চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ছাত্রদলকর্মী শেখ মোহাম্মদ আশিককে নৃশংসভাবে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের ৪০ জন নেতার বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে না পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত ১২৭ জনকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এই চার্জশিট দাখিলের মধ্য দিয়ে জুলাই বিপ্লবের সময়কার সহিংসতার বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন এক ধাপ সম্পন্ন হলো।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া এই তালিকায় দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম উঠে এসেছে। শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের ছাড়াও চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান। এছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালীদের মধ্যে সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহম্মেদ ও তারেকুজ্জামান রাজীব এবং ছাত্রলীগ নেতা নাঈমুল হাসান রাসেলের নাম এই তালিকায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামিরা একটি পরিকল্পিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সারা দেশে ছাত্র-জনতার যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংসভাবে দমানোর চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ১৯ জুলাই, যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জোয়ারে কাঁপছিল পুরো দেশ। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ওইদিন বিকেলে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ময়ূর ভিলা এলাকায় বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। হঠাৎ করেই আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একদল সশস্ত্র লোক। নির্বিচারে লাঠিপেটা ও মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন ছাত্রদলকর্মী শেখ মোহাম্মদ আশিক। হামলাকারীরা তাকে এতটাই নৃশংসভাবে আঘাত করেছিল যে, এক পর্যায়ে তাকে ‘মৃত ভেবে’ রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায় তারা। ভাগ্যক্রমে সেদিন প্রাণে বেঁচে যান আশিক, তবে সেই ক্ষত বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন আজও।
পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটলে, গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর আশিক নিজেই বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় এই হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। শুরুতে শেখ হাসিনাসহ ১২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দেড়শ জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়েছিল। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, শীর্ষ নেতাদের উস্কানি এবং পূর্ব-নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় ক্যাডাররা এই সহিংসতা চালিয়েছিল। আদালত এখন পুলিশের এই সুপারিশ এবং অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। জুলাইয়ের প্রতিটি রক্তক্ষয়ী ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই চার্জশিট একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রোববার, ০৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ছাত্রদলকর্মী শেখ মোহাম্মদ আশিককে নৃশংসভাবে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের ৪০ জন নেতার বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে না পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত ১২৭ জনকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এই চার্জশিট দাখিলের মধ্য দিয়ে জুলাই বিপ্লবের সময়কার সহিংসতার বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন এক ধাপ সম্পন্ন হলো।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া এই তালিকায় দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম উঠে এসেছে। শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের ছাড়াও চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান। এছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালীদের মধ্যে সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহম্মেদ ও তারেকুজ্জামান রাজীব এবং ছাত্রলীগ নেতা নাঈমুল হাসান রাসেলের নাম এই তালিকায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামিরা একটি পরিকল্পিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সারা দেশে ছাত্র-জনতার যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংসভাবে দমানোর চেষ্টা করেছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ১৯ জুলাই, যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জোয়ারে কাঁপছিল পুরো দেশ। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ওইদিন বিকেলে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ময়ূর ভিলা এলাকায় বিক্ষোভ করছিলেন আন্দোলনকারীরা। হঠাৎ করেই আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একদল সশস্ত্র লোক। নির্বিচারে লাঠিপেটা ও মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন ছাত্রদলকর্মী শেখ মোহাম্মদ আশিক। হামলাকারীরা তাকে এতটাই নৃশংসভাবে আঘাত করেছিল যে, এক পর্যায়ে তাকে ‘মৃত ভেবে’ রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায় তারা। ভাগ্যক্রমে সেদিন প্রাণে বেঁচে যান আশিক, তবে সেই ক্ষত বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন আজও।
পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটলে, গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর আশিক নিজেই বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় এই হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। শুরুতে শেখ হাসিনাসহ ১২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দেড়শ জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়েছিল। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, শীর্ষ নেতাদের উস্কানি এবং পূর্ব-নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় ক্যাডাররা এই সহিংসতা চালিয়েছিল। আদালত এখন পুলিশের এই সুপারিশ এবং অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। জুলাইয়ের প্রতিটি রক্তক্ষয়ী ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই চার্জশিট একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন