বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত মঞ্চে আবারও এক নাটকীয় মোড় নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি বিশেষ সামরিক ও মানবিক প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সময় রবিবার (৩ মে) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তার মাধ্যমে এই বড়সড় পদক্ষেপের কথা বিশ্ববাসীকে জানান ট্রাম্প। মূলত ইরানের অবরোধের মুখে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহাড়ায় নিরাপদে বের করে আনাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক অবিচ্ছেদ্য ধমনী। বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই সংকীর্ণ পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরান এই জলপথে কঠোর অবরোধ জারি করে। এর ফলে আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে কয়েক মাস ধরে। আটকা পড়া এই জাহাজগুলোর মধ্যে এমন অনেক দেশের বাণিজ্যিক তরী রয়েছে, যারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এসব দেশ তাদের জাহাজ ও ক্রুদের জীবন রক্ষার্থে মার্কিন নৌবাহিনীর সহযোগিতা চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পুরো অভিযানটিকে একটি ‘মানবিক সহায়তা প্রচেষ্টা’ হিসেবে চিত্রায়িত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে আটকা থাকার কারণে অনেক জাহাজে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাহাজের নিরপরাধ ক্রুদের মুক্ত করা এবং পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করা এখন সময়ের দাবি। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার সকাল থেকেই ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনী এই প্রকল্পের আওতায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সরাসরি নিরাপত্তা দেবে, যাতে তারা নিশ্চিন্তে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারে।
তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যতটা মানবিক, তার চেয়েও বেশি কৌশলগত চাপের ইঙ্গিত বহন করছে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই উদ্ধার অভিযান বা প্রকল্প চলাকালীন যদি কোনো পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা বাধার সৃষ্টি করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ শক্তি’ দিয়ে পাল্টা জবাব দেবে। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ও মার্কিন সামরিক শক্তির সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আশ্বস্ত করে যে, তাদের জাহাজ ও ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র তার সাধ্যমতো চেষ্টা চালাবে। শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্প মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে প্রশমিত করবে নাকি নতুন কোনো যুদ্ধের সূচনা করবে, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে চলছে তুমুল জল্পনা।
সূত্র: এএফপি (AFP)

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত মঞ্চে আবারও এক নাটকীয় মোড় নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি বিশেষ সামরিক ও মানবিক প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সময় রবিবার (৩ মে) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তার মাধ্যমে এই বড়সড় পদক্ষেপের কথা বিশ্ববাসীকে জানান ট্রাম্প। মূলত ইরানের অবরোধের মুখে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহাড়ায় নিরাপদে বের করে আনাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক অবিচ্ছেদ্য ধমনী। বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই সংকীর্ণ পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরান এই জলপথে কঠোর অবরোধ জারি করে। এর ফলে আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে কয়েক মাস ধরে। আটকা পড়া এই জাহাজগুলোর মধ্যে এমন অনেক দেশের বাণিজ্যিক তরী রয়েছে, যারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এসব দেশ তাদের জাহাজ ও ক্রুদের জীবন রক্ষার্থে মার্কিন নৌবাহিনীর সহযোগিতা চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পুরো অভিযানটিকে একটি ‘মানবিক সহায়তা প্রচেষ্টা’ হিসেবে চিত্রায়িত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে আটকা থাকার কারণে অনেক জাহাজে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাহাজের নিরপরাধ ক্রুদের মুক্ত করা এবং পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করা এখন সময়ের দাবি। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার সকাল থেকেই ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনী এই প্রকল্পের আওতায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সরাসরি নিরাপত্তা দেবে, যাতে তারা নিশ্চিন্তে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারে।
তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যতটা মানবিক, তার চেয়েও বেশি কৌশলগত চাপের ইঙ্গিত বহন করছে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই উদ্ধার অভিযান বা প্রকল্প চলাকালীন যদি কোনো পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা বাধার সৃষ্টি করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ শক্তি’ দিয়ে পাল্টা জবাব দেবে। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ও মার্কিন সামরিক শক্তির সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আশ্বস্ত করে যে, তাদের জাহাজ ও ক্রুদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র তার সাধ্যমতো চেষ্টা চালাবে। শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্প মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে প্রশমিত করবে নাকি নতুন কোনো যুদ্ধের সূচনা করবে, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে চলছে তুমুল জল্পনা।
সূত্র: এএফপি (AFP)

আপনার মতামত লিখুন