দিকপাল

উন্নয়ন ও সংকটে ঢাকার পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার বেইজিংয়ের


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬ | ০৫:৩৪ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

উন্নয়ন ও সংকটে ঢাকার পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার বেইজিংয়ের

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে এক অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছে উল্লেখ করে ঢাকার সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সংকটে বেইজিং সর্বদা পাশে থাকবে বলে দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং জনকল্যাণমূলক প্রতিটি উদ্যোগে চীন তার সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রশ্নে চীন সবসময়ই ঢাকার প্রতি তার অটল সমর্থন বজায় রাখবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ গভর্নেন্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। বর্তমান সরকারের অধীনে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি নিবিড় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর এবং প্রথমবারের মতো দুই দেশের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক। ইয়াও ওয়েন আরও জানান, আগামী জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফরকে বেইজিং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। এই সফর দুই দেশের ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে’ এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীনের সরাসরি অবদানের চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র কয়েক মাসেই চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই বিনিয়োগের ফলে ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শুধু বিনিয়োগই নয়, তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আবাসিক হল নির্মাণের মতো বৃহৎ ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে চীন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবুজ শক্তি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য-প্রযুক্তি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল খাতেও বেইজিং তার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আগ্রহী।

দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় সংযোগ বা ‘পিপল-টু-পিপল কন্টাক্ট’ বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার বাংলাদেশিকে চীনের ভিসা প্রদান করা হয়েছে এবং বছরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে ৪৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে, যা ব্যবসা ও শিক্ষা খাতের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দুটি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদূত মনে করেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাবে, বিশেষ করে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং তৃণমূল পর্যায়ের সুশাসনে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬


উন্নয়ন ও সংকটে ঢাকার পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার বেইজিংয়ের

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে এক অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছে উল্লেখ করে ঢাকার সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সংকটে বেইজিং সর্বদা পাশে থাকবে বলে দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং জনকল্যাণমূলক প্রতিটি উদ্যোগে চীন তার সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রশ্নে চীন সবসময়ই ঢাকার প্রতি তার অটল সমর্থন বজায় রাখবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ গভর্নেন্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। বর্তমান সরকারের অধীনে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি নিবিড় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর এবং প্রথমবারের মতো দুই দেশের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক। ইয়াও ওয়েন আরও জানান, আগামী জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য চীন সফরকে বেইজিং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। এই সফর দুই দেশের ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে’ এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীনের সরাসরি অবদানের চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র কয়েক মাসেই চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই বিনিয়োগের ফলে ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শুধু বিনিয়োগই নয়, তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আবাসিক হল নির্মাণের মতো বৃহৎ ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে চীন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবুজ শক্তি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য-প্রযুক্তি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল খাতেও বেইজিং তার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আগ্রহী।

দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় সংযোগ বা ‘পিপল-টু-পিপল কন্টাক্ট’ বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার বাংলাদেশিকে চীনের ভিসা প্রদান করা হয়েছে এবং বছরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে ৪৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে, যা ব্যবসা ও শিক্ষা খাতের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দুটি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদূত মনে করেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাবে, বিশেষ করে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং তৃণমূল পর্যায়ের সুশাসনে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে।




দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল