বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম সমন্বয়ের পর এবার তার প্রভাব পড়ল গণপরিবহন খাতে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাসের বর্ধিত ভাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ইতোমধ্যে নতুন ভাড়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে এবং প্রতিটি বাসে এই ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিআরটিএ-এর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের সবকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ভাড়ার পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। গাবতলী টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসগুলোর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী ৫১ আসনের বাসের ভাড়া ১ হাজার ৫ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসের ভাড়া ১ হাজার ২৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলা রংপুর ও দিনাজপুরের ক্ষেত্রেও ভাড়ার নতুন স্তর কার্যকর করেছে প্রশাসন।
রাজধানীর সায়েদাবাদ ও মহাখালী রুটেও যাতায়াত খরচ আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। নতুন তালিকা অনুসারে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ৫১ আসনের বাসের ভাড়া এখন ৭০৪ টাকা এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজার রুটে ৯০০ টাকা গুনতে হবে যাত্রীদের। দেশের দীর্ঘতম রুট হিসেবে পরিচিত সায়েদাবাদ থেকে টেকনাফ রুটে ৪০ আসনের বাসের ভাড়া এখন ১ হাজার ৩৩৫ টাকা। এছাড়া গাবতলী থেকে রাজশাহী ও মেহেরপুর রুটে ৪০ আসনের বাসের ভাড়া ৯০০ টাকার ঘর ছাড়িয়েছে, যা সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয়ে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা শুরু হয় গত ১৮ এপ্রিল থেকে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতার দোহাই দিয়ে প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা, কেরোসিনে ১৮ টাকা এবং অকটেন ও পেট্রোলে যথাক্রমে ২০ ও ১৯ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়। জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পরপরই পরিবহন মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর জোরালো দাবি জানান, যার প্রেক্ষিতে সরকার এই নতুন ভাড়া চূড়ান্ত করে।
এদিকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় রুখতে বিআরটিএ-এর পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আজ সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনালে বিআরটিএ-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনের তদারকি টিম সক্রিয় রয়েছে। কোনো পরিবহন কোম্পানি সরকার নির্ধারিত তালিকার বাইরে বাড়তি ভাড়া আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যাতায়াতে বাড়তি খরচের চাপে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা একে বর্তমান পরিস্থিতির অনিবার্য ফল বলে দাবি করছেন।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম সমন্বয়ের পর এবার তার প্রভাব পড়ল গণপরিবহন খাতে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাসের বর্ধিত ভাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ইতোমধ্যে নতুন ভাড়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে এবং প্রতিটি বাসে এই ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিআরটিএ-এর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের সবকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ভাড়ার পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। গাবতলী টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসগুলোর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী ৫১ আসনের বাসের ভাড়া ১ হাজার ৫ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসের ভাড়া ১ হাজার ২৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলা রংপুর ও দিনাজপুরের ক্ষেত্রেও ভাড়ার নতুন স্তর কার্যকর করেছে প্রশাসন।
রাজধানীর সায়েদাবাদ ও মহাখালী রুটেও যাতায়াত খরচ আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। নতুন তালিকা অনুসারে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ৫১ আসনের বাসের ভাড়া এখন ৭০৪ টাকা এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজার রুটে ৯০০ টাকা গুনতে হবে যাত্রীদের। দেশের দীর্ঘতম রুট হিসেবে পরিচিত সায়েদাবাদ থেকে টেকনাফ রুটে ৪০ আসনের বাসের ভাড়া এখন ১ হাজার ৩৩৫ টাকা। এছাড়া গাবতলী থেকে রাজশাহী ও মেহেরপুর রুটে ৪০ আসনের বাসের ভাড়া ৯০০ টাকার ঘর ছাড়িয়েছে, যা সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয়ে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা শুরু হয় গত ১৮ এপ্রিল থেকে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতার দোহাই দিয়ে প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা, কেরোসিনে ১৮ টাকা এবং অকটেন ও পেট্রোলে যথাক্রমে ২০ ও ১৯ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়। জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পরপরই পরিবহন মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর জোরালো দাবি জানান, যার প্রেক্ষিতে সরকার এই নতুন ভাড়া চূড়ান্ত করে।
এদিকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় রুখতে বিআরটিএ-এর পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আজ সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনালে বিআরটিএ-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনের তদারকি টিম সক্রিয় রয়েছে। কোনো পরিবহন কোম্পানি সরকার নির্ধারিত তালিকার বাইরে বাড়তি ভাড়া আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যাতায়াতে বাড়তি খরচের চাপে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা একে বর্তমান পরিস্থিতির অনিবার্য ফল বলে দাবি করছেন।

আপনার মতামত লিখুন