দিকপাল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ চেয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ!


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬ | ০৩:৩৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ চেয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ!

বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু ও কিশোরদের জন্য ফেসবুক, টিকটকসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে সরকারকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে。 বৃহস্পতিবার (৭ মে) লিগ্যাল ভয়েস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরী এই গুরুত্বপূর্ণ নোটিশটি প্রেরণ করেন。 ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-র চেয়ারম্যান বরাবর এই নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে。

নোটিশে অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশে মারাত্মক অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে。 ডিজিটাল এই মাধ্যমগুলোর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও অপব্যবহারের ফলে কোমলমতি শিশুদের মধ্যে এক ধরনের আসক্তি তৈরি হচ্ছে, যা তাদের মাঠের খেলাধুলা এবং নিয়মিত পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত করছে। এর ফলে তারা কেবল দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতেই পড়ছে না, বরং চরম মানসিক অস্থিরতার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য, সুপরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা এবং পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা কিশোরদের নৈতিক মূল্যবোধ ও মানসিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

আইনি এই নোটিশে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে, তা হলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারের কারণে বাড়তে থাকা অপরাধপ্রবণতা。 অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, অনলাইন গেমে আসক্তি এবং ইন্টারনেটের ভুল ব্যবহারের ফলে শিশু-কিশোররা দলবদ্ধ অপরাধ বা কিশোর গ্যাংয়ের মতো ভয়াবহ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে。 ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরী তার নোটিশে উল্লেখ করেন যে, দেশের অধিকাংশ অভিভাবকের ডিজিটাল মাধ্যম সম্পর্কে কারিগরি বা পর্যাপ্ত ধারণা নেই। ফলে তারা চাইলেও তাদের সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম বা স্ক্রিন টাইম কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা。

নোটিশে সরকারকে আগামী ১৫ দিনের একটি আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে。 এই সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং অপব্যবহার রোধে বাস্তবসম্মত ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে, জনস্বার্থে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই নোটিশের ফলে ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে সারাদেশে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত এই বিষয়ে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাবে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ চেয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ!

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু ও কিশোরদের জন্য ফেসবুক, টিকটকসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে সরকারকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে。 বৃহস্পতিবার (৭ মে) লিগ্যাল ভয়েস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরী এই গুরুত্বপূর্ণ নোটিশটি প্রেরণ করেন。 ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-র চেয়ারম্যান বরাবর এই নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে。

নোটিশে অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশে মারাত্মক অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে。 ডিজিটাল এই মাধ্যমগুলোর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও অপব্যবহারের ফলে কোমলমতি শিশুদের মধ্যে এক ধরনের আসক্তি তৈরি হচ্ছে, যা তাদের মাঠের খেলাধুলা এবং নিয়মিত পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত করছে। এর ফলে তারা কেবল দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতেই পড়ছে না, বরং চরম মানসিক অস্থিরতার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য, সুপরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা এবং পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা কিশোরদের নৈতিক মূল্যবোধ ও মানসিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

আইনি এই নোটিশে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে, তা হলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারের কারণে বাড়তে থাকা অপরাধপ্রবণতা。 অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, অনলাইন গেমে আসক্তি এবং ইন্টারনেটের ভুল ব্যবহারের ফলে শিশু-কিশোররা দলবদ্ধ অপরাধ বা কিশোর গ্যাংয়ের মতো ভয়াবহ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে。 ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরী তার নোটিশে উল্লেখ করেন যে, দেশের অধিকাংশ অভিভাবকের ডিজিটাল মাধ্যম সম্পর্কে কারিগরি বা পর্যাপ্ত ধারণা নেই। ফলে তারা চাইলেও তাদের সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম বা স্ক্রিন টাইম কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা。

নোটিশে সরকারকে আগামী ১৫ দিনের একটি আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে。 এই সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং অপব্যবহার রোধে বাস্তবসম্মত ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে, জনস্বার্থে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই নোটিশের ফলে ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে সারাদেশে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত এই বিষয়ে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাবে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল