দীর্ঘদিন ধরে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবর বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই কূটনৈতিক অগ্রগতির খবরে বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন এবং বিশ্বের প্রধান প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর সূচক ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। বুধবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যার প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার থেকে এক ধাক্কায় ৯৭ ডলারে নেমে আসে। যদিও পরবর্তীতে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে ১০১ ডলারের আশেপাশে অবস্থান করছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি এই সম্ভাব্য সমঝোতার কেন্দ্রে রয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত কয়েক সপ্তাহের চলমান যুদ্ধের কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল এবং গ্যাসের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তেলের দাম যেখানে ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের কাছাকাছি ছিল, সংঘাতের ফলে তা আকাশচুম্বী হয়ে পড়ে। এখন শান্তির আবহ তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে।
এই ইতিবাচক খবরের ঢেউ আছড়ে পড়েছে বিশ্বের বড় বড় শেয়ারবাজারগুলোতেও। বুধবার ইউরোপের প্রধান বাজারগুলোতে লেনদেন শেষ হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে। লন্ডনের এফটিএসই ১০০, জার্মানির ড্যাক্স এবং ফ্রান্সের ক্যাক ৪০ সূচক বড় উত্থান প্রত্যক্ষ করেছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এশিয়ার বাজারগুলোতেও ছিল খুশির জোয়ার; বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৬.৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এছাড়া হংকংয়ের হ্যাং সেং এবং জাপানের নিক্কেই সূচকও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় দিন শেষ করেছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তবে অর্থনৈতিক বাজারে এই সুবাতাস বইলেও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এখনো পুরোপুরি নিষ্কণ্টক নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সমঝোতাটি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি আলোচনা কোনো কারণে ব্যর্থ হয়, তবে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, মার্কিন প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনার স্তরে রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজার আপাতত ইতিবাচক থাকলেও স্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য তেহরান ও ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব। যদি এই চুক্তি সফল হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার হাত থেকে বাঁচাতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবর বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই কূটনৈতিক অগ্রগতির খবরে বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন এবং বিশ্বের প্রধান প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর সূচক ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। বুধবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যার প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার থেকে এক ধাক্কায় ৯৭ ডলারে নেমে আসে। যদিও পরবর্তীতে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে ১০১ ডলারের আশেপাশে অবস্থান করছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি এই সম্ভাব্য সমঝোতার কেন্দ্রে রয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত কয়েক সপ্তাহের চলমান যুদ্ধের কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল এবং গ্যাসের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তেলের দাম যেখানে ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের কাছাকাছি ছিল, সংঘাতের ফলে তা আকাশচুম্বী হয়ে পড়ে। এখন শান্তির আবহ তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে।
এই ইতিবাচক খবরের ঢেউ আছড়ে পড়েছে বিশ্বের বড় বড় শেয়ারবাজারগুলোতেও। বুধবার ইউরোপের প্রধান বাজারগুলোতে লেনদেন শেষ হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে। লন্ডনের এফটিএসই ১০০, জার্মানির ড্যাক্স এবং ফ্রান্সের ক্যাক ৪০ সূচক বড় উত্থান প্রত্যক্ষ করেছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এশিয়ার বাজারগুলোতেও ছিল খুশির জোয়ার; বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৬.৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এছাড়া হংকংয়ের হ্যাং সেং এবং জাপানের নিক্কেই সূচকও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় দিন শেষ করেছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তবে অর্থনৈতিক বাজারে এই সুবাতাস বইলেও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এখনো পুরোপুরি নিষ্কণ্টক নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সমঝোতাটি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি আলোচনা কোনো কারণে ব্যর্থ হয়, তবে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ইরানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, মার্কিন প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনার স্তরে রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজার আপাতত ইতিবাচক থাকলেও স্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য তেহরান ও ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বিশ্ব। যদি এই চুক্তি সফল হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার হাত থেকে বাঁচাতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

আপনার মতামত লিখুন