দীর্ঘ আড়াই মাসের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে পৌঁছাচ্ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) বিশাল এক চালান। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ছেড়ে আসা অয়েল ট্যাংকার ‘এমটি নিনেমিয়া’ আজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করার কথা রয়েছে। জাহাজটি পৌঁছানোর পরপরই শুরু হবে খালাস কার্যক্রম, যা দেশের ঝিমিয়ে পড়া জ্বালানি খাতে নতুন করে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিচ্ছে। আমদানিকৃত এই কাঁচামালের ওপর ভিত্তি করে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড’ (ইআরএল) পুনরায় তাদের পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ক্রুড অয়েলের চরম সংকটে পড়ে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির মূল প্ল্যান্টে উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, জাহাজ থেকে তেল খালাস হয়ে ডিপোতে পৌঁছালে আগামী ৭ বা ৮ মে’র মধ্যেই রিফাইনারিটি আবারও সচল করা সম্ভব হবে। বর্তমানে কাঁচামাল না থাকায় শোধনাগারটির চারটি ইউনিটের মধ্যে তিনটিই স্থবির হয়ে আছে। ইআরএল সচল হলে এখান থেকে প্রতিদিন ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি ও উপজাত উৎপাদিত হবে, যার প্রায় ৪৫ শতাংশই হলো ডিজেল। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ জোগান দেয় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর দেশে ক্রুড অয়েলের কোনো চালান আসতে পারেনি। এমনকি ১ লাখ টন তেল নিয়ে একটি জাহাজ দীর্ঘ সময় সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকে ছিল। পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে ‘এমটি নিনেমিয়া’র মাধ্যমে এই অচলাবস্থা কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, বুধবার বেলা ১১টার দিকে জাহাজটি কুতুবদিয়া বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা। সেখান থেকে লাইটারিং বা ছোট জাহাজের মাধ্যমে তেল খালাস করে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নেওয়া হবে।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার আরও ২ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে ১ লাখ টন তেল নিয়ে আরেকটি ট্যাংকার চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে, যা ২০-২১ মে’র মধ্যে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া মে মাসের শেষ দিকে বা জুনের শুরুতে সৌদি আরব থেকে আরও এক লাখ টনের একটি চালান আসার কথা রয়েছে। এই ধারাবাহিক আমদানির ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
দীর্ঘ আড়াই মাসের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে পৌঁছাচ্ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) বিশাল এক চালান। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ছেড়ে আসা অয়েল ট্যাংকার ‘এমটি নিনেমিয়া’ আজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করার কথা রয়েছে। জাহাজটি পৌঁছানোর পরপরই শুরু হবে খালাস কার্যক্রম, যা দেশের ঝিমিয়ে পড়া জ্বালানি খাতে নতুন করে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে দিচ্ছে। আমদানিকৃত এই কাঁচামালের ওপর ভিত্তি করে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড’ (ইআরএল) পুনরায় তাদের পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ক্রুড অয়েলের চরম সংকটে পড়ে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির মূল প্ল্যান্টে উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, জাহাজ থেকে তেল খালাস হয়ে ডিপোতে পৌঁছালে আগামী ৭ বা ৮ মে’র মধ্যেই রিফাইনারিটি আবারও সচল করা সম্ভব হবে। বর্তমানে কাঁচামাল না থাকায় শোধনাগারটির চারটি ইউনিটের মধ্যে তিনটিই স্থবির হয়ে আছে। ইআরএল সচল হলে এখান থেকে প্রতিদিন ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি ও উপজাত উৎপাদিত হবে, যার প্রায় ৪৫ শতাংশই হলো ডিজেল। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ জোগান দেয় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর দেশে ক্রুড অয়েলের কোনো চালান আসতে পারেনি। এমনকি ১ লাখ টন তেল নিয়ে একটি জাহাজ দীর্ঘ সময় সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকে ছিল। পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে ‘এমটি নিনেমিয়া’র মাধ্যমে এই অচলাবস্থা কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, বুধবার বেলা ১১টার দিকে জাহাজটি কুতুবদিয়া বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা। সেখান থেকে লাইটারিং বা ছোট জাহাজের মাধ্যমে তেল খালাস করে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নেওয়া হবে।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সরকার আরও ২ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে ১ লাখ টন তেল নিয়ে আরেকটি ট্যাংকার চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে, যা ২০-২১ মে’র মধ্যে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া মে মাসের শেষ দিকে বা জুনের শুরুতে সৌদি আরব থেকে আরও এক লাখ টনের একটি চালান আসার কথা রয়েছে। এই ধারাবাহিক আমদানির ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন