দিকপাল

পুশ ইন ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ


ইয়াসরির মাহবুব
ইয়াসরির মাহবুব স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ | ০৮:৫২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

পুশ ইন ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তে যেকোনো ধরনের 'পুশ-ইন' বা অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৫ মে, ২০২৬) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা ক্ষমতার রদবদলকে কেন্দ্র করে যদি বাংলাদেশে পুশ-ইনের মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তবে ঢাকা বসে থাকবে না এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ড. খলিলুর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভারত এই চুক্তি বাস্তবায়নে দ্রুত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। তবে কেবল ভারতের ওপর নির্ভর না করে তিস্তা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিকল্প পথও খোলা রাখছে বাংলাদেশ। এই প্রসঙ্গে তিনি চীনের প্রস্তাবিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বা টিস্তা রিভার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং আসন্ন চীন সফরে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই চীন সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামী ৭ মে পর্যন্ত এই সফরে তিস্তা প্রকল্পসহ দ্বিপাক্ষিক নানা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

সীমান্ত ও পানি ইস্যুর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সম্প্রতি ঢাকা সফররত মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। এই বৈঠক শেষে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দেশের ভেতর চলা বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দেন তিনি। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। অন্যান্য দেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পাদিত চুক্তির তুলনামূলক চিত্র পর্যালোচনা করলেই এর সুদূরপ্রসারী সুবিধাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠবে। যারা না বুঝে সমালোচনা করছেন, তাদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করার আহ্বান জানান তিনি। সামগ্রিকভাবে, সীমান্ত সুরক্ষা, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান সরকার বহুমুখী কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


পুশ ইন ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর অবস্থানে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তে যেকোনো ধরনের 'পুশ-ইন' বা অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৫ মে, ২০২৬) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের এই দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা ক্ষমতার রদবদলকে কেন্দ্র করে যদি বাংলাদেশে পুশ-ইনের মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তবে ঢাকা বসে থাকবে না এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ড. খলিলুর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভারত এই চুক্তি বাস্তবায়নে দ্রুত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। তবে কেবল ভারতের ওপর নির্ভর না করে তিস্তা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিকল্প পথও খোলা রাখছে বাংলাদেশ। এই প্রসঙ্গে তিনি চীনের প্রস্তাবিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বা টিস্তা রিভার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং আসন্ন চীন সফরে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই চীন সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামী ৭ মে পর্যন্ত এই সফরে তিস্তা প্রকল্পসহ দ্বিপাক্ষিক নানা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

সীমান্ত ও পানি ইস্যুর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সম্প্রতি ঢাকা সফররত মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। এই বৈঠক শেষে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দেশের ভেতর চলা বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দেন তিনি। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। অন্যান্য দেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পাদিত চুক্তির তুলনামূলক চিত্র পর্যালোচনা করলেই এর সুদূরপ্রসারী সুবিধাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠবে। যারা না বুঝে সমালোচনা করছেন, তাদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করার আহ্বান জানান তিনি। সামগ্রিকভাবে, সীমান্ত সুরক্ষা, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান সরকার বহুমুখী কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল