দিকপাল

রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র জরুরি: অর্থমন্ত্রী


সুমাইয়া জাবির
সুমাইয়া জাবির ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : রবিবার, ১০ মে ২০২৬ | ১২:৫৩ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র জরুরি: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের উন্নয়ন শুধু রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; অর্থনীতির প্রতিটি স্তরেও গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হবে। সমাজের যেসব মানুষ এখনো মূলধারার অর্থনীতির বাইরে রয়েছেন, তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা সবার নাগালে পৌঁছে দেওয়া নাগরিক অধিকার, আর সে কারণেই সরকার “অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ”-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়নে পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রকল্প ‘রেইজ’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাঠামোর বাইরে থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাদের দক্ষতা, শ্রম ও সৃজনশীলতাকে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে অর্থনীতিতে নতুন গতি তৈরি হবে। তিনি মনে করেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী, কৃষক ও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী মানুষের ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, সরকার এখন এমন উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তুলতে চায় যেখানে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত না হলে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না বলেও জানান তিনি। পিকেএসএফের কার্যক্রমের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল মানুষের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে এবং এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে ভাবছে।

দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমির খসরু মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা পৌঁছে দিতে আগামী বাজেটে এই দুই খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের হস্তশিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শীতলপাটিসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রত্যাশিত জায়গা তৈরি করতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ হলো পরিকল্পিত বিনিয়োগ, আধুনিক ডিজাইন ও আন্তর্জাতিক মানের বিপণনের অভাব। তিনি বলেন, একটি ভালো ডিজাইন কোনো পণ্যের বাজারমূল্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিংয়ে দক্ষতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি খাত নিয়েও কথা বলেন তিনি। মিউজিক, থিয়েটার ও সৃজনশীল শিল্পকে বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব খাত আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বর্তমানে এশিয়ার অনেক দেশ অ্যামাজনের মতো বৈশ্বিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের সংস্কৃতি ও পণ্য বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশকেও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খেলাধুলাকেও অর্থনীতির একটি বড় খাত হিসেবে তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাকে কেন্দ্র করে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হয়। স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতি, বিজ্ঞাপন, সম্প্রচার ও পর্যটনের মাধ্যমে জিডিপিতে বড় অবদান রাখা সম্ভব। তবে এ খাত এখনো প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নারীদের অর্থনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে আমির খসরু বলেন, নারীরা পরিবার ও সঞ্চয় ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের আর্থিক স্বস্তি দিতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু রেখেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে। একইভাবে কৃষক কার্ডও দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ১০ মে ২০২৬


রাজনীতির পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র জরুরি: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের উন্নয়ন শুধু রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; অর্থনীতির প্রতিটি স্তরেও গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে হবে। সমাজের যেসব মানুষ এখনো মূলধারার অর্থনীতির বাইরে রয়েছেন, তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা সবার নাগালে পৌঁছে দেওয়া নাগরিক অধিকার, আর সে কারণেই সরকার “অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ”-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়নে পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রকল্প ‘রেইজ’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাঠামোর বাইরে থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাদের দক্ষতা, শ্রম ও সৃজনশীলতাকে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে অর্থনীতিতে নতুন গতি তৈরি হবে। তিনি মনে করেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী, কৃষক ও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী মানুষের ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, সরকার এখন এমন উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তুলতে চায় যেখানে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত না হলে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না বলেও জানান তিনি। পিকেএসএফের কার্যক্রমের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল মানুষের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে এবং এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে ভাবছে।

দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমির খসরু মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা পৌঁছে দিতে আগামী বাজেটে এই দুই খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের হস্তশিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শীতলপাটিসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রত্যাশিত জায়গা তৈরি করতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ হলো পরিকল্পিত বিনিয়োগ, আধুনিক ডিজাইন ও আন্তর্জাতিক মানের বিপণনের অভাব। তিনি বলেন, একটি ভালো ডিজাইন কোনো পণ্যের বাজারমূল্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিংয়ে দক্ষতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি খাত নিয়েও কথা বলেন তিনি। মিউজিক, থিয়েটার ও সৃজনশীল শিল্পকে বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এসব খাত আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বর্তমানে এশিয়ার অনেক দেশ অ্যামাজনের মতো বৈশ্বিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের সংস্কৃতি ও পণ্য বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশকেও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খেলাধুলাকেও অর্থনীতির একটি বড় খাত হিসেবে তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাকে কেন্দ্র করে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হয়। স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতি, বিজ্ঞাপন, সম্প্রচার ও পর্যটনের মাধ্যমে জিডিপিতে বড় অবদান রাখা সম্ভব। তবে এ খাত এখনো প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নারীদের অর্থনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে আমির খসরু বলেন, নারীরা পরিবার ও সঞ্চয় ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের আর্থিক স্বস্তি দিতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু রেখেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে। একইভাবে কৃষক কার্ডও দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।




দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল