দেশের তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় দিনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্য অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারই হচ্ছে আমাদের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং তৃণমূলের প্রধান প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারলে জাতীয় পর্যায়ের গণতন্ত্রও সুসংহত হবে। তাই সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যেন আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সকল নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়।
ডিসি সম্মেলনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের কাজের সমন্বয় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অধিবেশনে জেলা প্রশাসকরা মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন, যা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জেলা প্রশাসকদের মূল নেতৃত্ব দিতে হবে এবং জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করতে তাদের সঙ্গ নিয়েই সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। গত ১৬ বছরে স্থানীয় অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সংস্কার কাজের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।
একই দিনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, গ্রামে প্রকৃতপক্ষে কোনো লোডশেডিং নেই। তবে পল্লী বিদ্যুতের লাইনগুলো দীর্ঘ হওয়ায় কোথাও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তা শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লাগে, যা সাধারণ মানুষের কাছে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হিসেবে মনে হয়। লাইন মেরামত হওয়ার সাথে সাথেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যায় বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। অন্যদিকে, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তাদের সরকারের ‘প্রতিচ্ছবি’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অন্যান্য ইস্যু নিয়েও সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নিরঙ্কুশ জয় পেলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন যাই হোক না কেন, বাংলাদেশের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অপরিবর্তিত থাকবে। এছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডিসিদের উৎসাহিত করেন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সংকট নিরসনে ডরমিটরি ও স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের চলমান কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তৃতীয় দিনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্য অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারই হচ্ছে আমাদের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং তৃণমূলের প্রধান প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারলে জাতীয় পর্যায়ের গণতন্ত্রও সুসংহত হবে। তাই সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যেন আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সকল নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়।
ডিসি সম্মেলনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের কাজের সমন্বয় এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অধিবেশনে জেলা প্রশাসকরা মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন, যা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জেলা প্রশাসকদের মূল নেতৃত্ব দিতে হবে এবং জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করতে তাদের সঙ্গ নিয়েই সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। গত ১৬ বছরে স্থানীয় অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সংস্কার কাজের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।
একই দিনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, গ্রামে প্রকৃতপক্ষে কোনো লোডশেডিং নেই। তবে পল্লী বিদ্যুতের লাইনগুলো দীর্ঘ হওয়ায় কোথাও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তা শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লাগে, যা সাধারণ মানুষের কাছে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হিসেবে মনে হয়। লাইন মেরামত হওয়ার সাথে সাথেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যায় বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। অন্যদিকে, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তাদের সরকারের ‘প্রতিচ্ছবি’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অন্যান্য ইস্যু নিয়েও সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নিরঙ্কুশ জয় পেলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন যাই হোক না কেন, বাংলাদেশের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অপরিবর্তিত থাকবে। এছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডিসিদের উৎসাহিত করেন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সংকট নিরসনে ডরমিটরি ও স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের চলমান কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।

আপনার মতামত লিখুন