দিকপাল

পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের নিরাপদ নিয়মগুলো জেনে নিন

অজান্তেই শরীরে ঢুকছে জীবাণু!


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৪:০৪ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

অজান্তেই শরীরে ঢুকছে জীবাণু!

ব্যস্ততম নাগরিক জীবনে কাজের প্রয়োজনে দিনের একটা বড় সময় আমাদের ঘরের বাইরে কাটাতে হয়। দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার ফলে অনেক সময়ই পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তবে এই সাধারণ প্রয়োজনীয়তাটিই বিশেষ করে নারীদের জন্য এক মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অস্বাস্থ্যকর পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের ফলে নারীদের মধ্যে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই-এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজির এক গবেষণায় উঠে এসেছে পিলে চমকানো তথ্য। তাদের মতে, পাবলিক টয়লেটের সিট এবং সেখানে থাকা সাবানে প্রায় ৭৭ হাজারেরও বেশি ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের উপস্থিতি থাকতে পারে। যদিও এই গবেষণাটি আমেরিকার প্রেক্ষাপটে করা হয়েছে, তবুও আমাদের দেশের পাবলিক টয়লেটগুলোর চিত্র বিবেচনা করলে এই ঝুঁকি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তাই বাইরে টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ সতর্কতা মেনে চলা এখন সময়ের দাবি।

নিরাপদ থাকতে পাবলিক টয়লেটের ভেতরে যেকোনো স্থানে সরাসরি হাত না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে দরজার হাতল বা লকে হাত দেওয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। তাই ব্যাগে সবসময় পর্যাপ্ত টিস্যু এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা জরুরি। অনেক সময় আমরা আমাদের ব্যাগ বা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র টয়লেটের মেঝেতে রেখে দিই, যা একেবারেই অনুচিত। কারণ মেঝেই হলো জীবাণুর প্রধান চারণভূমি। কোনো জিনিস হাতে রাখা সম্ভব না হলে সেটি দেয়ালে থাকা হুকে ঝুলিয়ে রাখুন।

টয়লেটে প্রবেশ করার পর এবং ব্যবহারের আগে অবশ্যই একবার ফ্ল্যাশ করে নেওয়া উচিত। এতে আগে থেকে জমে থাকা ময়লা বা সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া সরে যাওয়ার সুযোগ পায়। এছাড়া সরাসরি টয়লেট সিটে না বসে তা ব্যবহারের আগে ভালো করে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। বর্তমানে বাজারে এবং অনলাইন শপগুলোতে ছোট স্প্রে আকারে ‘টয়লেট সিট ডিজইনফেক্টর’ কিনতে পাওয়া যায়। ব্যাগে সবসময় এই স্প্রেটি রাখা আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সবশেষে, কাজ শেষ করে টয়লেট থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সাবান বা লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। শুধু বাইরে নয়, বাড়িতেও এই অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। মনে রাখবেন, একটু সচেতনতা এবং সামান্য কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্তি দিতে পারে। সুস্থ থাকার জন্য ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


অজান্তেই শরীরে ঢুকছে জীবাণু!

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ব্যস্ততম নাগরিক জীবনে কাজের প্রয়োজনে দিনের একটা বড় সময় আমাদের ঘরের বাইরে কাটাতে হয়। দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার ফলে অনেক সময়ই পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তবে এই সাধারণ প্রয়োজনীয়তাটিই বিশেষ করে নারীদের জন্য এক মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অস্বাস্থ্যকর পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের ফলে নারীদের মধ্যে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই-এর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজির এক গবেষণায় উঠে এসেছে পিলে চমকানো তথ্য। তাদের মতে, পাবলিক টয়লেটের সিট এবং সেখানে থাকা সাবানে প্রায় ৭৭ হাজারেরও বেশি ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের উপস্থিতি থাকতে পারে। যদিও এই গবেষণাটি আমেরিকার প্রেক্ষাপটে করা হয়েছে, তবুও আমাদের দেশের পাবলিক টয়লেটগুলোর চিত্র বিবেচনা করলে এই ঝুঁকি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তাই বাইরে টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ সতর্কতা মেনে চলা এখন সময়ের দাবি।

নিরাপদ থাকতে পাবলিক টয়লেটের ভেতরে যেকোনো স্থানে সরাসরি হাত না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে দরজার হাতল বা লকে হাত দেওয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। তাই ব্যাগে সবসময় পর্যাপ্ত টিস্যু এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা জরুরি। অনেক সময় আমরা আমাদের ব্যাগ বা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র টয়লেটের মেঝেতে রেখে দিই, যা একেবারেই অনুচিত। কারণ মেঝেই হলো জীবাণুর প্রধান চারণভূমি। কোনো জিনিস হাতে রাখা সম্ভব না হলে সেটি দেয়ালে থাকা হুকে ঝুলিয়ে রাখুন।

টয়লেটে প্রবেশ করার পর এবং ব্যবহারের আগে অবশ্যই একবার ফ্ল্যাশ করে নেওয়া উচিত। এতে আগে থেকে জমে থাকা ময়লা বা সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া সরে যাওয়ার সুযোগ পায়। এছাড়া সরাসরি টয়লেট সিটে না বসে তা ব্যবহারের আগে ভালো করে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। বর্তমানে বাজারে এবং অনলাইন শপগুলোতে ছোট স্প্রে আকারে ‘টয়লেট সিট ডিজইনফেক্টর’ কিনতে পাওয়া যায়। ব্যাগে সবসময় এই স্প্রেটি রাখা আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সবশেষে, কাজ শেষ করে টয়লেট থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই সাবান বা লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। শুধু বাইরে নয়, বাড়িতেও এই অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। মনে রাখবেন, একটু সচেতনতা এবং সামান্য কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্তি দিতে পারে। সুস্থ থাকার জন্য ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল