চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে গত এক দশকে তিন সরকারি সংস্থার চারটি মেগা প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। এত বিপুল অর্থ ব্যয় এবং দীর্ঘ সময়ের কর্মযজ্ঞ সত্ত্বেও মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই বন্দরনগরীর অন্তত ২০টি এলাকা পুনরায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, আগ্রাবাদ এবং বহদ্দারহাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কোথাও হাঁটু সমান আবার কোথাও বুক সমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে, যা নামতে সময় লেগেছে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। এই চরম জনদুর্ভোগের প্রেক্ষাপটে খোদ জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নগরবাসীর এই কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের মূলে রয়েছে প্রকল্প পরিকল্পনার চরম ত্রুটি এবং অদূরদর্শিতা। চট্টগ্রামের ৭৪টি খালের মধ্যে মাত্র ৩৬টি খালকে প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে, বাকি ৩৮টি খাল এখনো চরম অবহেলিত। এমনকি ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও বর্তমান প্রকল্পগুলোতে উপেক্ষিত হয়েছে, যার ফলে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসছে না। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম স্বীকার করেছেন যে, হিজড়া ও জামালখান খালে কাজের প্রয়োজনে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধের কারণে বৃষ্টির পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর এক বিতর্কিত মন্তব্য—‘চট্টগ্রাম পানির ওপর ভাসছে না’—নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্প্রতি সিটি মেয়রকে প্রধান করে ১৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে, যার লক্ষ্য হলো সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা।

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে গত এক দশকে তিন সরকারি সংস্থার চারটি মেগা প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। এত বিপুল অর্থ ব্যয় এবং দীর্ঘ সময়ের কর্মযজ্ঞ সত্ত্বেও মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই বন্দরনগরীর অন্তত ২০টি এলাকা পুনরায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, আগ্রাবাদ এবং বহদ্দারহাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কোথাও হাঁটু সমান আবার কোথাও বুক সমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে, যা নামতে সময় লেগেছে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। এই চরম জনদুর্ভোগের প্রেক্ষাপটে খোদ জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নগরবাসীর এই কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের মূলে রয়েছে প্রকল্প পরিকল্পনার চরম ত্রুটি এবং অদূরদর্শিতা। চট্টগ্রামের ৭৪টি খালের মধ্যে মাত্র ৩৬টি খালকে প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে, বাকি ৩৮টি খাল এখনো চরম অবহেলিত। এমনকি ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও বর্তমান প্রকল্পগুলোতে উপেক্ষিত হয়েছে, যার ফলে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসছে না। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম স্বীকার করেছেন যে, হিজড়া ও জামালখান খালে কাজের প্রয়োজনে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধের কারণে বৃষ্টির পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর এক বিতর্কিত মন্তব্য—‘চট্টগ্রাম পানির ওপর ভাসছে না’—নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্প্রতি সিটি মেয়রকে প্রধান করে ১৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে, যার লক্ষ্য হলো সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা।

আপনার মতামত লিখুন