সারাদেশে হামের সংক্রমণ যখন আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন এই মরণব্যাধি শনাক্তের একমাত্র ভরসা রাজধানীর মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাগারে দেখা দিয়েছে চরম হাহাকার। বর্তমানে পুরো দেশের জন্য হাম পরীক্ষার কিট অবশিষ্ট আছে মাত্র সাতটি, যা দিয়ে বড়জোর ৬৩০টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। বর্তমান সংক্রমণের উচ্চহার বিবেচনায় নিলে আগামী মাত্র ছয় দিনের মধ্যেই এই সরঞ্জাম ফুরিয়ে যাওয়ার কথা, যার অর্থ হলো ১১ মের পর দেশে হাম শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়বে। গত এপ্রিল থেকেই এই সংকটের আভাস পাওয়া গেলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদারকি ও জরুরি উদ্যোগের অভাবে নতুন কোনো জোগান এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গড়ে ৩০০টিরও বেশি রক্তের নমুনা এই পরীক্ষাগারে জমা হচ্ছে, কিন্তু পর্যাপ্ত কিট না থাকায় এরই মধ্যে সাত হাজার ৭৫৮টি নমুনা স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সংগৃহীত নমুনার মধ্যে ৪২ শতাংশেরই হাম শনাক্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা স্পষ্ট করে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ওপর কিট সরবরাহের পূর্ণ নির্ভরশীলতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন ১৫ মে নাগাদ নতুন কিট পৌঁছাতে পারে, তবে সেই পর্যন্ত পরীক্ষা সচল রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে。
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি。 বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল ও মুশতাক হোসেনের মতে, কিট সংকটে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেলে সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র আড়ালে চলে যাবে, যা মহামারি নিয়ন্ত্রণে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধা সৃষ্টি করবে。 তারা আরও জানান, শুধুমাত্র ঢাকার ওপর নির্ভর না করে পরীক্ষার সুবিধা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হলে দ্রুত রোগ শনাক্ত ও ঢাকার ওপর চাপ কমানো সম্ভব হতো。 এছাড়া বেসরকারি খাতকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার ক্ষেত্রেও সরকারের বড় ধরনের অনীহা ও সমন্বয়ের অভাব দেখা গেছে。
এদিকে মাঠ পর্যায়ের চিত্র আরও মর্মান্তিক। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সিলেট ও ময়মনসিংহের হাসপাতালে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে。 ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ২৬৩ জন এবং সরাসরি হাম শনাক্তের পর ৫৪ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে。 আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ ও তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিলেও জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইসিইউ ও চিকিৎসার পরিকাঠামো না থাকায় শিশুদের বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা。 যদিও সরকার টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ পূরণ করার দাবি করছে, তবুও যথাযথ রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রটোকলের অভাবে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বেড়েই চলেছে。

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
সারাদেশে হামের সংক্রমণ যখন আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন এই মরণব্যাধি শনাক্তের একমাত্র ভরসা রাজধানীর মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাগারে দেখা দিয়েছে চরম হাহাকার। বর্তমানে পুরো দেশের জন্য হাম পরীক্ষার কিট অবশিষ্ট আছে মাত্র সাতটি, যা দিয়ে বড়জোর ৬৩০টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। বর্তমান সংক্রমণের উচ্চহার বিবেচনায় নিলে আগামী মাত্র ছয় দিনের মধ্যেই এই সরঞ্জাম ফুরিয়ে যাওয়ার কথা, যার অর্থ হলো ১১ মের পর দেশে হাম শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়বে। গত এপ্রিল থেকেই এই সংকটের আভাস পাওয়া গেলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদারকি ও জরুরি উদ্যোগের অভাবে নতুন কোনো জোগান এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গড়ে ৩০০টিরও বেশি রক্তের নমুনা এই পরীক্ষাগারে জমা হচ্ছে, কিন্তু পর্যাপ্ত কিট না থাকায় এরই মধ্যে সাত হাজার ৭৫৮টি নমুনা স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সংগৃহীত নমুনার মধ্যে ৪২ শতাংশেরই হাম শনাক্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা স্পষ্ট করে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ওপর কিট সরবরাহের পূর্ণ নির্ভরশীলতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন ১৫ মে নাগাদ নতুন কিট পৌঁছাতে পারে, তবে সেই পর্যন্ত পরীক্ষা সচল রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে。
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি。 বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল ও মুশতাক হোসেনের মতে, কিট সংকটে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেলে সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র আড়ালে চলে যাবে, যা মহামারি নিয়ন্ত্রণে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধা সৃষ্টি করবে。 তারা আরও জানান, শুধুমাত্র ঢাকার ওপর নির্ভর না করে পরীক্ষার সুবিধা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হলে দ্রুত রোগ শনাক্ত ও ঢাকার ওপর চাপ কমানো সম্ভব হতো。 এছাড়া বেসরকারি খাতকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার ক্ষেত্রেও সরকারের বড় ধরনের অনীহা ও সমন্বয়ের অভাব দেখা গেছে。
এদিকে মাঠ পর্যায়ের চিত্র আরও মর্মান্তিক। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সারাদেশে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সিলেট ও ময়মনসিংহের হাসপাতালে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে。 ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ২৬৩ জন এবং সরাসরি হাম শনাক্তের পর ৫৪ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে。 আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ ও তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিলেও জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আইসিইউ ও চিকিৎসার পরিকাঠামো না থাকায় শিশুদের বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা。 যদিও সরকার টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ পূরণ করার দাবি করছে, তবুও যথাযথ রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রটোকলের অভাবে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বেড়েই চলেছে。

আপনার মতামত লিখুন