বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা টেকসই করতে টেলিকম, ডাটা ও সাইবার সিকিউরিটি বিল ২০২৬-এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে এই নীতিমালায় যদি ভারসাম্যহীনতা, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কিংবা ডাটা সুরক্ষায় কোনো দুর্বলতা থেকে যায়, তবে দেশের উদীয়মান ডিজিটাল অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনরা। সম্প্রতি রাজধানীর বনানী ক্লাবে বাংলাদেশ আইসিটি স্টেকহোল্ডারস অ্যালায়েন্স (বিসা) আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আলিমের সভাপতিত্বে এবং উপদেষ্টা মো. শামীম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সংলাপে সরকারি নীতিনির্ধারক, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তারা অংশ নিয়ে বর্তমান বাস্তবতায় প্রস্তাবিত বিলগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিসা-র উপদেষ্টা মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সংলাপে বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন যে, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা বা ডাটা প্রাইভেসি নিশ্চিত করা না গেলে এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ধরে রাখা সম্ভব হবে না। অস্পষ্ট নীতিমালা ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ নতুন স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে। ড. আব্দুল মঈন খান তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ডিজিটাল খাতকে শক্তিশালী করতে হলে নীতিমালাকে অবশ্যই স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বাস্তবসম্মত হতে হবে; অন্যথায় এটি উন্নয়নের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নীতি প্রণয়নে স্টেকহোল্ডারদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিসা-র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাক্য-র পরিচালক সায়মা শওকত, ফেলেসিটি আইটিসি-র সিইও শরিফুল আলম এবং চালডাল-এর জিয়া আশরাফসহ আরও অনেক উদ্যোক্তা তাদের মতামত তুলে ধরেন। সংলাপ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে আসে, যার মধ্যে রয়েছে ডাটা সুরক্ষা আইনকে আন্তর্জাতিক মানের করা এবং টেলিকম ও সাইবার আইনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। এছাড়া যেকোনো নতুন আইন চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাধ্যতামূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া চালু রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর জটিলতা। এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করতে পারলে বাংলাদেশ ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু ভুল বা একপেশে নীতি পুরো ইকোসিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই দ্রুত একটি অংশগ্রহণমূলক এবং আধুনিক ডিজিটাল নীতি প্রণয়নের জন্য তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সূত্র: বাংলাদেশ আইসিটি স্টেকহোল্ডারস অ্যালায়েন্স (বিসা) প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা টেকসই করতে টেলিকম, ডাটা ও সাইবার সিকিউরিটি বিল ২০২৬-এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে এই নীতিমালায় যদি ভারসাম্যহীনতা, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কিংবা ডাটা সুরক্ষায় কোনো দুর্বলতা থেকে যায়, তবে দেশের উদীয়মান ডিজিটাল অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনরা। সম্প্রতি রাজধানীর বনানী ক্লাবে বাংলাদেশ আইসিটি স্টেকহোল্ডারস অ্যালায়েন্স (বিসা) আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আলিমের সভাপতিত্বে এবং উপদেষ্টা মো. শামীম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সংলাপে সরকারি নীতিনির্ধারক, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তারা অংশ নিয়ে বর্তমান বাস্তবতায় প্রস্তাবিত বিলগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিসা-র উপদেষ্টা মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সংলাপে বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন যে, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা বা ডাটা প্রাইভেসি নিশ্চিত করা না গেলে এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ধরে রাখা সম্ভব হবে না। অস্পষ্ট নীতিমালা ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ নতুন স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে। ড. আব্দুল মঈন খান তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ডিজিটাল খাতকে শক্তিশালী করতে হলে নীতিমালাকে অবশ্যই স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বাস্তবসম্মত হতে হবে; অন্যথায় এটি উন্নয়নের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নীতি প্রণয়নে স্টেকহোল্ডারদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিসা-র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাক্য-র পরিচালক সায়মা শওকত, ফেলেসিটি আইটিসি-র সিইও শরিফুল আলম এবং চালডাল-এর জিয়া আশরাফসহ আরও অনেক উদ্যোক্তা তাদের মতামত তুলে ধরেন। সংলাপ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে আসে, যার মধ্যে রয়েছে ডাটা সুরক্ষা আইনকে আন্তর্জাতিক মানের করা এবং টেলিকম ও সাইবার আইনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। এছাড়া যেকোনো নতুন আইন চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাধ্যতামূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া চালু রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর জটিলতা। এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করতে পারলে বাংলাদেশ ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু ভুল বা একপেশে নীতি পুরো ইকোসিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই দ্রুত একটি অংশগ্রহণমূলক এবং আধুনিক ডিজিটাল নীতি প্রণয়নের জন্য তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সূত্র: বাংলাদেশ আইসিটি স্টেকহোল্ডারস অ্যালায়েন্স (বিসা) প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপনার মতামত লিখুন