দিকপাল

বিপৎসীমার ওপরে ৪ নদী, পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে ৫ জেলার লাখো মানুষ!


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০২:০২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বিপৎসীমার ওপরে ৪ নদী, পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে ৫ জেলার লাখো মানুষ!

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা, কুশিয়ারা ও মনুসহ প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলাতেও স্বল্পমেয়াদী বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বুধবার সকালে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, অতিবৃষ্টির ফলে দেশের নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নেত্রকোনার ভুগাই কংস, সোমেশ্বরী, মগরা এবং মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে। বৃষ্টির পানিতে ছোট নদীগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে। এছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রাজধানীতেও আজ সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, আগামী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগেই ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা অন্তত আরও পাঁচ দিন স্থায়ী হতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের জানমাল রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছে, তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বৃষ্টিপাত কমলে পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


বিপৎসীমার ওপরে ৪ নদী, পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে ৫ জেলার লাখো মানুষ!

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সুরমা, কুশিয়ারা ও মনুসহ প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলাতেও স্বল্পমেয়াদী বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বুধবার সকালে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, অতিবৃষ্টির ফলে দেশের নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নেত্রকোনার ভুগাই কংস, সোমেশ্বরী, মগরা এবং মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে। বৃষ্টির পানিতে ছোট নদীগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে। এছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রাজধানীতেও আজ সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, আগামী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগেই ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা অন্তত আরও পাঁচ দিন স্থায়ী হতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের জানমাল রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছে, তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বৃষ্টিপাত কমলে পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল