দিকপাল

গাজীপুরে নতুন গ্যাসকূপ খনন শুরু, জ্বালানি স্বনির্ভরতার পথে সরকার: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ২০ মে ২০২৬ | ০৪:৪৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরে নতুন গ্যাসকূপ খনন শুরু, জ্বালানি স্বনির্ভরতার পথে সরকার: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য

দেশের চলমান তীব্র গ্যাস সংকট দূর করতে এবং জ্বালানি খাতে ক্ষতিকর আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব গ্যাস উৎপাদনে স্বাবলম্বী হতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। নতুন কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে কামতা-২ এবং তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের তিনটিসহ মোট চারটি নতুন কূপের খনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কামতা গ্যাস ফিল্ডে একটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব আশাব্যঞ্জক তথ্য জানান। এই নতুন ৪টি কূপের সফল খনন ও গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে আগামী বছরের জুনের মধ্যেই দৈনিক অন্তত ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


প্রতিমন্ত্রী দেশের শিল্প খাতের স্থবিরতা কাটাতে এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নতুন এই গ্যাস যখন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, তখন দেশে গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে উৎপাদনে যেতে না পারা বা বন্ধ হয়ে থাকা কলকারখানাগুলোকে আমরা পুনরায় পূর্ণ শক্তিতে সচল করতে পারব। এর মাধ্যমে দেশের হাজার হাজার বেকার মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া মূল্যে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার ওপর যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, তাও অনেকাংশে কমে আসবে। এই বৃহৎ প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশের সর্বস্তরের জনগণকে এই স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে, বাংলাদেশ এখন থেকে ক্রমান্বয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বাবলম্বী হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের মূল ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ ও শিল্প মালিকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে সরকারের এই নীতিনির্ধারক জানান, সরকার চাইলেই রাতারাতি অতিরিক্ত গ্যাস আমদানি করতে পারছে না, কারণ বর্তমানের বিদ্যমান অবকাঠামো বা ধারণক্ষমতা সেই অতিরিক্ত গ্যাস গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় যেমন তাৎক্ষণিক সংকটগুলোর কার্যকর সমাধান করছে, তেমনি মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখাও প্রস্তুত করছে। এর ফলে দেশের শিল্প খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা বড় ধরনের আইনি ও কারিগরি গতিশীলতা পাবে।


এদিকে সাধারণ মানুষের বহুল আলোচিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বা দাম সমন্বয়ের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থির পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাই বিদ্যুৎ বা জ্বালানির দাম আগামী দিনে বাড়বে নাকি কমবে, তা এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। এছাড়া আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকা পরিষ্কার করে জানান, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকারের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং ভারী শিল্প কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। এর পরেই সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। উক্ত খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি পেট্রোবাংলার সম্মানিত চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান, বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামানিক এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিনসহ জ্বালানি খাতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


গাজীপুরে নতুন গ্যাসকূপ খনন শুরু, জ্বালানি স্বনির্ভরতার পথে সরকার: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

দেশের চলমান তীব্র গ্যাস সংকট দূর করতে এবং জ্বালানি খাতে ক্ষতিকর আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব গ্যাস উৎপাদনে স্বাবলম্বী হতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। নতুন কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে কামতা-২ এবং তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের তিনটিসহ মোট চারটি নতুন কূপের খনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কামতা গ্যাস ফিল্ডে একটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব আশাব্যঞ্জক তথ্য জানান। এই নতুন ৪টি কূপের সফল খনন ও গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে আগামী বছরের জুনের মধ্যেই দৈনিক অন্তত ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


প্রতিমন্ত্রী দেশের শিল্প খাতের স্থবিরতা কাটাতে এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নতুন এই গ্যাস যখন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, তখন দেশে গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে উৎপাদনে যেতে না পারা বা বন্ধ হয়ে থাকা কলকারখানাগুলোকে আমরা পুনরায় পূর্ণ শক্তিতে সচল করতে পারব। এর মাধ্যমে দেশের হাজার হাজার বেকার মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া মূল্যে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার ওপর যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, তাও অনেকাংশে কমে আসবে। এই বৃহৎ প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশের সর্বস্তরের জনগণকে এই স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে, বাংলাদেশ এখন থেকে ক্রমান্বয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বাবলম্বী হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের মূল ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ ও শিল্প মালিকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে সরকারের এই নীতিনির্ধারক জানান, সরকার চাইলেই রাতারাতি অতিরিক্ত গ্যাস আমদানি করতে পারছে না, কারণ বর্তমানের বিদ্যমান অবকাঠামো বা ধারণক্ষমতা সেই অতিরিক্ত গ্যাস গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় যেমন তাৎক্ষণিক সংকটগুলোর কার্যকর সমাধান করছে, তেমনি মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখাও প্রস্তুত করছে। এর ফলে দেশের শিল্প খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা বড় ধরনের আইনি ও কারিগরি গতিশীলতা পাবে।


এদিকে সাধারণ মানুষের বহুল আলোচিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বা দাম সমন্বয়ের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থির পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাই বিদ্যুৎ বা জ্বালানির দাম আগামী দিনে বাড়বে নাকি কমবে, তা এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। এছাড়া আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকা পরিষ্কার করে জানান, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকারের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং ভারী শিল্প কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। এর পরেই সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। উক্ত খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি পেট্রোবাংলার সম্মানিত চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান, বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামানিক এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিনসহ জ্বালানি খাতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল