বিশ্ব রাজনীতির চলমান উত্তেজনার কেন্দ্রে থাকা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বুধবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন ছাড়াও বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক নানা অমীমাংসিত ইস্যু এই আলোচনার মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে স্থান পেয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে আব্বাস আরাগচির এই সফরের সময়কাল। গত সপ্তাহেই তিনি রাশিয়া সফর করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক সেরেছেন। মস্কো সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই বেইজিংয়ে তার এই উপস্থিতি পশ্চিমা বিশ্বের ওপর নতুন করে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ত্রিদেশীয় কূটনৈতিক তৎপরতা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনো শক্তিশালী অক্ষ তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বর্তমান বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়—দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং রুদ্ধ হয়ে থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত এই জলপথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চীন শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পক্ষে কড়া অবস্থান নিলেও, তেহরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধের কড়া সমালোচনা করে আসছে। বেইজিং মনে করে, একতরফা এই অবরোধই সংকটের মূল কারণ।
এদিকে আগামী ১৪-১৫ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। ট্রাম্পের এই সফরের ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বেইজিংকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা তেহরানের ওপর তাদের প্রভাব খাটায় এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে ইরানকে চাপ দেয়। ফলে ট্রাম্পের সফরের আগেই চীন ও ইরানের এই বৈঠকটি ওয়াশিংটনের কাছে বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখছে। বেইজিং শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের আহ্বানে সাড়া দেয় নাকি তেহরানের সঙ্গে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।
সূত্র: রয়টার্স

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
বিশ্ব রাজনীতির চলমান উত্তেজনার কেন্দ্রে থাকা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বুধবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন ছাড়াও বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক নানা অমীমাংসিত ইস্যু এই আলোচনার মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে স্থান পেয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে আব্বাস আরাগচির এই সফরের সময়কাল। গত সপ্তাহেই তিনি রাশিয়া সফর করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক সেরেছেন। মস্কো সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই বেইজিংয়ে তার এই উপস্থিতি পশ্চিমা বিশ্বের ওপর নতুন করে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ত্রিদেশীয় কূটনৈতিক তৎপরতা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনো শক্তিশালী অক্ষ তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বর্তমান বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়—দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং রুদ্ধ হয়ে থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত এই জলপথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চীন শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পক্ষে কড়া অবস্থান নিলেও, তেহরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধের কড়া সমালোচনা করে আসছে। বেইজিং মনে করে, একতরফা এই অবরোধই সংকটের মূল কারণ।
এদিকে আগামী ১৪-১৫ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। ট্রাম্পের এই সফরের ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বেইজিংকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা তেহরানের ওপর তাদের প্রভাব খাটায় এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে ইরানকে চাপ দেয়। ফলে ট্রাম্পের সফরের আগেই চীন ও ইরানের এই বৈঠকটি ওয়াশিংটনের কাছে বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখছে। বেইজিং শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের আহ্বানে সাড়া দেয় নাকি তেহরানের সঙ্গে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।
সূত্র: রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন