বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কেবল অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বিশ্বাস করেন, দুই দেশের মধ্যে প্রকৃত আস্থার সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) রাজধানীর ঢাকায় আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমান বিশ্বের অস্থির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাবিশ্ব যখন এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যখন যুদ্ধ আর পারস্পরিক অবিশ্বাসে বৈশ্বিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ ও চীনের মতো পরীক্ষিত বন্ধুদের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করা সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের কর্মতৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দুই দেশের কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীন যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে, তা বাংলাদেশের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারে। ড. এহছানুল হক মিলন মনে করেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় এই বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য অর্জনে চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং কারিগরি দক্ষতা বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর ‘রোল মডেল’ হতে পারে।
দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্ব আজ নতুন নয়; বরং বছরের পর বছর ধরে তা ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ করতে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে দেশীয় শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে এবং উভয় দেশের শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে নিয়মিত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পথ প্রশস্ত হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আগামীতে শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ অবকাঠামো যতটাই উন্নত হোক না কেন, যদি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি না হয়, তবে সেই উন্নয়ন স্থায়ী হবে না। তাই মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগকেই সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চীনের সঙ্গে এই কৌশলগত এবং শিক্ষাভিত্তিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কেবল অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বিশ্বাস করেন, দুই দেশের মধ্যে প্রকৃত আস্থার সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) রাজধানীর ঢাকায় আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমান বিশ্বের অস্থির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাবিশ্ব যখন এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যখন যুদ্ধ আর পারস্পরিক অবিশ্বাসে বৈশ্বিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ ও চীনের মতো পরীক্ষিত বন্ধুদের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করা সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের কর্মতৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দুই দেশের কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীন যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে, তা বাংলাদেশের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারে। ড. এহছানুল হক মিলন মনে করেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় এই বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য অর্জনে চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং কারিগরি দক্ষতা বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর ‘রোল মডেল’ হতে পারে।
দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্ব আজ নতুন নয়; বরং বছরের পর বছর ধরে তা ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ করতে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে দেশীয় শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে এবং উভয় দেশের শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে নিয়মিত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পথ প্রশস্ত হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আগামীতে শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ অবকাঠামো যতটাই উন্নত হোক না কেন, যদি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি না হয়, তবে সেই উন্নয়ন স্থায়ী হবে না। তাই মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগকেই সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চীনের সঙ্গে এই কৌশলগত এবং শিক্ষাভিত্তিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন