দিকপাল

রপ্তানি পণ্যে কীটনাশক ব্যবহারে সতর্কবার্তা কৃষিমন্ত্রীর


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ | ০৩:০৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

রপ্তানি পণ্যে কীটনাশক ব্যবহারে সতর্কবার্তা কৃষিমন্ত্রীর

বাংলাদেশের সুস্বাদু ও রসালো আমের সুখ্যাতি এখন আর শুধু দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। আমসহ যেকোনো ধরনের কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করার ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যমান বিভিন্ন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা। এই ধরনের সমস্ত আমলাতান্ত্রিক ও আইনি প্রতিবন্ধকতা দূর করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তবে বিশ্ববাজারে দেশের সুনাম ধরে রাখতে এবং নিরাপদ খাদ্য রপ্তানিতে শতভাগ সাফল্য নিশ্চিত করতে হলে আম চাষে কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে চাষিদের আরও বেশি সতর্ক ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চলতি মৌসুমের আম রপ্তানি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে মন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। দেশের কৃষিপণ্যের রপ্তানি খাতে নতুন এক সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে ঢাকায় এই আম রপ্তানির জমকালো উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনস্থ ‘রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিক ই মোহামেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং আম উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্যের তালিকায় আম এখন অন্যতম শীর্ষ সম্ভাবনাময় একটি ফল। আমাদের দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণে উন্নত জাতের আম উৎপাদিত হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এখনও কাঙ্ক্ষিত বা প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। তবে বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক মানসম্মত আম উৎপাদন এবং এর রপ্তানি পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করতে মাঠ পর্যায়ে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের প্রায় আটত্রিশটি দেশে নিয়মিত আম রপ্তানি করা হচ্ছে। বিগত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে চীনের সাথে আম রপ্তানি সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং সেই চুক্তির ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যেই বিশাল চীনের বাজারে বাংলাদেশের আম যাওয়া শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও জাপানসহ বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি নতুন ও বড় দেশ বাংলাদেশের সুস্বাদু আম আমদানির জন্য তাদের প্রবল আগ্রহের কথা জানিয়েছে। কৃষিমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আম রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই ‘আম রফতানি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে অংশীজনের করণীয়’ শীর্ষক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিক ই মোহামেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে নিজের মূল্যবান বক্তব্য তুলে ধরেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান। সভায় অংশ নেওয়া দেশের শীর্ষস্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞ ও রপ্তানিকারকরা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণে যদি সরকারি সহায়তা আরও বাড়ানো যায়, তবে কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হবে। এর ফলে দেশের প্রান্তিক আম চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে সরাসরি লাভবান হবেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

অনুষ্ঠানে রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান দেশের আমের গুণগত মান নিয়ে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটির গুণাগুণের কারণে এখানকার আম অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুগন্ধযুক্ত, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা দিন দিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। যদিও আমাদের দেশে প্রায় বাহাত্তরটি বিভিন্ন জাতের আম উৎপাদিত হয়, তবে বৈশ্বিক মানদণ্ড বিবেচনা করে বর্তমানে প্রধানত সাত থেকে আটটি বিশেষ জাতের আম নিয়মিত বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে, একসময় দেশে আন্তর্জাতিক মানের আম উৎপাদনের পরিমাণ কিছুটা সীমিত ছিল, তবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সঠিক প্রশিক্ষণের কারণে বাংলাদেশের আম চাষিরা এখন বিশ্বমানের আম উৎপাদনে পুরোপুরি সক্ষমতা অর্জন করেছেন।

প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, তাদের এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় উত্তম কৃষি চর্চা বা গ্যাপ নীতি অনুসরণ করে আম চাষ পদ্ধতি, আধুনিক প্যাকিং হাউস নির্মাণ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক ও রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমের শুরুতেই সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যের বাজারে পাঁচটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও সাত টন আম রপ্তানির বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আম রপ্তানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পূর্বেই চলতি মৌসুমে প্রায় একচল্লিশ দশমিক পাঁচ মেট্রিক টন আম ইতালি, সুইডেন, কানাডা, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, লেবানন, সিঙ্গাপুর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উন্নত দেশগুলোতে সফলভাবে রপ্তানি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক রুটে বিমান ভাড়া যদি সাধারণ ও সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায় এবং কার্গো উড়োজাহাজে পর্যাপ্ত জায়গার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, তবে চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানির ক্ষেত্রে পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হতে পারে।

মূল সূত্র: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এবং কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়ানস্টপ মিডিয়া সেল।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


রপ্তানি পণ্যে কীটনাশক ব্যবহারে সতর্কবার্তা কৃষিমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের সুস্বাদু ও রসালো আমের সুখ্যাতি এখন আর শুধু দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। আমসহ যেকোনো ধরনের কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করার ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যমান বিভিন্ন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা। এই ধরনের সমস্ত আমলাতান্ত্রিক ও আইনি প্রতিবন্ধকতা দূর করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তবে বিশ্ববাজারে দেশের সুনাম ধরে রাখতে এবং নিরাপদ খাদ্য রপ্তানিতে শতভাগ সাফল্য নিশ্চিত করতে হলে আম চাষে কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে চাষিদের আরও বেশি সতর্ক ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চলতি মৌসুমের আম রপ্তানি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে মন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। দেশের কৃষিপণ্যের রপ্তানি খাতে নতুন এক সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে ঢাকায় এই আম রপ্তানির জমকালো উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনস্থ ‘রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিক ই মোহামেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং আম উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্যের তালিকায় আম এখন অন্যতম শীর্ষ সম্ভাবনাময় একটি ফল। আমাদের দেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণে উন্নত জাতের আম উৎপাদিত হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এখনও কাঙ্ক্ষিত বা প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। তবে বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক মানসম্মত আম উৎপাদন এবং এর রপ্তানি পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করতে মাঠ পর্যায়ে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হচ্ছে।

তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের প্রায় আটত্রিশটি দেশে নিয়মিত আম রপ্তানি করা হচ্ছে। বিগত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে চীনের সাথে আম রপ্তানি সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং সেই চুক্তির ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যেই বিশাল চীনের বাজারে বাংলাদেশের আম যাওয়া শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও জাপানসহ বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি নতুন ও বড় দেশ বাংলাদেশের সুস্বাদু আম আমদানির জন্য তাদের প্রবল আগ্রহের কথা জানিয়েছে। কৃষিমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আম রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই ‘আম রফতানি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে অংশীজনের করণীয়’ শীর্ষক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উন্মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিক ই মোহামেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে নিজের মূল্যবান বক্তব্য তুলে ধরেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান। সভায় অংশ নেওয়া দেশের শীর্ষস্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞ ও রপ্তানিকারকরা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণে যদি সরকারি সহায়তা আরও বাড়ানো যায়, তবে কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হবে। এর ফলে দেশের প্রান্তিক আম চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে সরাসরি লাভবান হবেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

অনুষ্ঠানে রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান দেশের আমের গুণগত মান নিয়ে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটির গুণাগুণের কারণে এখানকার আম অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুগন্ধযুক্ত, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা দিন দিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। যদিও আমাদের দেশে প্রায় বাহাত্তরটি বিভিন্ন জাতের আম উৎপাদিত হয়, তবে বৈশ্বিক মানদণ্ড বিবেচনা করে বর্তমানে প্রধানত সাত থেকে আটটি বিশেষ জাতের আম নিয়মিত বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে, একসময় দেশে আন্তর্জাতিক মানের আম উৎপাদনের পরিমাণ কিছুটা সীমিত ছিল, তবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সঠিক প্রশিক্ষণের কারণে বাংলাদেশের আম চাষিরা এখন বিশ্বমানের আম উৎপাদনে পুরোপুরি সক্ষমতা অর্জন করেছেন।

প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, তাদের এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় উত্তম কৃষি চর্চা বা গ্যাপ নীতি অনুসরণ করে আম চাষ পদ্ধতি, আধুনিক প্যাকিং হাউস নির্মাণ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক ও রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমের শুরুতেই সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্যের বাজারে পাঁচটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও সাত টন আম রপ্তানির বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আম রপ্তানির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পূর্বেই চলতি মৌসুমে প্রায় একচল্লিশ দশমিক পাঁচ মেট্রিক টন আম ইতালি, সুইডেন, কানাডা, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, লেবানন, সিঙ্গাপুর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উন্নত দেশগুলোতে সফলভাবে রপ্তানি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক রুটে বিমান ভাড়া যদি সাধারণ ও সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায় এবং কার্গো উড়োজাহাজে পর্যাপ্ত জায়গার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, তবে চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানির ক্ষেত্রে পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হতে পারে।

মূল সূত্র: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এবং কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়ানস্টপ মিডিয়া সেল।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল