যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতালি ও স্পেন থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রান্স-আটলান্টিক মিত্রতার টানাপড়েনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোর এমন অবস্থানকে ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। মূলত ন্যাটো মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের যে অসন্তোষ, তারই ধারাবাহিকতায় এই কঠোর মন্তব্য এসেছে। এর মাত্র একদিন আগেই তিনি জার্মানিতে মোতায়েন মার্কিন সেনাসংখ্যা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে যখন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ মন্তব্য করেন যে, ইরানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হচ্ছে। ট্রাম্পের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার উদ্যোগে মিত্র দেশগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা করছে না। বিশেষ করে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান সংঘাতের বিরোধিতা করে আসছেন। অন্যদিকে, ইতালি শুরুতে কিছুটা নমনীয় থাকলেও গত মার্চের শেষ দিকে সিসিলির গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিন অস্ত্রবাহী বিমান চলাচলের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ইতালি ও স্পেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। ইতালির অসহযোগিতা এবং স্পেনের অবস্থানকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে তিনি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে ট্রাম্পের এই আকস্মিক হুমকিকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে অভিহিত করেছেন ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো। রোমের বিরুদ্ধে আনা অসহযোগিতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি দাবি করেন, সমুদ্র নিরাপত্তা মিশনে ইতালি বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দিয়ে আসছে, যা খোদ মার্কিন সেনাবাহিনীও ইতিপূর্বে প্রশংসা করেছে।
বর্তমানে ইতালির সাতটি নৌঘাঁটিতে প্রায় ১৩ হাজার এবং স্পেনের রোটা ও মোরোন ঘাঁটিতে প্রায় ৩,৮০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। স্পেন অবশ্য এই হুমকির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দেশটি এর আগেই ইরানে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ট্রাম্পের নীতির কঠোর সমালোচক হিসেবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। উল্লেখ্য যে, গত মাসেই স্পেনের বিরুদ্ধে পূর্ণ বাণিজ্যিক অবরোধের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে মোতায়েন থাকা প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক কৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখান থেকে বড় ধরনের সেনা প্রত্যাহার করা হলে তা ওয়াশিংটনের কৌশলগত সক্ষমতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এমনকি খোদ রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডন বেকনও ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে একে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া গত বছর মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট চাইলেই একক সিদ্ধান্তে ইউরোপ থেকে বড় কোনো সেনা বহর প্রত্যাহার করতে পারবেন না। এই আইনি বাধ্যবাধকতা ও কৌশলগত গুরুত্বের কারণে অনেক জার্মান সামরিক কর্মকর্তা ট্রাম্পের এই হুমকিকে বাস্তব পরিবর্তনের চেয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেই দেখছেন।
মূল সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতালি ও স্পেন থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রান্স-আটলান্টিক মিত্রতার টানাপড়েনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোর এমন অবস্থানকে ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। মূলত ন্যাটো মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের যে অসন্তোষ, তারই ধারাবাহিকতায় এই কঠোর মন্তব্য এসেছে। এর মাত্র একদিন আগেই তিনি জার্মানিতে মোতায়েন মার্কিন সেনাসংখ্যা কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে যখন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ মন্তব্য করেন যে, ইরানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হচ্ছে। ট্রাম্পের অভিযোগ, হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার উদ্যোগে মিত্র দেশগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা করছে না। বিশেষ করে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান সংঘাতের বিরোধিতা করে আসছেন। অন্যদিকে, ইতালি শুরুতে কিছুটা নমনীয় থাকলেও গত মার্চের শেষ দিকে সিসিলির গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিন অস্ত্রবাহী বিমান চলাচলের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ইতালি ও স্পেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। ইতালির অসহযোগিতা এবং স্পেনের অবস্থানকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে তিনি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে ট্রাম্পের এই আকস্মিক হুমকিকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে অভিহিত করেছেন ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো। রোমের বিরুদ্ধে আনা অসহযোগিতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি দাবি করেন, সমুদ্র নিরাপত্তা মিশনে ইতালি বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দিয়ে আসছে, যা খোদ মার্কিন সেনাবাহিনীও ইতিপূর্বে প্রশংসা করেছে।
বর্তমানে ইতালির সাতটি নৌঘাঁটিতে প্রায় ১৩ হাজার এবং স্পেনের রোটা ও মোরোন ঘাঁটিতে প্রায় ৩,৮০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। স্পেন অবশ্য এই হুমকির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দেশটি এর আগেই ইরানে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ট্রাম্পের নীতির কঠোর সমালোচক হিসেবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। উল্লেখ্য যে, গত মাসেই স্পেনের বিরুদ্ধে পূর্ণ বাণিজ্যিক অবরোধের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে মোতায়েন থাকা প্রায় ৬৮ হাজার মার্কিন সেনা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক কৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখান থেকে বড় ধরনের সেনা প্রত্যাহার করা হলে তা ওয়াশিংটনের কৌশলগত সক্ষমতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এমনকি খোদ রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডন বেকনও ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে একে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া গত বছর মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট চাইলেই একক সিদ্ধান্তে ইউরোপ থেকে বড় কোনো সেনা বহর প্রত্যাহার করতে পারবেন না। এই আইনি বাধ্যবাধকতা ও কৌশলগত গুরুত্বের কারণে অনেক জার্মান সামরিক কর্মকর্তা ট্রাম্পের এই হুমকিকে বাস্তব পরিবর্তনের চেয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেই দেখছেন।
মূল সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আপনার মতামত লিখুন