দিকপাল

প্রতারণার ফাঁদে আয় বাড়ানোর অভিযোগ: এবার আদালতের কাঠগড়ায় জুকারবার্গের মেটা!


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৪৩ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

প্রতারণার ফাঁদে আয় বাড়ানোর অভিযোগ: এবার আদালতের কাঠগড়ায় জুকারবার্গের মেটা!

প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগে আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়েছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আইনি প্রতিষ্ঠান ‘টাইকো অ্যান্ড জাভারেই এলএলপি’ এবং ‘টেক জাস্টিস ল’ মেটার বিরুদ্ধে এই সম্মিলিত মামলাটি দায়ের করেছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ বিজ্ঞাপনের মুখোমুখি করে মেটা পদ্ধতিগতভাবে মুনাফা অর্জন করে আসছে, যা সরাসরি নীতিমালার লঙ্ঘন।

আদালতে পেশ করা মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালে মেটার মোট আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ, যার পরিমাণ প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার, এসেছে মূলত প্রতারণামূলক বা নিষিদ্ধ পণ্যের বিজ্ঞাপন থেকে। পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে ১৫ বিলিয়ন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিজ্ঞাপনের সম্মুখীন হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ বিজ্ঞাপনদাতার তুলনায় এসব বিতর্কিত বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে মেটা বেশি অর্থ নিলেও ব্যবহারকারীদের করা ৯৬ শতাংশ বৈধ অভিযোগই তারা নাকচ করে দিয়েছে। টেক জাস্টিস ল-এর মতে, এটি কোনো কারিগরি ত্রুটি নয়, বরং মেটা সচেতনভাবেই প্রতারণার ওপর ভিত্তি করে একটি ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তুলেছে।

তবে মেটা কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে মেটা জানিয়েছে, গত এক বছরে তারা ১৫ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলেছে, যার ৯২ শতাংশই কোনো অভিযোগ পাওয়ার আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জালিয়াতি চক্রের সাথে জড়িত থাকার দায়ে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার দাবিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই আইনি লড়াই এখন প্রযুক্তি বিশ্বে মেটার নৈতিকতা ও ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তথ্যের মূল উৎস (Original Source): যুক্তরাষ্ট্রের আদালত নথি এবং টাইকো অ্যান্ড জাভারেই এলএলপি ও টেক জাস্টিস ল’র বিবৃতি।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


প্রতারণার ফাঁদে আয় বাড়ানোর অভিযোগ: এবার আদালতের কাঠগড়ায় জুকারবার্গের মেটা!

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগে আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়েছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আইনি প্রতিষ্ঠান ‘টাইকো অ্যান্ড জাভারেই এলএলপি’ এবং ‘টেক জাস্টিস ল’ মেটার বিরুদ্ধে এই সম্মিলিত মামলাটি দায়ের করেছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ বিজ্ঞাপনের মুখোমুখি করে মেটা পদ্ধতিগতভাবে মুনাফা অর্জন করে আসছে, যা সরাসরি নীতিমালার লঙ্ঘন।

আদালতে পেশ করা মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালে মেটার মোট আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ, যার পরিমাণ প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার, এসেছে মূলত প্রতারণামূলক বা নিষিদ্ধ পণ্যের বিজ্ঞাপন থেকে। পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে ১৫ বিলিয়ন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিজ্ঞাপনের সম্মুখীন হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ বিজ্ঞাপনদাতার তুলনায় এসব বিতর্কিত বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে মেটা বেশি অর্থ নিলেও ব্যবহারকারীদের করা ৯৬ শতাংশ বৈধ অভিযোগই তারা নাকচ করে দিয়েছে। টেক জাস্টিস ল-এর মতে, এটি কোনো কারিগরি ত্রুটি নয়, বরং মেটা সচেতনভাবেই প্রতারণার ওপর ভিত্তি করে একটি ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তুলেছে।

তবে মেটা কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে মেটা জানিয়েছে, গত এক বছরে তারা ১৫ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলেছে, যার ৯২ শতাংশই কোনো অভিযোগ পাওয়ার আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জালিয়াতি চক্রের সাথে জড়িত থাকার দায়ে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার দাবিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই আইনি লড়াই এখন প্রযুক্তি বিশ্বে মেটার নৈতিকতা ও ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তথ্যের মূল উৎস (Original Source): যুক্তরাষ্ট্রের আদালত নথি এবং টাইকো অ্যান্ড জাভারেই এলএলপি ও টেক জাস্টিস ল’র বিবৃতি।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল