বিশ্বের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অংশগ্রহণের অধিকার তাইওয়ানের রয়েছে এবং কোনো দেশই তা বাধাগ্রস্ত করতে পারে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন চীন প্রজাতন্ত্রের (তাইওয়ান) প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। সম্প্রতি আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনি সফরে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। এসওয়াতিনির রাজা তৃতীয় মস্বাতির সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট লাই জানান যে, বেইজিং তার এই সফরটি নস্যাৎ করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছিল এবং চীন তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বেইজিংয়ের ব্যাপক সমালোচনা ও কূটনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও গত শনিবার হঠাৎ করেই রাজা মস্বাতির আমন্ত্রণে এসওয়াতিনিতে পৌঁছান লাই চিং। কূটনৈতিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানোর কৌশল হিসেবে এই সফরটির কথা আগে থেকে ঘোষণা করা হয়নি।
চীন বরাবরই তাইওয়ানকে তাদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং তাইওয়ানের সঙ্গে বিশ্বের অন্য কোনো দেশের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ঘোর বিরোধিতা করে আসছে। তবে তাইওয়ান সরকার শুরু থেকেই বেইজিংয়ের এই অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। সফর চলাকালীন লাই চিং সরাসরি বলেন যে, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এর ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের বিশ্বে অংশগ্রহণের পূর্ণ অধিকার আছে, যা কোনো দেশই থামানোর ক্ষমতা রাখে না। তাইওয়ানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, চীনের প্রবল চাপের মুখে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তিনটি দেশ শেষ মুহূর্তে লাইয়ের বিমানের জন্য আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয়, যার ফলে তাদের প্রাথমিক সফর পরিকল্পনাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা মাত্র ১২টি দেশের মধ্যে এসওয়াতিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র।
লাইয়ের এই সফর ঘিরে বেইজিং ও তাইপেইয়ের মধ্যে বাগযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক অফিস এই সফরের তীব্র সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট লাইকে ‘ইঁদুরের মতো লুকিয়ে চলা’ ব্যক্তি বলে কটাক্ষ করেছে এবং দাবি করেছে যে, তার এই আচরণ আন্তর্জাতিক মহলে উপহাসের জন্ম দেবে। এর কড়া জবাব দিয়ে তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড বিষয়ক পরিষদ জানিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট কোথায় যাবেন সে জন্য বেইজিংয়ের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং চীনের ব্যবহৃত ভাষাকে তারা ‘অত্যন্ত নিম্নমানের ও অশালীন’ বলে অভিহিত করেছে। এদিকে, এই সফর ঘিরে দক্ষিণ চীন সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট উত্তেজনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো। তারা এই সংকটে চীনের ভূমিকার সমালোচনা করে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স

রোববার, ০৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
বিশ্বের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অংশগ্রহণের অধিকার তাইওয়ানের রয়েছে এবং কোনো দেশই তা বাধাগ্রস্ত করতে পারে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন চীন প্রজাতন্ত্রের (তাইওয়ান) প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। সম্প্রতি আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনি সফরে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। এসওয়াতিনির রাজা তৃতীয় মস্বাতির সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট লাই জানান যে, বেইজিং তার এই সফরটি নস্যাৎ করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছিল এবং চীন তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বেইজিংয়ের ব্যাপক সমালোচনা ও কূটনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও গত শনিবার হঠাৎ করেই রাজা মস্বাতির আমন্ত্রণে এসওয়াতিনিতে পৌঁছান লাই চিং। কূটনৈতিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানোর কৌশল হিসেবে এই সফরটির কথা আগে থেকে ঘোষণা করা হয়নি।
চীন বরাবরই তাইওয়ানকে তাদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং তাইওয়ানের সঙ্গে বিশ্বের অন্য কোনো দেশের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ঘোর বিরোধিতা করে আসছে। তবে তাইওয়ান সরকার শুরু থেকেই বেইজিংয়ের এই অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। সফর চলাকালীন লাই চিং সরাসরি বলেন যে, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এর ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের বিশ্বে অংশগ্রহণের পূর্ণ অধিকার আছে, যা কোনো দেশই থামানোর ক্ষমতা রাখে না। তাইওয়ানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, চীনের প্রবল চাপের মুখে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তিনটি দেশ শেষ মুহূর্তে লাইয়ের বিমানের জন্য আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয়, যার ফলে তাদের প্রাথমিক সফর পরিকল্পনাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা মাত্র ১২টি দেশের মধ্যে এসওয়াতিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র।
লাইয়ের এই সফর ঘিরে বেইজিং ও তাইপেইয়ের মধ্যে বাগযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। চীনের তাইওয়ান বিষয়ক অফিস এই সফরের তীব্র সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট লাইকে ‘ইঁদুরের মতো লুকিয়ে চলা’ ব্যক্তি বলে কটাক্ষ করেছে এবং দাবি করেছে যে, তার এই আচরণ আন্তর্জাতিক মহলে উপহাসের জন্ম দেবে। এর কড়া জবাব দিয়ে তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড বিষয়ক পরিষদ জানিয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট কোথায় যাবেন সে জন্য বেইজিংয়ের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং চীনের ব্যবহৃত ভাষাকে তারা ‘অত্যন্ত নিম্নমানের ও অশালীন’ বলে অভিহিত করেছে। এদিকে, এই সফর ঘিরে দক্ষিণ চীন সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট উত্তেজনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো। তারা এই সংকটে চীনের ভূমিকার সমালোচনা করে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন