৎস (Original Source): রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন।

আপনার মতামত লিখুন