মানব সভ্যতার ইতিহাসে ১৮৫৯ সালের ২৮ আগস্ট একটি চিরস্মরণীয় দিন। সেদিন আমেরিকার পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের টাইটাসভিলে একটি সাধারণ কূপ থেকে উঠে এসেছিল কালো সোনা তথা খনিজ তেল। এই একটি ঘটনাই বদলে দিয়েছিল পৃথিবীর গতিপথ, সূচনা করেছিল আধুনিক বাণিজ্যিক তেল শিল্পের। তেল উত্তোলনের এই দুঃসাধ্য সাধনের কারিগর ছিলেন এডুইন ড্রেক, যিনি ‘কর্নেল ড্রেক’ নামেই পরিচিত। খনন কাজ চলাকালীন তিনি একটি বৈপ্লবিক চিন্তা করেন—পাইপ ব্যবহার করে খনন করা। মূলত পাইপের ব্যবহারই ছিল ড্রেকের সাফল্যের তুরুপের তাস, যা খনন প্রক্রিয়াকে সহজ ও কার্যকর করে তুলেছিল।
কর্নেল ড্রেকের এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। মজার বিষয় হলো, যে দিন কূপের মুখ দিয়ে তেল উপচে পড়েছিল, ঠিক সে দিনই ড্রেক তাঁর হাতে পেয়েছিলেন শেষ কিস্তির টাকা এবং কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ। তবে ভাগ্য তাঁর সহায় ছিল; ঠিক শেষ মুহূর্তে প্রাপ্ত এই সাফল্য তাঁকে ইতিহাসে অমর করে দেয়। সেই ঐতিহাসিক কূপ থেকে উত্তোলিত প্রথম তেল বিক্রি হয়েছিল ব্যারেলপ্রতি ৪০ ডলারে। আজকের হিসেবে যা ছিল আকাশচুম্বী। টাইটাসভিলের এই ক্ষুদ্র সূচনা থেকেই মূলত বর্তমানের ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার তৈরি হয়েছে।
এই একটি
কূপ কেবল মাটির নিচ থেকে তেল বের করেনি, বরং আধুনিক পৃথিবীর শিল্পায়ন ও যান্ত্রিক বিপ্লবের
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দিয়েছিল। টাইটাসভিলের সেই ঐতিহাসিক স্থানটি আজ বিশ্ব তেল
শিল্পের জন্মস্থান হিসেবে সংরক্ষিত।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক জ্বালানি ইতিহাস বিষয়ক
নথিপত্র।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
মানব সভ্যতার ইতিহাসে ১৮৫৯ সালের ২৮ আগস্ট একটি চিরস্মরণীয় দিন। সেদিন আমেরিকার পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের টাইটাসভিলে একটি সাধারণ কূপ থেকে উঠে এসেছিল কালো সোনা তথা খনিজ তেল। এই একটি ঘটনাই বদলে দিয়েছিল পৃথিবীর গতিপথ, সূচনা করেছিল আধুনিক বাণিজ্যিক তেল শিল্পের। তেল উত্তোলনের এই দুঃসাধ্য সাধনের কারিগর ছিলেন এডুইন ড্রেক, যিনি ‘কর্নেল ড্রেক’ নামেই পরিচিত। খনন কাজ চলাকালীন তিনি একটি বৈপ্লবিক চিন্তা করেন—পাইপ ব্যবহার করে খনন করা। মূলত পাইপের ব্যবহারই ছিল ড্রেকের সাফল্যের তুরুপের তাস, যা খনন প্রক্রিয়াকে সহজ ও কার্যকর করে তুলেছিল।
কর্নেল ড্রেকের এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। মজার বিষয় হলো, যে দিন কূপের মুখ দিয়ে তেল উপচে পড়েছিল, ঠিক সে দিনই ড্রেক তাঁর হাতে পেয়েছিলেন শেষ কিস্তির টাকা এবং কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ। তবে ভাগ্য তাঁর সহায় ছিল; ঠিক শেষ মুহূর্তে প্রাপ্ত এই সাফল্য তাঁকে ইতিহাসে অমর করে দেয়। সেই ঐতিহাসিক কূপ থেকে উত্তোলিত প্রথম তেল বিক্রি হয়েছিল ব্যারেলপ্রতি ৪০ ডলারে। আজকের হিসেবে যা ছিল আকাশচুম্বী। টাইটাসভিলের এই ক্ষুদ্র সূচনা থেকেই মূলত বর্তমানের ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার তৈরি হয়েছে।
এই একটি
কূপ কেবল মাটির নিচ থেকে তেল বের করেনি, বরং আধুনিক পৃথিবীর শিল্পায়ন ও যান্ত্রিক বিপ্লবের
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে দিয়েছিল। টাইটাসভিলের সেই ঐতিহাসিক স্থানটি আজ বিশ্ব তেল
শিল্পের জন্মস্থান হিসেবে সংরক্ষিত।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক জ্বালানি ইতিহাস বিষয়ক
নথিপত্র।

আপনার মতামত লিখুন