বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করার আগেই যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ বা সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সময় থাকতেই বেরিয়ে আসা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, অন্যথায় ভবিষ্যতে এসব সম্পদ বিক্রি করা বা পুঁজি ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। গালিবাফের এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
গালিবাফের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নীতিতে বর্তমানে এমন কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে যা বড় ধরনের সম্পদ বিক্রি ঠেকানোর জন্য তৈরি। এর ফলে অনেক বড় বিনিয়োগকারী চাইলেও এখন তাদের পুরো সম্পদ একবারে বাজারে ছাড়তে পারছেন না, বরং নিয়ন্ত্রিত উপায়ে সীমিত আকারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পেলে এই সীমিত সুযোগটুকুও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিষয়টিকে অত্যন্ত ‘সময় সংবেদনশীল’ অভিহিত করে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
ইরানের এই শীর্ষ আইনপ্রণেতা আরও দাবি করেন, মার্কিন প্রশাসন বর্তমানে তাদের বন্ড বাজার স্থিতিশীল রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সতর্ক অবস্থানে আছে, কারণ সুদের হারে সামান্য বিচ্যুতিও বাজারে বড় ধরনের ধস নামাতে পারে। মার্কিন অর্থনীতির এই ভঙ্গুর দশাকে তিনি আসন্ন সংকটের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে গালিবাফ উল্লেখ করেন যে, মার্কিন প্রশাসন এখন তাদের মিত্র দেশগুলোকে আর্থিক বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে 'কারেন্সি সোয়াপ' বা মুদ্রার বিনিময় ব্যবস্থার মতো বিকল্প পথ খুঁজছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন, যারা মূলত ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতির দায় সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপিয়েছে। পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের ডামাডোল আরও গভীর হলে নিজেদের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে আমিরাত সরকার ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি আর্থিক সুরক্ষা বলয় তৈরির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। ভূ-রাজনৈতিক এই অস্থিরতার মাঝে গালিবাফের এই সতর্কবার্তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক মেরুকরণের জল্পনা উসকে দিয়েছে।
সূত্র: ইরনা, নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করার আগেই যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ বা সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সময় থাকতেই বেরিয়ে আসা বুদ্ধিমানের কাজ হবে, অন্যথায় ভবিষ্যতে এসব সম্পদ বিক্রি করা বা পুঁজি ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। গালিবাফের এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
গালিবাফের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নীতিতে বর্তমানে এমন কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে যা বড় ধরনের সম্পদ বিক্রি ঠেকানোর জন্য তৈরি। এর ফলে অনেক বড় বিনিয়োগকারী চাইলেও এখন তাদের পুরো সম্পদ একবারে বাজারে ছাড়তে পারছেন না, বরং নিয়ন্ত্রিত উপায়ে সীমিত আকারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পেলে এই সীমিত সুযোগটুকুও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিষয়টিকে অত্যন্ত ‘সময় সংবেদনশীল’ অভিহিত করে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
ইরানের এই শীর্ষ আইনপ্রণেতা আরও দাবি করেন, মার্কিন প্রশাসন বর্তমানে তাদের বন্ড বাজার স্থিতিশীল রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সতর্ক অবস্থানে আছে, কারণ সুদের হারে সামান্য বিচ্যুতিও বাজারে বড় ধরনের ধস নামাতে পারে। মার্কিন অর্থনীতির এই ভঙ্গুর দশাকে তিনি আসন্ন সংকটের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে গালিবাফ উল্লেখ করেন যে, মার্কিন প্রশাসন এখন তাদের মিত্র দেশগুলোকে আর্থিক বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে 'কারেন্সি সোয়াপ' বা মুদ্রার বিনিময় ব্যবস্থার মতো বিকল্প পথ খুঁজছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন, যারা মূলত ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতির দায় সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপিয়েছে। পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের ডামাডোল আরও গভীর হলে নিজেদের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে আমিরাত সরকার ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি আর্থিক সুরক্ষা বলয় তৈরির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। ভূ-রাজনৈতিক এই অস্থিরতার মাঝে গালিবাফের এই সতর্কবার্তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক মেরুকরণের জল্পনা উসকে দিয়েছে।
সূত্র: ইরনা, নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

আপনার মতামত লিখুন