দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সয়াবিন তেলের আমদানি গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত বছর এই সময়ে যেখানে ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন তেল আমদানি হয়েছিল, এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ লাখ ৬১ হাজার টনে। আমদানিতে এই বিশাল ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুচরা বাজারে, যেখানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে আগের মতো বোতলজাত তেলের পর্যাপ্ত মজুদ নেই। অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররা অন্য পণ্য কেনার শর্তে তেল সরবরাহ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, বোতলজাত তেলের সংকটে খোলা তেলের ওপর চাপ বাড়ায় তা নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম ক্রমাগত বাড়লেও দেশের বাজারে তা সমন্বয় না করায় আমদানিতে তাদের আগ্রহ কমেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, জানুয়ারিতে প্রতি টন তেলের দাম ১ হাজার ১৫৪ ডলার থাকলেও মার্চে তা বেড়ে ১ হাজার ৪৮২ ডলারে পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীরা বারবার দাম বাড়ানোর দাবি জানালেও কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় অনেক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হাত গুটিয়ে নিয়েছে।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের হিসাবমতে, দেশে বছরে প্রায় ২৪ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে, যার ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এই চাহিদা আরও বাড়বে, যা বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। যদিও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বোতলজাত তেলের সরবরাহ কিছুটা কম থাকলেও খোলা তেলের মজুদ পর্যাপ্ত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার দোহাই দিয়ে বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা কারসাজি বরদাশত করা হবে না। সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বাড়তি দাম নেওয়ার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব (CAB) অবশ্য এই পরিস্থিতির জন্য অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও তদারকির অভাবকে দায়ী করেছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত সরবরাহ সংকট কাটিয়ে না উঠলে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়বেন। বর্তমানে টিসিবির তথ্য অনুযায়ী প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও অনেক জায়গায় তা আরও চড়া দামে বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমদানিকারক ও সরকার—উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানের মাঝে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেট এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সয়াবিন তেলের আমদানি গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত বছর এই সময়ে যেখানে ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন তেল আমদানি হয়েছিল, এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ লাখ ৬১ হাজার টনে। আমদানিতে এই বিশাল ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুচরা বাজারে, যেখানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে আগের মতো বোতলজাত তেলের পর্যাপ্ত মজুদ নেই। অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররা অন্য পণ্য কেনার শর্তে তেল সরবরাহ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, বোতলজাত তেলের সংকটে খোলা তেলের ওপর চাপ বাড়ায় তা নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম ক্রমাগত বাড়লেও দেশের বাজারে তা সমন্বয় না করায় আমদানিতে তাদের আগ্রহ কমেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, জানুয়ারিতে প্রতি টন তেলের দাম ১ হাজার ১৫৪ ডলার থাকলেও মার্চে তা বেড়ে ১ হাজার ৪৮২ ডলারে পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীরা বারবার দাম বাড়ানোর দাবি জানালেও কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় অনেক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হাত গুটিয়ে নিয়েছে।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের হিসাবমতে, দেশে বছরে প্রায় ২৪ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে, যার ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এই চাহিদা আরও বাড়বে, যা বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। যদিও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বোতলজাত তেলের সরবরাহ কিছুটা কম থাকলেও খোলা তেলের মজুদ পর্যাপ্ত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার দোহাই দিয়ে বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা কারসাজি বরদাশত করা হবে না। সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বাড়তি দাম নেওয়ার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব (CAB) অবশ্য এই পরিস্থিতির জন্য অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও তদারকির অভাবকে দায়ী করেছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত সরবরাহ সংকট কাটিয়ে না উঠলে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়বেন। বর্তমানে টিসিবির তথ্য অনুযায়ী প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও অনেক জায়গায় তা আরও চড়া দামে বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমদানিকারক ও সরকার—উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানের মাঝে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেট এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে।

আপনার মতামত লিখুন