বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আজ এক আবেগঘন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পার হলেও বিচার না পাওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর ফটকের সামনে আয়োজিত হয় এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে শত শত শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন, যেখানে বক্তাদের কণ্ঠে ঝরেছে বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি।
মো. ফরহাদ হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বরং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারের বিষয়ে প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড কেবল একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং এটি ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর আঘাত। দ্রুততম সময়ের মধ্যে যদি খুনিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে সারা বাংলার মানুষ আবারও রাজপথে নেমে আসবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির সকল দায়ভার রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ইফতেখার সায়েম তার বক্তব্যে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বর্তমান বিচারিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যে মানুষটি আজীবন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তাকে দিনের আলোতে গুলি করে হত্যা করা হলো। অথচ খুনিরা নির্বিঘ্নে সীমান্ত পার হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেল। এটি রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি সাগর-রুনি হত্যা মামলার দীর্ঘসূত্রতার উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে প্রতিবেদন ১১৩ বার পেছানো হয়েছে, আর হাদির ক্ষেত্রেও ইতিমধ্যে ১৩ বার সময় নেওয়া হয়েছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় কতটা উদাসীন।
সমাবেশে সবচেয়ে আবেগপ্রবণ মুহূর্তের সৃষ্টি হয় যখন শহীদ হাদির বোন মাসুমা হাদি মাইক্রোফোন হাতে নেন। কান্নায় ভেঙে না পড়ে বরং দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমরা আজ এখানে কাঁদতে আসিনি, বরং হন্তারকদের বিচার নিশ্চিত করতে এসেছি।" তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, কীভাবে প্রকাশ্যে দিনের বেলা গুলি করে খুনিরা ভারতে পালিয়ে গেল? তিনি খুনি ফয়সালের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে, বড় অংকের টাকার বিনিময়ে এবং সব ধরনের নিশ্চয়তা দিয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ভূমিকাকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ১৬ কোটি মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া নিয়ে যে হাদি ন্যায়ের পথে ছিলেন, তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।
বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করার সময় সাধারণ মানুষের মধ্যেও সংহতির ভাব লক্ষ্য করা যায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ওসমান বিন হাদি ছিলেন সাহসের প্রতীক এবং তার আদর্শকে ধারণ করেই তারা বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা যেন গণবিক্ষোভে রূপ না নেয়, সেই জন্য অবিলম্বে খুনিদের ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আজ এক আবেগঘন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পার হলেও বিচার না পাওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর ফটকের সামনে আয়োজিত হয় এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে শত শত শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন, যেখানে বক্তাদের কণ্ঠে ঝরেছে বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি।
মো. ফরহাদ হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বরং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারের বিষয়ে প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড কেবল একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং এটি ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ওপর আঘাত। দ্রুততম সময়ের মধ্যে যদি খুনিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে সারা বাংলার মানুষ আবারও রাজপথে নেমে আসবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির সকল দায়ভার রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ইফতেখার সায়েম তার বক্তব্যে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বর্তমান বিচারিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যে মানুষটি আজীবন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তাকে দিনের আলোতে গুলি করে হত্যা করা হলো। অথচ খুনিরা নির্বিঘ্নে সীমান্ত পার হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেল। এটি রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি সাগর-রুনি হত্যা মামলার দীর্ঘসূত্রতার উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে প্রতিবেদন ১১৩ বার পেছানো হয়েছে, আর হাদির ক্ষেত্রেও ইতিমধ্যে ১৩ বার সময় নেওয়া হয়েছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় কতটা উদাসীন।
সমাবেশে সবচেয়ে আবেগপ্রবণ মুহূর্তের সৃষ্টি হয় যখন শহীদ হাদির বোন মাসুমা হাদি মাইক্রোফোন হাতে নেন। কান্নায় ভেঙে না পড়ে বরং দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমরা আজ এখানে কাঁদতে আসিনি, বরং হন্তারকদের বিচার নিশ্চিত করতে এসেছি।" তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, কীভাবে প্রকাশ্যে দিনের বেলা গুলি করে খুনিরা ভারতে পালিয়ে গেল? তিনি খুনি ফয়সালের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে, বড় অংকের টাকার বিনিময়ে এবং সব ধরনের নিশ্চয়তা দিয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ভূমিকাকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ১৬ কোটি মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া নিয়ে যে হাদি ন্যায়ের পথে ছিলেন, তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।
বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করার সময় সাধারণ মানুষের মধ্যেও সংহতির ভাব লক্ষ্য করা যায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ওসমান বিন হাদি ছিলেন সাহসের প্রতীক এবং তার আদর্শকে ধারণ করেই তারা বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা যেন গণবিক্ষোভে রূপ না নেয়, সেই জন্য অবিলম্বে খুনিদের ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন