দিকপাল

মুন্সীগঞ্জে গরু চুরির ঘটনায় যুবলীগ নেতাসহ আটক ২


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১০ মে ২০২৬ | ০৭:৫৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

মুন্সীগঞ্জে গরু চুরির ঘটনায় যুবলীগ নেতাসহ আটক ২

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের গরু চুরির ঘটনায় স্থানীয় যুবলীগের এক নেতাসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্তদের নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তদের আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

শনিবার (৯ মে) রাতে উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকা থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন— স্থানীয় যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সোহেল (৩৭) এবং কসাই মকবুল (৩৫)। সোহেল নিষিদ্ধ কার্যক্রমে জড়িত কেয়াইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসরাফিলের ছেলে বলে জানা গেছে। অপরদিকে মকবুল উপজেলার বাসাইল এলাকার মৃত মোকলেস মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রথমে সোহেলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে হাজীগাঁও এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চোরাই গরু বিক্রির কিছু নগদ টাকা এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কসাই মকবুলকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, মকবুলের বাড়িতে থাকা একটি ফ্রিজ থেকে জবাইকৃত গরুর চারটি পা উদ্ধার করা হয়েছে, যা চুরি হওয়া গরুর অংশ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া গরু বিক্রির নগদ ৫ হাজার ৬৭৫ টাকাও জব্দ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শুসংকর মণ্ডল জানান, গত ৬ মে দুপুরে তার বাড়ির সামনে বাঁধা থাকা একটি লাল রঙের ষাঁড় গরু হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও গরুটির সন্ধান না পেয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং সেখানে কয়েকজন ব্যক্তিকে গরুটি নিয়ে যেতে দেখা যায়। ফুটেজে স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেলকেও শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এলাকায় নানা অপকর্মে জড়িত থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। তবে এবার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পাওয়ায় ঘটনাটি দ্রুত আলোচনায় আসে এবং প্রশাসনও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।

সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গরু চুরি ও জবাইয়ের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু পরিবারের সম্পদ টার্গেট করে সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন অনেকে।

বিষয় : মুন্সীগঞ্জে যুবলীগ গরু চুরি

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ১০ মে ২০২৬


মুন্সীগঞ্জে গরু চুরির ঘটনায় যুবলীগ নেতাসহ আটক ২

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের গরু চুরির ঘটনায় স্থানীয় যুবলীগের এক নেতাসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্তদের নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তদের আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

শনিবার (৯ মে) রাতে উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকা থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন— স্থানীয় যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সোহেল (৩৭) এবং কসাই মকবুল (৩৫)। সোহেল নিষিদ্ধ কার্যক্রমে জড়িত কেয়াইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসরাফিলের ছেলে বলে জানা গেছে। অপরদিকে মকবুল উপজেলার বাসাইল এলাকার মৃত মোকলেস মিয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রথমে সোহেলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে হাজীগাঁও এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চোরাই গরু বিক্রির কিছু নগদ টাকা এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কসাই মকবুলকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, মকবুলের বাড়িতে থাকা একটি ফ্রিজ থেকে জবাইকৃত গরুর চারটি পা উদ্ধার করা হয়েছে, যা চুরি হওয়া গরুর অংশ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া গরু বিক্রির নগদ ৫ হাজার ৬৭৫ টাকাও জব্দ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শুসংকর মণ্ডল জানান, গত ৬ মে দুপুরে তার বাড়ির সামনে বাঁধা থাকা একটি লাল রঙের ষাঁড় গরু হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও গরুটির সন্ধান না পেয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং সেখানে কয়েকজন ব্যক্তিকে গরুটি নিয়ে যেতে দেখা যায়। ফুটেজে স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেলকেও শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এলাকায় নানা অপকর্মে জড়িত থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। তবে এবার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পাওয়ায় ঘটনাটি দ্রুত আলোচনায় আসে এবং প্রশাসনও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।

সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গরু চুরি ও জবাইয়ের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু পরিবারের সম্পদ টার্গেট করে সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন অনেকে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল