দিকপাল

খেলার ‘তাস’ কি তবে ফুরিয়ে এলো? পশ্চিমাদের সাহায্য ও অভ্যন্তরীণ চাপে দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে জেলেনস্কির!



খেলার ‘তাস’ কি তবে ফুরিয়ে এলো? পশ্চিমাদের সাহায্য ও অভ্যন্তরীণ চাপে দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে জেলেনস্কির!

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর সহজাত অভিনয়শৈলী এবং বাগ্মিতার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন দক্ষ জনসংযোগ ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর এই প্রতিভার প্রশংসা বন্ধু ও শত্রু—উভয় পক্ষই করে থাকে। যেখানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিক্রয়কর্মী’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন, সেখানে রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ ডেভিড ফ্রেঞ্চ তাঁকে ‘মুক্ত বিশ্বের নতুন নেতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে যুদ্ধের ময়দানে বর্তমান যে কঠিন বাস্তবতা, তা মোকাবিলায় জেলেনস্কির এই জনসংযোগ কৌশল খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। যদিও জেলেনস্কি প্রশাসন এবং তাঁর মিত্ররা দাবি করার চেষ্টা করছেন যে যুদ্ধ এখন একটি বিশেষ সন্ধিক্ষণে রয়েছে, কিন্তু মাঠের প্রকৃত চিত্র একেবারেই ভিন্ন।

ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেন রাশিয়ার চেয়ে বেশি ভূখণ্ড দখল করেছে—এমন একটি দাবি ইউক্রেনপন্থী বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে তোলা হলেও এর সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। ফ্রন্টলাইনজুড়ে বিস্তৃত ‘নিরপেক্ষ অঞ্চলগুলোর’ নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, তা অধিকাংশ সময়ই অস্পষ্ট থাকে। ফলে প্রতি মাসে দেড়শ থেকে দুইশ বর্গকিলোমিটার অগ্রগতির যে পরিসংখ্যান দেওয়া হচ্ছে, তা অনেক ক্ষেত্রে গাণিতিক কারসাজি বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, গত দুই বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং বর্তমানে দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরীগুলো রুশ বাহিনীর কঠোর অবরোধের মুখে পড়েছে এবং উত্তরের সীমান্তজুড়ে রুশদের এই অগ্রযাত্রা ফ্রন্টলাইনের শত শত কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর জনবলসংকটকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

যুদ্ধের এই দীর্ঘ সময়ে এসে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে নতুন সৈন্য নিয়োগের বিষয়টি এখন বিতর্কিত ও সহিংস রূপ নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, জনবল বাড়াতে শহর ও গ্রামের রাস্তা থেকে তরুণদের জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হচ্ছে। এর বিপরীতে রাশিয়া এখনো মোটা অংকের আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবক সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছে। যদিও জেলেনস্কি দাবি করেছেন যে মার্চ মাসে রুশ বাহিনীর মাসিক হতাহতের সংখ্যা রেকর্ড ৩৫ হাজারে পৌঁছেছে, তবে এই তথ্য তাঁর নিজের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই সংখ্যা ৪৮ হাজার ছাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল।

অন্যদিকে, ইউক্রেন রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়ে কিছু সাফল্য পেলেও তা সামগ্রিক যুদ্ধের চিত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলা টেলিভিশন পর্দায় নাটকীয় দৃশ্য তৈরি করলেও রাশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তিতে বড় কোনো আঘাত হানতে ব্যর্থ হচ্ছে। উল্টো যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার সুযোগে জ্বালানি তেল বিক্রি করে রাশিয়ার আয় গত এপ্রিল মাসে ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। রাশিয়ার এই এক মাসের অতিরিক্ত আয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ইউক্রেনের আগামী দুই বছরের জন্য সম্ভাব্য ঋণের প্রায় ১০ শতাংশের সমান, যা যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতায় রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই প্রমাণ করে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬


খেলার ‘তাস’ কি তবে ফুরিয়ে এলো? পশ্চিমাদের সাহায্য ও অভ্যন্তরীণ চাপে দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে জেলেনস্কির!

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর সহজাত অভিনয়শৈলী এবং বাগ্মিতার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন দক্ষ জনসংযোগ ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর এই প্রতিভার প্রশংসা বন্ধু ও শত্রু—উভয় পক্ষই করে থাকে। যেখানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিক্রয়কর্মী’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন, সেখানে রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ ডেভিড ফ্রেঞ্চ তাঁকে ‘মুক্ত বিশ্বের নতুন নেতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে যুদ্ধের ময়দানে বর্তমান যে কঠিন বাস্তবতা, তা মোকাবিলায় জেলেনস্কির এই জনসংযোগ কৌশল খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। যদিও জেলেনস্কি প্রশাসন এবং তাঁর মিত্ররা দাবি করার চেষ্টা করছেন যে যুদ্ধ এখন একটি বিশেষ সন্ধিক্ষণে রয়েছে, কিন্তু মাঠের প্রকৃত চিত্র একেবারেই ভিন্ন।

ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেন রাশিয়ার চেয়ে বেশি ভূখণ্ড দখল করেছে—এমন একটি দাবি ইউক্রেনপন্থী বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে তোলা হলেও এর সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। ফ্রন্টলাইনজুড়ে বিস্তৃত ‘নিরপেক্ষ অঞ্চলগুলোর’ নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, তা অধিকাংশ সময়ই অস্পষ্ট থাকে। ফলে প্রতি মাসে দেড়শ থেকে দুইশ বর্গকিলোমিটার অগ্রগতির যে পরিসংখ্যান দেওয়া হচ্ছে, তা অনেক ক্ষেত্রে গাণিতিক কারসাজি বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, গত দুই বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং বর্তমানে দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরীগুলো রুশ বাহিনীর কঠোর অবরোধের মুখে পড়েছে এবং উত্তরের সীমান্তজুড়ে রুশদের এই অগ্রযাত্রা ফ্রন্টলাইনের শত শত কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর জনবলসংকটকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

যুদ্ধের এই দীর্ঘ সময়ে এসে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে নতুন সৈন্য নিয়োগের বিষয়টি এখন বিতর্কিত ও সহিংস রূপ নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, জনবল বাড়াতে শহর ও গ্রামের রাস্তা থেকে তরুণদের জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হচ্ছে। এর বিপরীতে রাশিয়া এখনো মোটা অংকের আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবক সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছে। যদিও জেলেনস্কি দাবি করেছেন যে মার্চ মাসে রুশ বাহিনীর মাসিক হতাহতের সংখ্যা রেকর্ড ৩৫ হাজারে পৌঁছেছে, তবে এই তথ্য তাঁর নিজের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই সংখ্যা ৪৮ হাজার ছাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল।

অন্যদিকে, ইউক্রেন রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়ে কিছু সাফল্য পেলেও তা সামগ্রিক যুদ্ধের চিত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলা টেলিভিশন পর্দায় নাটকীয় দৃশ্য তৈরি করলেও রাশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তিতে বড় কোনো আঘাত হানতে ব্যর্থ হচ্ছে। উল্টো যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার সুযোগে জ্বালানি তেল বিক্রি করে রাশিয়ার আয় গত এপ্রিল মাসে ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। রাশিয়ার এই এক মাসের অতিরিক্ত আয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ইউক্রেনের আগামী দুই বছরের জন্য সম্ভাব্য ঋণের প্রায় ১০ শতাংশের সমান, যা যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতায় রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই প্রমাণ করে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল