ডিজিটাল যুগে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে এক নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে বিভিন্ন রাষ্ট্র। সাইবার বুলিং, আসক্তি এবং মানসিক উদ্বেগের মতো ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক দেশই অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ বা পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটছে। ২০২৫ সালের শেষভাগে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে এই ধারার সূচনা করে। বর্তমানে ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশই অস্ট্রেলিয়ার সেই কঠোর নীতি অনুসরণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার এই ঐতিহাসিক আইনের আওতায় হোয়াটসঅ্যাপ বা ইউটিউব কিডসের মতো শিক্ষামূলক অ্যাপগুলো ছাড় পেলেও মূল ধারার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। দেশটির সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কোনো প্ল্যাটফর্ম যদি বয়স যাচাইয়ের এই নিয়ম লঙ্ঘন করে, তবে তাদের বড় অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপের পর ইউরোপের দেশগুলোও নড়েচড়ে বসেছে। ফ্রান্স ইতোমধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ওপর বিল পাস করেছে, যা শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম থেকে সুরক্ষা দেবে বলে মনে করছেন দেশটির নীতিনির্ধারকরা। এছাড়া ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া ও গ্রিস তাদের নিজ নিজ দেশে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের জন্য একই ধরনের আইন কার্যকর করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিকমাধ্যম ও অনলাইন গেম ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে তুরস্কে ১৫ বছর বয়সীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিল ইতোমধ্যে পার্লামেন্টে পাস হয়েছে, যা এখন কেবল রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায়। ইউরোপের অন্যতম ক্ষমতাধর দেশ জার্মানিতেও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ডিজিটাল কড়াকড়ি নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে তীব্র আলোচনা চলছে। এমনকি যুক্তরাজ্য সরকারও অভিভাবকদের মতামত নিয়ে এই পথে হাঁটার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং অনলাইনে অচেনা মানুষের সাথে যোগাযোগের ফলে তৈরি হওয়া ঝুঁকির কারণেই দেশগুলো এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে, কেবল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ডিজিটাল বিশ্বের জটিলতাগুলো সমাধান করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, শিশুদের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না চাপিয়ে বরং অনলাইন নিরাপত্তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজা উচিত। তা সত্ত্বেও দেশগুলোর সরকার মনে করছে, শিশুদের উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা ও আসক্তি কমাতে এই মুহূর্তে কঠোর আইনি কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বজুড়ে এই ব্যাপক পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনলাইন সুরক্ষার বিষয়টি এখন একটি বৈশ্বিক অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ডিজিটাল যুগে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে এক নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে বিভিন্ন রাষ্ট্র। সাইবার বুলিং, আসক্তি এবং মানসিক উদ্বেগের মতো ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক দেশই অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ বা পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটছে। ২০২৫ সালের শেষভাগে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে এই ধারার সূচনা করে। বর্তমানে ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশই অস্ট্রেলিয়ার সেই কঠোর নীতি অনুসরণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার এই ঐতিহাসিক আইনের আওতায় হোয়াটসঅ্যাপ বা ইউটিউব কিডসের মতো শিক্ষামূলক অ্যাপগুলো ছাড় পেলেও মূল ধারার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। দেশটির সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কোনো প্ল্যাটফর্ম যদি বয়স যাচাইয়ের এই নিয়ম লঙ্ঘন করে, তবে তাদের বড় অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপের পর ইউরোপের দেশগুলোও নড়েচড়ে বসেছে। ফ্রান্স ইতোমধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ওপর বিল পাস করেছে, যা শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম থেকে সুরক্ষা দেবে বলে মনে করছেন দেশটির নীতিনির্ধারকরা। এছাড়া ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া ও গ্রিস তাদের নিজ নিজ দেশে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের জন্য একই ধরনের আইন কার্যকর করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিকমাধ্যম ও অনলাইন গেম ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে তুরস্কে ১৫ বছর বয়সীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিল ইতোমধ্যে পার্লামেন্টে পাস হয়েছে, যা এখন কেবল রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায়। ইউরোপের অন্যতম ক্ষমতাধর দেশ জার্মানিতেও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ডিজিটাল কড়াকড়ি নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে তীব্র আলোচনা চলছে। এমনকি যুক্তরাজ্য সরকারও অভিভাবকদের মতামত নিয়ে এই পথে হাঁটার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং অনলাইনে অচেনা মানুষের সাথে যোগাযোগের ফলে তৈরি হওয়া ঝুঁকির কারণেই দেশগুলো এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে, কেবল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ডিজিটাল বিশ্বের জটিলতাগুলো সমাধান করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, শিশুদের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না চাপিয়ে বরং অনলাইন নিরাপত্তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজা উচিত। তা সত্ত্বেও দেশগুলোর সরকার মনে করছে, শিশুদের উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা ও আসক্তি কমাতে এই মুহূর্তে কঠোর আইনি কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বজুড়ে এই ব্যাপক পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনলাইন সুরক্ষার বিষয়টি এখন একটি বৈশ্বিক অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন