দিকপাল

ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের!



ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের!

হোয়াইট হাউসের তপ্ত মেজাজ আর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপকে এক সুতোয় গেঁথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারটি বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফক্স নিউজের পর্দায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুঙ্কার কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এটি তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের এক চরম চরমপত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি। সেখানে পরিচালিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি যে কোনো স্তরে যেতে প্রস্তুত, তা তার কথাতেই স্পষ্ট। তিনি সরাসরি জানিয়েছেন, যদি এই প্রকল্পের কোনো জাহাজে আঘাত হানা হয়, তবে মার্কিন সামরিক শক্তি ইরানকে এমন এক পরিণতির দিকে ঠেলে দেবে যার ফলে দেশটিকে মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে। তার এই ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা’র মতো কঠোর শব্দ চয়ন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে যে বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

সাক্ষাৎকারজুড়ে ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের বন্দনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে যে অভূতপূর্ব সংস্কার ও আধুনিকায়ন হয়েছে, তা আমেরিকার হাতে এমন সব মারণাস্ত্র তুলে দিয়েছে যা আগে কখনো ছিল না। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং যে কোনো মুহূর্তের নির্দেশে তারা শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করার সক্ষমতা রাখে। ট্রাম্পের মতে, ওয়াশিংটন এখন শুধু সেরা প্রযুক্তিরই অধিকারী নয়, বরং পর্যাপ্ত অস্ত্রাগার নিয়ে তারা এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী।

তবে এই হুমকির বিপরীতে ট্রাম্প কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণেরও অবতারণা করেছেন। তিনি মনে করেন, তেহরান বর্তমানে অনেকটা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্রমাগত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক চাপের মুখে ইরানের কঠোর অবস্থান এখন আগের চেয়ে নমনীয়। যদিও তিনি শান্তি আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে তা যে হবে সম্পূর্ণ আমেরিকার শর্ত মেনে এবং শক্তির জোরে, সেটিও তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ট্রাম্পের এই রণহুঙ্কার শোনার পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য কেবল স্নায়ুযুদ্ধকেই ত্বরান্বিত করবে না, বরং তেলের দাম বৃদ্ধিতেও বড় প্রভাব ফেলবে। এখন দেখার বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই সর্বাত্মক সামরিক হুমকির মুখে তেহরান তাদের সামরিক রণকৌশলে কোনো পরিবর্তন আনে কিনা নাকি পাল্টাহুমকির পথে হেঁটে উত্তেজনাকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়।

সূত্র: আলজাজিরা 

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলার চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের!

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

হোয়াইট হাউসের তপ্ত মেজাজ আর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপকে এক সুতোয় গেঁথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারটি বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফক্স নিউজের পর্দায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুঙ্কার কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এটি তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের এক চরম চরমপত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি। সেখানে পরিচালিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি যে কোনো স্তরে যেতে প্রস্তুত, তা তার কথাতেই স্পষ্ট। তিনি সরাসরি জানিয়েছেন, যদি এই প্রকল্পের কোনো জাহাজে আঘাত হানা হয়, তবে মার্কিন সামরিক শক্তি ইরানকে এমন এক পরিণতির দিকে ঠেলে দেবে যার ফলে দেশটিকে মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে। তার এই ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা’র মতো কঠোর শব্দ চয়ন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে যে বড় ধরনের কম্পন সৃষ্টি করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

সাক্ষাৎকারজুড়ে ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের বন্দনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে যে অভূতপূর্ব সংস্কার ও আধুনিকায়ন হয়েছে, তা আমেরিকার হাতে এমন সব মারণাস্ত্র তুলে দিয়েছে যা আগে কখনো ছিল না। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং যে কোনো মুহূর্তের নির্দেশে তারা শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করার সক্ষমতা রাখে। ট্রাম্পের মতে, ওয়াশিংটন এখন শুধু সেরা প্রযুক্তিরই অধিকারী নয়, বরং পর্যাপ্ত অস্ত্রাগার নিয়ে তারা এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী।

তবে এই হুমকির বিপরীতে ট্রাম্প কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণেরও অবতারণা করেছেন। তিনি মনে করেন, তেহরান বর্তমানে অনেকটা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্রমাগত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক চাপের মুখে ইরানের কঠোর অবস্থান এখন আগের চেয়ে নমনীয়। যদিও তিনি শান্তি আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে তা যে হবে সম্পূর্ণ আমেরিকার শর্ত মেনে এবং শক্তির জোরে, সেটিও তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ট্রাম্পের এই রণহুঙ্কার শোনার পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য কেবল স্নায়ুযুদ্ধকেই ত্বরান্বিত করবে না, বরং তেলের দাম বৃদ্ধিতেও বড় প্রভাব ফেলবে। এখন দেখার বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই সর্বাত্মক সামরিক হুমকির মুখে তেহরান তাদের সামরিক রণকৌশলে কোনো পরিবর্তন আনে কিনা নাকি পাল্টাহুমকির পথে হেঁটে উত্তেজনাকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়।

সূত্র: আলজাজিরা 


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল