দীর্ঘদিন ধরে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই প্রচেষ্টা সফল না হলেও এবার দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে ১৩ দশমিক ৫ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ভেনেজুয়েলার একটি পুরনো গবেষণা চুল্লি থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে অপসারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ভেনেজুয়েলার সমন্বয়ে পরিচালিত একটি বিশেষ যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের অধীন জাতীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রশাসনের (এনএনএসএ) প্রধান ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস এ বিষয়ে বলেন, “ভেনেজুয়েলা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে অপসারণ শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তাও বহন করছে। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, ভেনেজুয়েলা আবারও বৈশ্বিক কূটনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে।”
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই অভিযানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। ইউরেনিয়াম প্রথমে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থলপথে সরিয়ে নেওয়া হয়, পরে সমুদ্রপথে উত্তর আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সবশেষে তা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত জ্বালানি বিভাগের একটি বিশেষায়িত স্থাপনায় সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী হওয়ায় এ ধরনের উপাদান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এসব উপকরণ নিরাপদে সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। তবে পরে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে যোগাযোগ বাড়তে শুরু করে। কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা ভেনেজুয়েলা সফর করেন এবং দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাস পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেয়, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরেনিয়াম অপসারণের এই যৌথ অভিযান শুধু পারমাণবিক নিরাপত্তা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়েরও প্রতীক হতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই প্রচেষ্টা সফল না হলেও এবার দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে ১৩ দশমিক ৫ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ভেনেজুয়েলার একটি পুরনো গবেষণা চুল্লি থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে অপসারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ভেনেজুয়েলার সমন্বয়ে পরিচালিত একটি বিশেষ যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের অধীন জাতীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রশাসনের (এনএনএসএ) প্রধান ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস এ বিষয়ে বলেন, “ভেনেজুয়েলা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে অপসারণ শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তাও বহন করছে। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, ভেনেজুয়েলা আবারও বৈশ্বিক কূটনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে।”
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই অভিযানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। ইউরেনিয়াম প্রথমে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থলপথে সরিয়ে নেওয়া হয়, পরে সমুদ্রপথে উত্তর আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সবশেষে তা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত জ্বালানি বিভাগের একটি বিশেষায়িত স্থাপনায় সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী হওয়ায় এ ধরনের উপাদান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এসব উপকরণ নিরাপদে সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। তবে পরে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে যোগাযোগ বাড়তে শুরু করে। কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা ভেনেজুয়েলা সফর করেন এবং দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাস পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেয়, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরেনিয়াম অপসারণের এই যৌথ অভিযান শুধু পারমাণবিক নিরাপত্তা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়েরও প্রতীক হতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আপনার মতামত লিখুন