দিকপাল

ইউনূস আমলে মতপ্রকাশে কড়াকড়ি ছিল অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ১১ মে ২০২৬ | ০৯:৩৯ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইউনূস আমলে মতপ্রকাশে কড়াকড়ি ছিল অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশে মতপ্রকাশ, সংগঠন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর অপ্রয়োজনীয় ও উদ্বেগজনক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। সংস্থাটির মতে, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, লেখক, ব্লগার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের মত প্রকাশ করতে গিয়ে গ্রেফতার, হয়রানি এবং ভয়ভীতির মুখে পড়েছেন।

গত ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। বরং বিভিন্ন পর্যায়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সমালোচনামূলক মতকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যারা সরকারের নীতি বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন, তাদের অনেকেই আইনি চাপ, অনলাইন নজরদারি কিংবা গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন।

সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন—যা পূর্ববর্তী সরকারের সময় সমালোচকদের দমনে ব্যবহারের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল—অন্তর্বর্তী সরকারও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে। অ্যামনেস্টির ভাষ্য অনুযায়ী, আইনটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়া সত্ত্বেও তা পুরোপুরি বাতিল না করে অ্যাক্টিভিজম নিয়ন্ত্রণে প্রয়োগ করা হয়েছে।

পরে আইনটি বাতিল করে নতুন ‘সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ’ জারি করা হলেও তাতেও উদ্বেগ থেকে গেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন অধ্যাদেশে ‘অশ্লীল ভিডিও’, ‘যৌন হয়রানি’ এবং ‘সাইবার সন্ত্রাসবাদ’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সংজ্ঞা অত্যন্ত বিস্তৃত ও অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। ফলে এসব ধারার অপব্যবহারের সুযোগ থেকে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

অ্যামনেস্টি আরও জানিয়েছে, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরাও এই সময় চাপের মুখে ছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি এবং আরও কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ভিন্নমত প্রকাশের কারণে কাউকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আনা হলে তা নাগরিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত তৈরি করে। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং নাগরিক অধিকারের সুরক্ষায় আরও স্বচ্ছ ও মানবাধিকারসম্মত নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাজনৈতিক ও মানবাধিকার অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

সূত্র: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


ইউনূস আমলে মতপ্রকাশে কড়াকড়ি ছিল অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশে মতপ্রকাশ, সংগঠন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর অপ্রয়োজনীয় ও উদ্বেগজনক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। সংস্থাটির মতে, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, লেখক, ব্লগার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় বিভিন্ন ব্যক্তি নিজেদের মত প্রকাশ করতে গিয়ে গ্রেফতার, হয়রানি এবং ভয়ভীতির মুখে পড়েছেন।

গত ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। বরং বিভিন্ন পর্যায়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সমালোচনামূলক মতকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যারা সরকারের নীতি বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন, তাদের অনেকেই আইনি চাপ, অনলাইন নজরদারি কিংবা গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন।

সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন—যা পূর্ববর্তী সরকারের সময় সমালোচকদের দমনে ব্যবহারের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল—অন্তর্বর্তী সরকারও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে। অ্যামনেস্টির ভাষ্য অনুযায়ী, আইনটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়া সত্ত্বেও তা পুরোপুরি বাতিল না করে অ্যাক্টিভিজম নিয়ন্ত্রণে প্রয়োগ করা হয়েছে।

পরে আইনটি বাতিল করে নতুন ‘সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ’ জারি করা হলেও তাতেও উদ্বেগ থেকে গেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন অধ্যাদেশে ‘অশ্লীল ভিডিও’, ‘যৌন হয়রানি’ এবং ‘সাইবার সন্ত্রাসবাদ’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সংজ্ঞা অত্যন্ত বিস্তৃত ও অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। ফলে এসব ধারার অপব্যবহারের সুযোগ থেকে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

অ্যামনেস্টি আরও জানিয়েছে, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরাও এই সময় চাপের মুখে ছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি এবং আরও কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ভিন্নমত প্রকাশের কারণে কাউকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আনা হলে তা নাগরিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত তৈরি করে। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং নাগরিক অধিকারের সুরক্ষায় আরও স্বচ্ছ ও মানবাধিকারসম্মত নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাজনৈতিক ও মানবাধিকার অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

সূত্র: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল