বিশ্ববিখ্যাত ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার অকাল মৃত্যু সংক্রান্ত মামলার চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার আদালতে এক চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য দিয়েছেন তার এক সময়ের অতি ঘনিষ্ঠ চিকিৎসক। আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ম্যারাডোনার শেষ দিনগুলোতে যদি তাকে সাধারণ একটি মূত্রবর্ধক ওষুধ দেওয়া হতো, তবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে তার শারীরিক অবস্থার অভাবনীয় উন্নতি হতে পারত এবং হয়তো তাকে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না।
২০০০ সালের শুরুর দিকে ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবং ২০২০ সালে তার মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মারিও শিটার আদালতে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। বিচারকের পক্ষ থেকে যখন জানতে চাওয়া হয় যে, শেষ দিনগুলোতে ম্যারাডোনার মৃত্যু কীভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল, তখন এই নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের মতামত তুলে ধরেন। তিনি আদালতকে বলেন, প্রতিদিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে এমন অসংখ্য রোগী আসেন যারা হৃদযন্ত্রের নানা জটিলতা বা কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলারে আক্রান্ত। এই ধরনের রোগীদের শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে যায়, যা সাধারণ কিছু মূত্রবর্ধক ওষুধের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেওয়া সম্ভব। চিকিৎসকদের অবহেলা না থাকলে হয়তো ম্যারাডোনাও মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে সুস্থ হয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে পারতেন।
সান ইসিদ্রো আদালতে চলমান এই হাইপ্রোফাইল মামলায় বর্তমানে সাতজন স্বাস্থ্যকর্মী চরম চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন। চিকিৎসায় মারাত্মক গাফিলতির এই অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।
ডা. শিটারের সাক্ষ্য দেওয়ার আগে আরও বেশ কয়েকজন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ আদালতে একই ধরনের জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুর পূর্বে ম্যারাডোনার শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত তরল বা পানি জমে গিয়েছিল। ময়নাতদন্তে অংশ নেওয়া অপর এক চিকিৎসক কার্লোস কাসিনেল্লি আদালতকে জানান, ফুটবল ঈশ্বরের দেহের প্রায় প্রতিটি অংশে পানি জমে ফুলে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে লিটার লিটার তরল পদার্থ জমতে অন্তত এক সপ্তাহ থেকে দশ দিন সময় লাগার কথা। আর এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের বিষয়টি নজরে আসা উচিত ছিল এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, যা তারা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।
১৯৮৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বমঞ্চে শিরোপা জেতানো এই মহানায়ক ২০২০ সালে বুয়েনোস আইরেসের উত্তরের একটি ভাড়া বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তার ফুসফুসে পানি জমেছিল এবং শেষ পর্যন্ত হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর ম্যারাডোনা নিজেই কোনো বড় হাসপাতালের বদলে ঘরোয়া পরিবেশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ডা. শিটার শুরু থেকেই ম্যারাডোনার এই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন বলে আদালতে উল্লেখ করেন।

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
বিশ্ববিখ্যাত ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার অকাল মৃত্যু সংক্রান্ত মামলার চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার আদালতে এক চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য দিয়েছেন তার এক সময়ের অতি ঘনিষ্ঠ চিকিৎসক। আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ম্যারাডোনার শেষ দিনগুলোতে যদি তাকে সাধারণ একটি মূত্রবর্ধক ওষুধ দেওয়া হতো, তবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে তার শারীরিক অবস্থার অভাবনীয় উন্নতি হতে পারত এবং হয়তো তাকে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না।
২০০০ সালের শুরুর দিকে ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবং ২০২০ সালে তার মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মারিও শিটার আদালতে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। বিচারকের পক্ষ থেকে যখন জানতে চাওয়া হয় যে, শেষ দিনগুলোতে ম্যারাডোনার মৃত্যু কীভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল, তখন এই নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের মতামত তুলে ধরেন। তিনি আদালতকে বলেন, প্রতিদিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে এমন অসংখ্য রোগী আসেন যারা হৃদযন্ত্রের নানা জটিলতা বা কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলারে আক্রান্ত। এই ধরনের রোগীদের শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে যায়, যা সাধারণ কিছু মূত্রবর্ধক ওষুধের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেওয়া সম্ভব। চিকিৎসকদের অবহেলা না থাকলে হয়তো ম্যারাডোনাও মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে সুস্থ হয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে পারতেন।
সান ইসিদ্রো আদালতে চলমান এই হাইপ্রোফাইল মামলায় বর্তমানে সাতজন স্বাস্থ্যকর্মী চরম চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন। চিকিৎসায় মারাত্মক গাফিলতির এই অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।
ডা. শিটারের সাক্ষ্য দেওয়ার আগে আরও বেশ কয়েকজন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ আদালতে একই ধরনের জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুর পূর্বে ম্যারাডোনার শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত তরল বা পানি জমে গিয়েছিল। ময়নাতদন্তে অংশ নেওয়া অপর এক চিকিৎসক কার্লোস কাসিনেল্লি আদালতকে জানান, ফুটবল ঈশ্বরের দেহের প্রায় প্রতিটি অংশে পানি জমে ফুলে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে লিটার লিটার তরল পদার্থ জমতে অন্তত এক সপ্তাহ থেকে দশ দিন সময় লাগার কথা। আর এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের বিষয়টি নজরে আসা উচিত ছিল এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, যা তারা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।
১৯৮৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বমঞ্চে শিরোপা জেতানো এই মহানায়ক ২০২০ সালে বুয়েনোস আইরেসের উত্তরের একটি ভাড়া বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তার ফুসফুসে পানি জমেছিল এবং শেষ পর্যন্ত হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর ম্যারাডোনা নিজেই কোনো বড় হাসপাতালের বদলে ঘরোয়া পরিবেশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ডা. শিটার শুরু থেকেই ম্যারাডোনার এই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন বলে আদালতে উল্লেখ করেন।

আপনার মতামত লিখুন