দিকপাল

সায়েদাবাদ টার্মিনালে হট্টগোল তালা ভেঙে কাউন্টার খুলে দিল মালিকপক্ষ


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ | ০৪:১০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সায়েদাবাদ টার্মিনালে হট্টগোল তালা ভেঙে কাউন্টার খুলে দিল মালিকপক্ষ

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত আন্তঃজেলা পরিবহন কেন্দ্র সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে উচ্ছেদ অভিযানের এক মাস না পেরোতেই আবারও চালু হয়েছে বন্ধ করে দেওয়া ২৪০টি বাস কাউন্টার। অভিযোগ উঠেছে, সিলগালা করা কাউন্টারগুলোর তালা ভেঙে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করেছেন বাস মালিক ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের লোকজন। এতে করে টার্মিনাল এলাকায় আবারও আগের মতো বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও কাউন্টার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৮ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে সড়ক দখল, অবৈধ স্থাপনা এবং অনুমোদনহীন কার্যক্রমের অভিযোগে সায়েদাবাদ এলাকায় ২৪০টি বাস কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযানের সময় কয়েকটি কাউন্টার ভেঙেও ফেলা হয় এবং বাকিগুলো সিলগালা করা হয়। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সড়কের ওপর গড়ে ওঠা এসব কাউন্টার যানজট ও জনভোগান্তির অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে বাসগুলোকে সড়ক থেকে সরিয়ে টার্মিনালের ভেতরে আনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তবে অভিযানের কয়েক সপ্তাহ যেতে না যেতেই ধীরে ধীরে আবার খুলতে শুরু করে বন্ধ থাকা কাউন্টারগুলো। বর্তমানে বেশ কয়েকটি কাউন্টারে প্রকাশ্যেই টিকিট বিক্রি চলছে। যাত্রী ওঠানামাও আগের মতোই সড়কের পাশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে— প্রশাসনের অভিযানের কার্যকারিতা কতটুকু ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্যামলী পরিবহনের এক কাউন্টার ব্যবস্থাপক জানান, মালিক সমিতির কিছু প্রতিনিধির উপস্থিতিতেই তালা খোলা হয়েছে। তাদের দাবি, উপরমহলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সাময়িকভাবে আরও তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তারা।

আরেক কাউন্টার ব্যবস্থাপক বলেন, টার্মিনালের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক পরিবহন প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়েই সড়কের পাশে কাউন্টার পরিচালনা করছে। তার ভাষ্য, “ভেতরে বাস রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই, যাত্রীদের বসারও কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই অনেকে নিজস্ব উদ্যোগে সড়কের পাশে কাউন্টার করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।”

এদিকে কাউন্টার খুলে দেওয়ার বিষয়ে সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ডিএসসিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এয়ার কমোডর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার জানিয়েছেন, কাউকে তালা ভাঙার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং তিন মাস সময় দেওয়ার দাবিও সঠিক নয়। তিনি বলেন, “প্রয়োজনে টার্মিনালের ভেতরে কাউন্টারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। পরিবহন মালিকদের যেসব দাবি ছিল, সেগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারপরও তারা নিজেরাই তালা ভেঙে কার্যক্রম শুরু করেছে।”

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সায়েদাবাদ এলাকায় অব্যবস্থাপনা, ফুটপাত ও সড়ক দখল, যত্রতত্র বাস দাঁড় করানো এবং অনিয়ন্ত্রিত কাউন্টার কার্যক্রমের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের অভিযান কিছুটা স্বস্তি দিলেও পুনরায় কাউন্টার চালু হওয়ায় সেই সংকট আবারও ফিরে আসার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, বরং পরিকল্পিত টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


সায়েদাবাদ টার্মিনালে হট্টগোল তালা ভেঙে কাউন্টার খুলে দিল মালিকপক্ষ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত আন্তঃজেলা পরিবহন কেন্দ্র সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে উচ্ছেদ অভিযানের এক মাস না পেরোতেই আবারও চালু হয়েছে বন্ধ করে দেওয়া ২৪০টি বাস কাউন্টার। অভিযোগ উঠেছে, সিলগালা করা কাউন্টারগুলোর তালা ভেঙে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করেছেন বাস মালিক ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের লোকজন। এতে করে টার্মিনাল এলাকায় আবারও আগের মতো বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও কাউন্টার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৮ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে সড়ক দখল, অবৈধ স্থাপনা এবং অনুমোদনহীন কার্যক্রমের অভিযোগে সায়েদাবাদ এলাকায় ২৪০টি বাস কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযানের সময় কয়েকটি কাউন্টার ভেঙেও ফেলা হয় এবং বাকিগুলো সিলগালা করা হয়। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সড়কের ওপর গড়ে ওঠা এসব কাউন্টার যানজট ও জনভোগান্তির অন্যতম কারণ। একই সঙ্গে বাসগুলোকে সড়ক থেকে সরিয়ে টার্মিনালের ভেতরে আনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তবে অভিযানের কয়েক সপ্তাহ যেতে না যেতেই ধীরে ধীরে আবার খুলতে শুরু করে বন্ধ থাকা কাউন্টারগুলো। বর্তমানে বেশ কয়েকটি কাউন্টারে প্রকাশ্যেই টিকিট বিক্রি চলছে। যাত্রী ওঠানামাও আগের মতোই সড়কের পাশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে— প্রশাসনের অভিযানের কার্যকারিতা কতটুকু ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্যামলী পরিবহনের এক কাউন্টার ব্যবস্থাপক জানান, মালিক সমিতির কিছু প্রতিনিধির উপস্থিতিতেই তালা খোলা হয়েছে। তাদের দাবি, উপরমহলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সাময়িকভাবে আরও তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তারা।

আরেক কাউন্টার ব্যবস্থাপক বলেন, টার্মিনালের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক পরিবহন প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়েই সড়কের পাশে কাউন্টার পরিচালনা করছে। তার ভাষ্য, “ভেতরে বাস রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই, যাত্রীদের বসারও কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই অনেকে নিজস্ব উদ্যোগে সড়কের পাশে কাউন্টার করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।”

এদিকে কাউন্টার খুলে দেওয়ার বিষয়ে সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ডিএসসিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এয়ার কমোডর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার জানিয়েছেন, কাউকে তালা ভাঙার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং তিন মাস সময় দেওয়ার দাবিও সঠিক নয়। তিনি বলেন, “প্রয়োজনে টার্মিনালের ভেতরে কাউন্টারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। পরিবহন মালিকদের যেসব দাবি ছিল, সেগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারপরও তারা নিজেরাই তালা ভেঙে কার্যক্রম শুরু করেছে।”

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সায়েদাবাদ এলাকায় অব্যবস্থাপনা, ফুটপাত ও সড়ক দখল, যত্রতত্র বাস দাঁড় করানো এবং অনিয়ন্ত্রিত কাউন্টার কার্যক্রমের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের অভিযান কিছুটা স্বস্তি দিলেও পুনরায় কাউন্টার চালু হওয়ায় সেই সংকট আবারও ফিরে আসার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, বরং পরিকল্পিত টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই।




দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল