দিকপাল

হিটলারের মৃত্যু রহস্যের অবসান খুলি ও দাঁত পরীক্ষায় মিলল অকাট্য প্রমাণ


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:১৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

হিটলারের মৃত্যু রহস্যের অবসান খুলি ও দাঁত পরীক্ষায় মিলল অকাট্য প্রমাণ

১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল বার্লিনের পতন নিশ্চিত জেনে মাটির নিচের গোপন বাংকারে নিজের জীবনের ইতি টেনেছিলেন অ্যাডলফ হিটলার। তাঁর এই মৃত্যুকে ঘিরে গত আট দশকে অজস্র ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তৈরি হলেও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. ক্লাউস পুশেল মস্কোর আর্কাইভে রাখা হিটলারের মাথার খুলি ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পরীক্ষা করে সেই সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন।

ড. পুশেলের গবেষণা অনুযায়ী হিটলারের মৃত্যু ছিল একটি যৌথ প্রক্রিয়া। তিনি সায়ানাইড ক্যাপসুল মুখে নিয়ে কামড় দেওয়ার প্রায় সাথে সাথেই ৭.৬৫ মিমি ক্যালিবারের একটি ভালথার পিস্তল দিয়ে নিজের মাথার ডান দিকে গুলি করেছিলেন। সায়ানাইড চিবানোর পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁর হাতে সর্বোচ্চ দুই মিনিট সময় ছিল আর সেই সময়েই তিনি ট্রিগার টিপেছিলেন বলে ড. পুশেল নিশ্চিত করেছেন।

গবেষণায় হিটলারের মৃতদেহের দাঁতের পাটি এবং চোয়ালের ফরেনসিক গঠন পরীক্ষা করে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা হয়েছে যে ওই শরীরটি হিটলারেরই ছিল। এছাড়া একটি মজার শারীরিক তথ্যও সামনে এসেছে যে হিটলারের একটি অণ্ডকোষ ছিল না যা ১৯১৬ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পাওয়া আঘাত অথবা জন্মগত ত্রুটির কারণে হতে পারে। ১৯২৩ সালে ল্যান্ডসবার্গ কারাগারে বন্দি থাকার সময়ও মেডিকেল অফিসার এই তথ্যের সত্যতা পেয়েছিলেন।

হিটলারের মৃতদেহের পরিণতি নিয়ে ড. পুশেল জানিয়েছেন যে রাইখ চ্যান্সেলারির বাগানে মরদেহ পোড়ানোর চেষ্টা করা হলেও দাহপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই সোভিয়েত বাহিনী সেখানে পৌঁছে যায়। এরপর কয়েক দশক ধরে কেজিবি হিটলারের দেহাবশেষ নিয়ে লুকোচুরি খেলেছে। অবশেষে ১৯৭০ সালে কেজিবি প্রধান ইউরি আন্দ্রোপভের নির্দেশে পূর্ব জার্মানির ম্যাগডেবার্গে এটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালে দেহাবশেষ পুরোপুরি পুড়িয়ে ছাই করে এলবে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় এবং মস্কোতে কেবল তাঁর খুলির একটি অংশ নিয়ে যাওয়া হয়।

সূত্র: বই ‘দ্য টোড গেট উবের লাইশেন’

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


হিটলারের মৃত্যু রহস্যের অবসান খুলি ও দাঁত পরীক্ষায় মিলল অকাট্য প্রমাণ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল বার্লিনের পতন নিশ্চিত জেনে মাটির নিচের গোপন বাংকারে নিজের জীবনের ইতি টেনেছিলেন অ্যাডলফ হিটলার। তাঁর এই মৃত্যুকে ঘিরে গত আট দশকে অজস্র ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তৈরি হলেও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. ক্লাউস পুশেল মস্কোর আর্কাইভে রাখা হিটলারের মাথার খুলি ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পরীক্ষা করে সেই সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন।

ড. পুশেলের গবেষণা অনুযায়ী হিটলারের মৃত্যু ছিল একটি যৌথ প্রক্রিয়া। তিনি সায়ানাইড ক্যাপসুল মুখে নিয়ে কামড় দেওয়ার প্রায় সাথে সাথেই ৭.৬৫ মিমি ক্যালিবারের একটি ভালথার পিস্তল দিয়ে নিজের মাথার ডান দিকে গুলি করেছিলেন। সায়ানাইড চিবানোর পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁর হাতে সর্বোচ্চ দুই মিনিট সময় ছিল আর সেই সময়েই তিনি ট্রিগার টিপেছিলেন বলে ড. পুশেল নিশ্চিত করেছেন।

গবেষণায় হিটলারের মৃতদেহের দাঁতের পাটি এবং চোয়ালের ফরেনসিক গঠন পরীক্ষা করে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা হয়েছে যে ওই শরীরটি হিটলারেরই ছিল। এছাড়া একটি মজার শারীরিক তথ্যও সামনে এসেছে যে হিটলারের একটি অণ্ডকোষ ছিল না যা ১৯১৬ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পাওয়া আঘাত অথবা জন্মগত ত্রুটির কারণে হতে পারে। ১৯২৩ সালে ল্যান্ডসবার্গ কারাগারে বন্দি থাকার সময়ও মেডিকেল অফিসার এই তথ্যের সত্যতা পেয়েছিলেন।

হিটলারের মৃতদেহের পরিণতি নিয়ে ড. পুশেল জানিয়েছেন যে রাইখ চ্যান্সেলারির বাগানে মরদেহ পোড়ানোর চেষ্টা করা হলেও দাহপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই সোভিয়েত বাহিনী সেখানে পৌঁছে যায়। এরপর কয়েক দশক ধরে কেজিবি হিটলারের দেহাবশেষ নিয়ে লুকোচুরি খেলেছে। অবশেষে ১৯৭০ সালে কেজিবি প্রধান ইউরি আন্দ্রোপভের নির্দেশে পূর্ব জার্মানির ম্যাগডেবার্গে এটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। ১৯৯১ সালে দেহাবশেষ পুরোপুরি পুড়িয়ে ছাই করে এলবে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় এবং মস্কোতে কেবল তাঁর খুলির একটি অংশ নিয়ে যাওয়া হয়।

সূত্র: বই ‘দ্য টোড গেট উবের লাইশেন’


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল