দিকপাল

পিস্টোরিয়াসের বিস্ফোরক দাবি, মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার ইউরোপের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ



পিস্টোরিয়াসের বিস্ফোরক দাবি, মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার ইউরোপের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ

জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার একটি অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন। গত শনিবার (২ মে) এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান যে, মার্কিন সেনাদের এই আংশিক প্রত্যাহার কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল। পিস্টোরিয়াস বিশ্বাস করেন, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় দেশগুলোকে বহিরাগত শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব স্বহস্তে নিতে আরও বেশি উৎসাহিত করবে। তার মতে, ন্যাটোর অভ্যন্তরে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোই এখন ইউরোপের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং এই পদক্ষেপ সেই লক্ষ্য অর্জনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

মার্কিন সেনা কমানোর এই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে জার্মানি ইতিমধ্যেই তাদের প্রতিরক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। পিস্টোরিয়াস জানান যে, জার্মানি তাদের সশস্ত্র বাহিনীর পরিধি বাড়ানো এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে সঠিক পথেই এগোচ্ছে। বর্তমানে জার্মানির সশস্ত্র বাহিনীতে ১ লাখ ৮৫ হাজার সৈন্য রয়েছে, যা ২ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই সৈন্য প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অপসারিত সৈন্যের সংখ্যা ৫ হাজারের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। এই পরিবর্তনের ফলে বাইডেন প্রশাসনের আমলে নেওয়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনাটিও বাতিল হয়ে গেছে, যা ইউরোপের নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই পুরো বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও মার্কিন আইনপ্রণেতা এবং ন্যাটোর অনেক মিত্র দেশ এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে পোল্যান্ড মনে করছে, এই সৈন্য প্রত্যাহার ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে জার্মানি তার অবস্থানে অনড় থেকে মনে করছে, মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সামরিক অবকাঠামো মজবুত করাই হবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সেরা এবং টেকসই কৌশল। ওয়াশিংটন ও বার্লিনের মধ্যে প্রতিরক্ষা বিষয়ক এই নতুন টানাপোড়েন আগামীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক স্বয়ংসম্পূর্ণতাকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যায়, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মূল সূত্র: রয়টার্স।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


পিস্টোরিয়াসের বিস্ফোরক দাবি, মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার ইউরোপের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এই সিদ্ধান্তকে ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার একটি অনন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন। গত শনিবার (২ মে) এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান যে, মার্কিন সেনাদের এই আংশিক প্রত্যাহার কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল। পিস্টোরিয়াস বিশ্বাস করেন, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় দেশগুলোকে বহিরাগত শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব স্বহস্তে নিতে আরও বেশি উৎসাহিত করবে। তার মতে, ন্যাটোর অভ্যন্তরে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোই এখন ইউরোপের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং এই পদক্ষেপ সেই লক্ষ্য অর্জনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

মার্কিন সেনা কমানোর এই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে জার্মানি ইতিমধ্যেই তাদের প্রতিরক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। পিস্টোরিয়াস জানান যে, জার্মানি তাদের সশস্ত্র বাহিনীর পরিধি বাড়ানো এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে সঠিক পথেই এগোচ্ছে। বর্তমানে জার্মানির সশস্ত্র বাহিনীতে ১ লাখ ৮৫ হাজার সৈন্য রয়েছে, যা ২ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই সৈন্য প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, অপসারিত সৈন্যের সংখ্যা ৫ হাজারের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। এই পরিবর্তনের ফলে বাইডেন প্রশাসনের আমলে নেওয়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনাটিও বাতিল হয়ে গেছে, যা ইউরোপের নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই পুরো বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও মার্কিন আইনপ্রণেতা এবং ন্যাটোর অনেক মিত্র দেশ এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে পোল্যান্ড মনে করছে, এই সৈন্য প্রত্যাহার ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে জার্মানি তার অবস্থানে অনড় থেকে মনে করছে, মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সামরিক অবকাঠামো মজবুত করাই হবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সেরা এবং টেকসই কৌশল। ওয়াশিংটন ও বার্লিনের মধ্যে প্রতিরক্ষা বিষয়ক এই নতুন টানাপোড়েন আগামীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামরিক স্বয়ংসম্পূর্ণতাকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যায়, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মূল সূত্র: রয়টার্স।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল