দিকপাল

ডাকাত আতঙ্কে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাতভর চিরুনি অভিযান


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ | ১১:০০ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ডাকাত আতঙ্কে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাতভর চিরুনি অভিযান

দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে অপরাধমুক্ত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক বিশাল যৌথ মহড়া ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুরু করে শুক্রবারের প্রথম প্রহর পর্যন্ত অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাসুদ আলম পিপিএম-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সম্মিলিতভাবে এই অভিযানে অংশ নেয়। মূলত মহাসড়কের নির্জন স্থানগুলোতে ডাকাতি, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তৎপরতা নির্মূল করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মহাসড়কের কিছু পয়েন্টে অপরাধীদের আনাগোনা এবং যাত্রীদের মাঝে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হওয়ার তথ্য পায় পুলিশ প্রশাসন। যাত্রী সাধারণ এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় একযোগে এই বিশাল মহড়া চালানো হয়। অভিযানের সময় মহাসড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি বসানো হয়। সেখানে সন্দেহভাজন প্রতিটি যানবাহন, মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিদের নিবিড়ভাবে তল্লাশি করা হয়েছে। পুলিশের এই তৎপরতা শুধুমাত্র তল্লাশিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং মহাসড়কের অন্ধকার ও নির্জন এলাকাগুলোতে বিশেষ টহল দল নিয়োগ করে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাতভর চলা এই বিশেষ অভিযানে পুলিশ সুপারের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম এবং সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইসহ পার্শ্ববর্তী থানাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মহাসড়কের নিরাপত্তা এখন তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে মাঠ পর্যায়ে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসার সাথে সাথে পুলিশকে অবহিত করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, নিয়মিত টহল ও চেকপোস্টের মাধ্যমে অপরাধীদের পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

মহাসড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী চালক ও যাত্রীরা পুলিশের এই চিরুনি অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষ করে গভীর রাতে যারা চলাচল করেন, তারা পুলিশের এমন দৃশ্যমান উপস্থিতি দেখে নিজেদের নিরাপদ বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নতুন পুলিশ সুপার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অপরাধ দমনে এক ধরনের কঠোর নীতি গ্রহণ করেছেন, যার প্রতিফলন এই বিশাল অভিযানে দেখা গেছে। মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও ডাকাতি রোধে জেলা পুলিশের এই অনড় অবস্থান ভবিষ্যতে অপরাধীদের দমনে এক শক্তিশালী বার্তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


ডাকাত আতঙ্কে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাতভর চিরুনি অভিযান

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে অপরাধমুক্ত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক বিশাল যৌথ মহড়া ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুরু করে শুক্রবারের প্রথম প্রহর পর্যন্ত অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। চট্টগ্রাম জেলার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাসুদ আলম পিপিএম-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সম্মিলিতভাবে এই অভিযানে অংশ নেয়। মূলত মহাসড়কের নির্জন স্থানগুলোতে ডাকাতি, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তৎপরতা নির্মূল করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মহাসড়কের কিছু পয়েন্টে অপরাধীদের আনাগোনা এবং যাত্রীদের মাঝে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হওয়ার তথ্য পায় পুলিশ প্রশাসন। যাত্রী সাধারণ এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় একযোগে এই বিশাল মহড়া চালানো হয়। অভিযানের সময় মহাসড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি বসানো হয়। সেখানে সন্দেহভাজন প্রতিটি যানবাহন, মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিদের নিবিড়ভাবে তল্লাশি করা হয়েছে। পুলিশের এই তৎপরতা শুধুমাত্র তল্লাশিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং মহাসড়কের অন্ধকার ও নির্জন এলাকাগুলোতে বিশেষ টহল দল নিয়োগ করে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাতভর চলা এই বিশেষ অভিযানে পুলিশ সুপারের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম এবং সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইসহ পার্শ্ববর্তী থানাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মহাসড়কের নিরাপত্তা এখন তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে মাঠ পর্যায়ে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসার সাথে সাথে পুলিশকে অবহিত করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, নিয়মিত টহল ও চেকপোস্টের মাধ্যমে অপরাধীদের পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

মহাসড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী চালক ও যাত্রীরা পুলিশের এই চিরুনি অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষ করে গভীর রাতে যারা চলাচল করেন, তারা পুলিশের এমন দৃশ্যমান উপস্থিতি দেখে নিজেদের নিরাপদ বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নতুন পুলিশ সুপার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অপরাধ দমনে এক ধরনের কঠোর নীতি গ্রহণ করেছেন, যার প্রতিফলন এই বিশাল অভিযানে দেখা গেছে। মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও ডাকাতি রোধে জেলা পুলিশের এই অনড় অবস্থান ভবিষ্যতে অপরাধীদের দমনে এক শক্তিশালী বার্তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল