দিকপাল

হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা: ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব নিশ্চিতের দাবি


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৩:২৪ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা: ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব নিশ্চিতের দাবি

সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও, ওষুধ বিপণন কর্মকর্তাদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতির কারণে অনেক সময় রোগীদের স্বাভাবিক সেবা গ্রহণ ও চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সুশৃঙ্খল বিপণন ব্যবস্থার অভাব কীভাবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চিকিৎসক ও বিপণন কর্মকর্তাদের মধ্যকার পেশাগত যোগাযোগ একটি স্বীকৃত প্রক্রিয়া হলেও, তা যদি হাসপাতালের কর্মঘণ্টা বা রোগীর ব্যক্তিগত পরিসরে বিঘ্ন ঘটায়, তবে তা সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সরেজমিন চিত্র বলছে, সরকারি নিয়মানুযায়ী সপ্তাহে নির্দিষ্ট দু’দিন দুপুরের পর চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিধান থাকলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে বিপণন কর্মকর্তাদের ভিড় সাধারণ রোগীদের চলাচলে বাধার সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে, চিকিৎসক দেখিয়ে বের হওয়ার পর রোগীর প্রেসক্রিপশনটি দেখার বা স্মার্টফোনে ছবি তোলার যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, তা অসুস্থ রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। এটি কেবল রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তাই ক্ষুণ্ন করে না, বরং হাসপাতালের সামগ্রিক শৃঙ্খলাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। নিরাপত্তারক্ষীদের নজরদারির অভাব এবং প্রশাসনিক শিথিলতার সুযোগে এই কার্যক্রমটি অনেক সময় বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়, ফলে নারী ও বয়স্ক রোগীরা প্রায়ই অপ্রস্তুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হন।

এই সমস্যার সমাধানে কেবল সাময়িক অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও প্রযুক্তিগত উদ্যোগ। চিকিৎসকদের সাথে আলোচনার জন্য হাসপাতালের মূল সেবাকেন্দ্রের বাইরে নির্দিষ্ট কক্ষ বা জোনের ব্যবস্থা করা এবং নির্ধারিত সময়ের বাইরে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলার প্রাচীন ও বিশৃঙ্খল পদ্ধতির পরিবর্তে কোম্পানিগুলো ডিজিটাল ডাটাবেজ ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের বিপণন বিশ্লেষণ করতে পারে। হাসপাতালে প্রবেশকারী প্রত্যেক বিপণন কর্মকর্তার জন্য নির্দিষ্ট কিউআর কোড সম্বলিত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করলে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা আরও সহজ হবে।

মুগদা হাসপাতালের উপপরিচালকের ভাষ্যমতে, লোকবল সংকটের মাঝেও যদি নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করা হয় এবং স্টেকহোল্ডারদের সাথে নিয়মিত সমন্বয় করা হয়, তবে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন সম্ভব। হাসপাতাল হলো সেবা ও শান্তির আশ্রয়স্থল, যেখানে পেশাগত কার্যক্রমের নামে সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা ও স্বস্তি বিঘ্নিত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক এবং ওষুধ কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত দায়িত্বশীলতাই পারে সরকারি হাসপাতালের এই চিরচেনা ভোগান্তি দূর করে একটি আধুনিক ও রোগী-বান্ধব স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ নিশ্চিত করতে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা: ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব নিশ্চিতের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও, ওষুধ বিপণন কর্মকর্তাদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতির কারণে অনেক সময় রোগীদের স্বাভাবিক সেবা গ্রহণ ও চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সুশৃঙ্খল বিপণন ব্যবস্থার অভাব কীভাবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চিকিৎসক ও বিপণন কর্মকর্তাদের মধ্যকার পেশাগত যোগাযোগ একটি স্বীকৃত প্রক্রিয়া হলেও, তা যদি হাসপাতালের কর্মঘণ্টা বা রোগীর ব্যক্তিগত পরিসরে বিঘ্ন ঘটায়, তবে তা সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সরেজমিন চিত্র বলছে, সরকারি নিয়মানুযায়ী সপ্তাহে নির্দিষ্ট দু’দিন দুপুরের পর চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিধান থাকলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে বিপণন কর্মকর্তাদের ভিড় সাধারণ রোগীদের চলাচলে বাধার সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে, চিকিৎসক দেখিয়ে বের হওয়ার পর রোগীর প্রেসক্রিপশনটি দেখার বা স্মার্টফোনে ছবি তোলার যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, তা অসুস্থ রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। এটি কেবল রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তাই ক্ষুণ্ন করে না, বরং হাসপাতালের সামগ্রিক শৃঙ্খলাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। নিরাপত্তারক্ষীদের নজরদারির অভাব এবং প্রশাসনিক শিথিলতার সুযোগে এই কার্যক্রমটি অনেক সময় বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়, ফলে নারী ও বয়স্ক রোগীরা প্রায়ই অপ্রস্তুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হন।

এই সমস্যার সমাধানে কেবল সাময়িক অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও প্রযুক্তিগত উদ্যোগ। চিকিৎসকদের সাথে আলোচনার জন্য হাসপাতালের মূল সেবাকেন্দ্রের বাইরে নির্দিষ্ট কক্ষ বা জোনের ব্যবস্থা করা এবং নির্ধারিত সময়ের বাইরে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলার প্রাচীন ও বিশৃঙ্খল পদ্ধতির পরিবর্তে কোম্পানিগুলো ডিজিটাল ডাটাবেজ ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের বিপণন বিশ্লেষণ করতে পারে। হাসপাতালে প্রবেশকারী প্রত্যেক বিপণন কর্মকর্তার জন্য নির্দিষ্ট কিউআর কোড সম্বলিত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করলে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা আরও সহজ হবে।

মুগদা হাসপাতালের উপপরিচালকের ভাষ্যমতে, লোকবল সংকটের মাঝেও যদি নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করা হয় এবং স্টেকহোল্ডারদের সাথে নিয়মিত সমন্বয় করা হয়, তবে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন সম্ভব। হাসপাতাল হলো সেবা ও শান্তির আশ্রয়স্থল, যেখানে পেশাগত কার্যক্রমের নামে সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা ও স্বস্তি বিঘ্নিত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক এবং ওষুধ কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত দায়িত্বশীলতাই পারে সরকারি হাসপাতালের এই চিরচেনা ভোগান্তি দূর করে একটি আধুনিক ও রোগী-বান্ধব স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ নিশ্চিত করতে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল