দিকপাল

আণবিক বোমার বিষাক্ত তেজস্ক্রিয়তা ছাপিয়ে আজও বেঁচে আছে তারা


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৬:৪২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

আণবিক বোমার বিষাক্ত তেজস্ক্রিয়তা ছাপিয়ে আজও বেঁচে আছে তারা

১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে জাপানের হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমার সেই ভয়াবহ ধ্বংসলীলার পর বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করেছিলেন যে, আগামী কয়েক দশকে সেখানে কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হবে। প্রচণ্ড উত্তাপ আর তেজস্ক্রিয়তার মারাত্মক প্রভাবে হিরোশিমা এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতি সব বৈজ্ঞানিক অনুমানকে ভুল প্রমাণ করে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই জানান দেয় তার অজেয় জীবনীশক্তির। ১৯৪৬ সালের বসন্ত আসতেই ধ্বংসস্তূপের বুক চিরে উঁকি দিতে শুরু করে নতুন প্রাণের অঙ্কুর। এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের অগ্রভাগে ছিল 'গিংকগো বিলোবা' বা গিংকগো গাছ, যা তার প্রাচীন ইতিহাসের কারণে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ হিসেবে পরিচিত।

বিস্ফোরণস্থলের মাত্র দুই কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা এই গাছগুলো প্রচণ্ড দগ্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও অলৌকিকভাবে নিজেদের পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে জাপানে এই টিকে যাওয়া গাছগুলোকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে ‘হিবাকুজুমোকু’ নামে ডাকা হয়। জাতিসংঘ এই বৃক্ষগুলোকে প্রতিকূলতা জয় এবং বিশ্বশান্তির প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা আজও ধ্বংসের মাঝে প্রাণের জয়গান গেয়ে যাচ্ছে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই গাছগুলোর টিকে থাকার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই গাছগুলোর ডিএনএ মেরামতের ক্ষমতা সাধারণ উদ্ভিদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। এছাড়া এদের কোষে থাকা উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট তেজস্ক্রিয়তার ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে অণুগুলোকে রক্ষা করতে ঢাল হিসেবে কাজ করেছে। প্রাণীদের মতো কোনো একক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর নির্ভরশীল না হওয়ায়, দেহের বড় অংশ হারিয়েও এগুলো বেঁচে থাকতে পারে। বিশেষ করে মাটির গভীর স্তরে থাকা মূলগুলো তেজস্ক্রিয়তার সরাসরি প্রভাব থেকে রক্ষা পেয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে নতুন ডালপালা গজাতে মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে। প্রকৃতির এই হার না মানা লড়াই আজও মানুষকে নতুন করে বাঁচার প্রেরণা যোগায়।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


আণবিক বোমার বিষাক্ত তেজস্ক্রিয়তা ছাপিয়ে আজও বেঁচে আছে তারা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে জাপানের হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমার সেই ভয়াবহ ধ্বংসলীলার পর বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করেছিলেন যে, আগামী কয়েক দশকে সেখানে কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া অসম্ভব হবে। প্রচণ্ড উত্তাপ আর তেজস্ক্রিয়তার মারাত্মক প্রভাবে হিরোশিমা এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতি সব বৈজ্ঞানিক অনুমানকে ভুল প্রমাণ করে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই জানান দেয় তার অজেয় জীবনীশক্তির। ১৯৪৬ সালের বসন্ত আসতেই ধ্বংসস্তূপের বুক চিরে উঁকি দিতে শুরু করে নতুন প্রাণের অঙ্কুর। এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের অগ্রভাগে ছিল 'গিংকগো বিলোবা' বা গিংকগো গাছ, যা তার প্রাচীন ইতিহাসের কারণে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ হিসেবে পরিচিত।

বিস্ফোরণস্থলের মাত্র দুই কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা এই গাছগুলো প্রচণ্ড দগ্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও অলৌকিকভাবে নিজেদের পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে জাপানে এই টিকে যাওয়া গাছগুলোকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে ‘হিবাকুজুমোকু’ নামে ডাকা হয়। জাতিসংঘ এই বৃক্ষগুলোকে প্রতিকূলতা জয় এবং বিশ্বশান্তির প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা আজও ধ্বংসের মাঝে প্রাণের জয়গান গেয়ে যাচ্ছে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই গাছগুলোর টিকে থাকার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই গাছগুলোর ডিএনএ মেরামতের ক্ষমতা সাধারণ উদ্ভিদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। এছাড়া এদের কোষে থাকা উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট তেজস্ক্রিয়তার ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে অণুগুলোকে রক্ষা করতে ঢাল হিসেবে কাজ করেছে। প্রাণীদের মতো কোনো একক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর নির্ভরশীল না হওয়ায়, দেহের বড় অংশ হারিয়েও এগুলো বেঁচে থাকতে পারে। বিশেষ করে মাটির গভীর স্তরে থাকা মূলগুলো তেজস্ক্রিয়তার সরাসরি প্রভাব থেকে রক্ষা পেয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে নতুন ডালপালা গজাতে মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে। প্রকৃতির এই হার না মানা লড়াই আজও মানুষকে নতুন করে বাঁচার প্রেরণা যোগায়।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল