দিকপাল

গভীর রাতে ভূমিকম্প, মিয়ানমারের সঙ্গে কেঁপে উঠল বাংলাদেশও


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ১১ মে ২০২৬ | ০৮:৩৩ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

গভীর রাতে ভূমিকম্প, মিয়ানমারের সঙ্গে কেঁপে উঠল বাংলাদেশও

মিয়ানমারে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের কম্পন গভীর রাতে বাংলাদেশেও অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সেকেন্ড ধরে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের কম্পন অনুভব করেন বাসিন্দারা। হঠাৎ মধ্যরাতে ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

রোববার দিবাগত রাত ১টা ৩৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানিয়েছে জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ দশমিক ৪৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯৩ দশমিক ৯৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সিদোকতাইয়া এলাকার প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত কিংবা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও রাতের এই আকস্মিক কম্পনে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ করেই দরজা-জানালা কাঁপতে শুরু করে এবং কয়েক সেকেন্ডের জন্য পুরো ভবন দুলে ওঠার মতো অনুভূতি হয়। অনেকেই প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের পোস্ট দেখে ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত হন। কেউ কেউ নিরাপত্তার জন্য বাসা ছেড়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় মাঝেমধ্যেই এমন কম্পন অনুভূত হয়। তবে অগভীর গভীরতায় ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বেশি অনুভূত হয়। এবারের ভূমিকম্পের গভীরতা কম থাকায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও কম্পন স্পষ্টভাবে টের পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগের দিন শনিবার বিকেলেও দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আরেকটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিকাল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে হওয়া সেই কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসামের বিলাসিপাড়া এলাকা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪ থেকে ৪ দশমিক ৫ এর মধ্যে।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৪ দশমিক ৫ উল্লেখ করলেও ইউএসজিএস জানায়, এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা কম হওয়ায় সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের জেলাগুলোতে কম্পন বেশি অনুভূত হয়েছে।

লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ওই কম্পনে ঘরের আসবাবপত্র কেঁপে ওঠে। যদিও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে পরপর দুই দিনের ভূমিকম্পে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় এ ধরনের কম্পনকে গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীল নকশা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।

বিষয় : ভূমিকম্প মিয়ানমার বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


গভীর রাতে ভূমিকম্প, মিয়ানমারের সঙ্গে কেঁপে উঠল বাংলাদেশও

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

মিয়ানমারে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের কম্পন গভীর রাতে বাংলাদেশেও অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সেকেন্ড ধরে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের কম্পন অনুভব করেন বাসিন্দারা। হঠাৎ মধ্যরাতে ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

রোববার দিবাগত রাত ১টা ৩৬ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানিয়েছে জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ দশমিক ৪৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯৩ দশমিক ৯৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সিদোকতাইয়া এলাকার প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত কিংবা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও রাতের এই আকস্মিক কম্পনে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ করেই দরজা-জানালা কাঁপতে শুরু করে এবং কয়েক সেকেন্ডের জন্য পুরো ভবন দুলে ওঠার মতো অনুভূতি হয়। অনেকেই প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের পোস্ট দেখে ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত হন। কেউ কেউ নিরাপত্তার জন্য বাসা ছেড়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় মাঝেমধ্যেই এমন কম্পন অনুভূত হয়। তবে অগভীর গভীরতায় ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বেশি অনুভূত হয়। এবারের ভূমিকম্পের গভীরতা কম থাকায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও কম্পন স্পষ্টভাবে টের পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগের দিন শনিবার বিকেলেও দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আরেকটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিকাল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে হওয়া সেই কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসামের বিলাসিপাড়া এলাকা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪ থেকে ৪ দশমিক ৫ এর মধ্যে।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৪ দশমিক ৫ উল্লেখ করলেও ইউএসজিএস জানায়, এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা কম হওয়ায় সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের জেলাগুলোতে কম্পন বেশি অনুভূত হয়েছে।

লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ওই কম্পনে ঘরের আসবাবপত্র কেঁপে ওঠে। যদিও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে পরপর দুই দিনের ভূমিকম্পে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় এ ধরনের কম্পনকে গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীল নকশা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল