দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং স্থানীয়ভাবে তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে নতুন করে স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ ঘোষণায় প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম আরও ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ মূল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এ দর ঘোষণা করে। সংগঠনটি জানায়, ওইদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং আজ রোববার (১০ মে) দেশের বাজারে একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতি, ডলারের বিনিময় হার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ছে। ফলে স্বর্ণের দাম প্রায়ই পরিবর্তন হচ্ছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০০ টাকা ১৩ টাকার কাছাকাছি এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।
এর আগে গত ৬ মে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিনও প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিয়ের মৌসুম ও বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার কারণেও বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। অনেকেই ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়তে পারে—এই আশঙ্কায় আগেভাগেই স্বর্ণ কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এতে বাজারে চাহিদা আরও বেড়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৩৫ দফা দাম বেড়েছে এবং ২৮ দফা কমেছে। শুধু ২০২৫ সালেই মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। ঘন ঘন এই মূল্য পরিবর্তনের কারণে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়তে থাকলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং স্থানীয়ভাবে তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে নতুন করে স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ ঘোষণায় প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম আরও ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ মূল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এ দর ঘোষণা করে। সংগঠনটি জানায়, ওইদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং আজ রোববার (১০ মে) দেশের বাজারে একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতি, ডলারের বিনিময় হার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ছে। ফলে স্বর্ণের দাম প্রায়ই পরিবর্তন হচ্ছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০০ টাকা ১৩ টাকার কাছাকাছি এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।
এর আগে গত ৬ মে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিনও প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিয়ের মৌসুম ও বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার কারণেও বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। অনেকেই ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়তে পারে—এই আশঙ্কায় আগেভাগেই স্বর্ণ কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এতে বাজারে চাহিদা আরও বেড়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৩৫ দফা দাম বেড়েছে এবং ২৮ দফা কমেছে। শুধু ২০২৫ সালেই মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। ঘন ঘন এই মূল্য পরিবর্তনের কারণে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়তে থাকলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন