লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলী আবারও ইসরাইলি বিমান হামলায় কেঁপে উঠেছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় বৈরুতের জনবহুল এক উপশহরে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়, যাতে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অত্যন্ত প্রভাবশালী ও জ্যেষ্ঠ একজন সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। সশস্ত্র গোষ্ঠীটির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিহত এই ব্যক্তির নাম মালেক বাল্লুত, যিনি হিজবুল্লাহর অভিজাত 'রাদওয়ান ফোর্স'-এর অপারেশনস কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বৈরুতের কোনো এলাকায় এটিই ইসরাইলের প্রথম বড় ধরনের সামরিক আক্রমণ, যা ওই অঞ্চলের ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে নতুন করে হুমকির মুখে ফেলেছে।
লেবাননের একটি উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা সূত্র এই হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে জানিয়েছে যে, রাদওয়ান ফোর্সের শীর্ষস্থানীয় নেতারা একটি অ্যাপার্টমেন্টে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় ইসরাইলি যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি ওই ভবনটিতে আঘাত হানে। হামলায় ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মালেক বাল্লুত প্রাণ হারান। রাদওয়ান ফোর্সকে হিজবুল্লাহর সবচেয়ে চৌকস এবং দক্ষ সামরিক ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যারা মূলত সরাসরি সম্মুখ সমরে অংশ নিতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। ফলে এই ফোর্সের অপারেশনস কমান্ডারকে হারানো হিজবুল্লাহর জন্য একটি বড় সামরিক ও কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই হামলার পরপরই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিশেষ বিবৃতিতে এর দায় স্বীকার করেছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, তিনি নিজে এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ সরাসরি এই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নেতানিয়াহুর মতে, রাদওয়ান ফোর্সের এই কমান্ডার ইসরাইলের উত্তর সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছিলেন। ইসরাইলি প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে এখনো গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে এবং যেকোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে ইসরাইল কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
মালেক বাল্লুতের নিহতের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার আশায় বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বৈরুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই ধরনের 'টার্গেটেড কিলিং' বা সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ড পুরো লেবাননজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় এমন প্রাণঘাতী হামলার ফলে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ফলে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক পাল্টা ব্যবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সীমান্ত পরিস্থিতির আবারও অবনতি ঘটাতে পারে। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে লেবানন ও ইসরাইলের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলী আবারও ইসরাইলি বিমান হামলায় কেঁপে উঠেছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় বৈরুতের জনবহুল এক উপশহরে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়, যাতে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অত্যন্ত প্রভাবশালী ও জ্যেষ্ঠ একজন সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। সশস্ত্র গোষ্ঠীটির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিহত এই ব্যক্তির নাম মালেক বাল্লুত, যিনি হিজবুল্লাহর অভিজাত 'রাদওয়ান ফোর্স'-এর অপারেশনস কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বৈরুতের কোনো এলাকায় এটিই ইসরাইলের প্রথম বড় ধরনের সামরিক আক্রমণ, যা ওই অঞ্চলের ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে নতুন করে হুমকির মুখে ফেলেছে।
লেবাননের একটি উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা সূত্র এই হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে জানিয়েছে যে, রাদওয়ান ফোর্সের শীর্ষস্থানীয় নেতারা একটি অ্যাপার্টমেন্টে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় ইসরাইলি যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি ওই ভবনটিতে আঘাত হানে। হামলায় ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মালেক বাল্লুত প্রাণ হারান। রাদওয়ান ফোর্সকে হিজবুল্লাহর সবচেয়ে চৌকস এবং দক্ষ সামরিক ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যারা মূলত সরাসরি সম্মুখ সমরে অংশ নিতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। ফলে এই ফোর্সের অপারেশনস কমান্ডারকে হারানো হিজবুল্লাহর জন্য একটি বড় সামরিক ও কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই হামলার পরপরই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিশেষ বিবৃতিতে এর দায় স্বীকার করেছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, তিনি নিজে এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ সরাসরি এই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নেতানিয়াহুর মতে, রাদওয়ান ফোর্সের এই কমান্ডার ইসরাইলের উত্তর সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছিলেন। ইসরাইলি প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে এখনো গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে এবং যেকোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে ইসরাইল কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
মালেক বাল্লুতের নিহতের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার আশায় বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বৈরুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই ধরনের 'টার্গেটেড কিলিং' বা সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ড পুরো লেবাননজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় এমন প্রাণঘাতী হামলার ফলে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ফলে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক পাল্টা ব্যবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সীমান্ত পরিস্থিতির আবারও অবনতি ঘটাতে পারে। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে লেবানন ও ইসরাইলের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

আপনার মতামত লিখুন