মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’। পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে উন্মুক্ত করার এই পরিকল্পনা ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন। একে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক ও সামরিক পশ্চাদপসরণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। মূলত পেশিশক্তি প্রদর্শনের নীতি থেকে আপাতত পিছু হটে মার্কিন প্রশাসন যে নমনীয়তার পরিচয় দিয়েছে, তা বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের ক্ষেত্রে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
এই সামরিক অভিযান স্থগিতের টাইমিং বা সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আসন্ন বেইজিং সফরের ঠিক এক সপ্তাহ আগে যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফরে পৌঁছান, ঠিক সেই দিনেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই পিছু হঠার ঘোষণা দেয়। সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হুংদা ফ্যান এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জানিয়েছেন যে, কোনো সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পথ না থাকা এবং বিশ্বজুড়ে প্রবল চাপের কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন আপস করতে বাধ্য হয়েছেন। ট্রাম্পের পুরোনো সেই ‘হুমকি দিয়ে জেতার’ কৌশল হরমুজ প্রণালির ক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন শি-ট্রাম্প শীর্ষ সম্মেলনের আগে আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা কমানোর একটি ব্যাপক চাহিদা ছিল। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আস্থার সংকট যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে বেইজিং এখন একজন প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। চীন তার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা মানচিত্রে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, যেখানে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নেওয়ার বা ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ চর্চার প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
তবে এই কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপের মাঝেও বিশেষজ্ঞরা সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। যদি শেষ পর্যন্ত কূটনীতি ব্যর্থ হয়, তবে এর সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ইরানের ওপর। তবুও ট্রাম্পের বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান দূরত্ব ঘুচিয়ে আনতে চীন একটি যুগান্তকারী সমাধান বা ‘ব্রেকথ্রু’ বয়ে আনতে পারে—এমন প্রত্যাশাই এখন বিশ্ববাসীর। মার্কিন প্রশাসনের এই সাময়িক পিছু হঠা আদতে কোনো বৃহৎ শান্তির পথ প্রশস্ত করছে কি না, তা আগত দিনগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতাই বলে দেবে।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’। পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে উন্মুক্ত করার এই পরিকল্পনা ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে ওয়াশিংটন। একে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক ও সামরিক পশ্চাদপসরণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। মূলত পেশিশক্তি প্রদর্শনের নীতি থেকে আপাতত পিছু হটে মার্কিন প্রশাসন যে নমনীয়তার পরিচয় দিয়েছে, তা বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের ক্ষেত্রে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
এই সামরিক অভিযান স্থগিতের টাইমিং বা সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আসন্ন বেইজিং সফরের ঠিক এক সপ্তাহ আগে যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফরে পৌঁছান, ঠিক সেই দিনেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই পিছু হঠার ঘোষণা দেয়। সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হুংদা ফ্যান এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জানিয়েছেন যে, কোনো সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পথ না থাকা এবং বিশ্বজুড়ে প্রবল চাপের কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন আপস করতে বাধ্য হয়েছেন। ট্রাম্পের পুরোনো সেই ‘হুমকি দিয়ে জেতার’ কৌশল হরমুজ প্রণালির ক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন শি-ট্রাম্প শীর্ষ সম্মেলনের আগে আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা কমানোর একটি ব্যাপক চাহিদা ছিল। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আস্থার সংকট যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে বেইজিং এখন একজন প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। চীন তার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা মানচিত্রে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, যেখানে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নেওয়ার বা ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ চর্চার প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
তবে এই কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপের মাঝেও বিশেষজ্ঞরা সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। যদি শেষ পর্যন্ত কূটনীতি ব্যর্থ হয়, তবে এর সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ইরানের ওপর। তবুও ট্রাম্পের বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান দূরত্ব ঘুচিয়ে আনতে চীন একটি যুগান্তকারী সমাধান বা ‘ব্রেকথ্রু’ বয়ে আনতে পারে—এমন প্রত্যাশাই এখন বিশ্ববাসীর। মার্কিন প্রশাসনের এই সাময়িক পিছু হঠা আদতে কোনো বৃহৎ শান্তির পথ প্রশস্ত করছে কি না, তা আগত দিনগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতাই বলে দেবে।

আপনার মতামত লিখুন