দিকপাল

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬: ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৪টি মুসলিম দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ | ১০:২০ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬: ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৪টি মুসলিম দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপে এবার এক অভাবনীয় দৃশ্যপট রচিত হতে যাচ্ছে। ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে আসন্ন এই মহাযজ্ঞে অংশ নিতে যাচ্ছে বিশ্বের মোট ১৪টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষক ও গণমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, বিশ্বকাপের দীর্ঘ পথচলায় এর আগে কখনও এত অধিকসংখ্যক মুসলিম রাষ্ট্রের উপস্থিতি দেখা যায়নি। মূলত ফুটবলের বিশ্বায়নকে আরও ছড়িয়ে দিতে ফিফার প্রবর্তিত ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাট এই ব্যাপক অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করেছে। গত ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে যেখানে মাত্র ছয়টি মুসলিম দেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, সেখানে এবার সেই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১৪-তে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ বিশ্বকাপের মূল আসরের প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গাই এবার মুসলিম দেশগুলোর দখলে।

মহাদেশভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফুটবল বিশ্বের উদীয়মান শক্তি হিসেবে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ থেকে সমানসংখ্যক অর্থাৎ ছয়টি করে মুসলিম রাষ্ট্র চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। এশিয়া থেকে মাঠ মাতাতে আসছে শক্তিশালী সৌদি আরব, কাতার, ইরান ও ইরাকের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নজর কাড়া উজবেকিস্তান ও জর্ডান। অন্যদিকে ফুটবলের উর্বর ভূমি আফ্রিকা মহাদেশ থেকে যোগ্যতা অর্জন করেছে নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, মিশর, সেনেগাল, তিউনিসিয়া এবং গত আসরের চমক মরক্কো। ইউরোপীয় ফুটবলের আঙিনা থেকে তুরস্ক এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে। তবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবার মূল পর্বে জায়গা করতে পারেনি।

এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো বেশ কিছু দেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। প্রায় চার দশক অর্থাৎ ৪০ বছর পর ইরাক পুনরায় বিশ্বমঞ্চে ফেরার টিকিট পেয়েছে, যা দেশটির ফুটবল প্রেমীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। একইভাবে দীর্ঘ ২৪ বছরের খরা কাটিয়ে তুরস্কের মতো লড়াকু দলের ফিরে আসা ইউরোপীয় ফুটবলে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করবে। পাশাপাশি মরক্কোকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল কাজ করছে। গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে তারা যেভাবে ইতিহাস গড়েছিল, এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও বড় কোনো চমক দেখাবে কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ কেবল ফুটবল লড়াই নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ক্রীড়া সামর্থ্য প্রদর্শনের এক অনন্য ক্ষেত্র হয়ে উঠবে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬: ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৪টি মুসলিম দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপে এবার এক অভাবনীয় দৃশ্যপট রচিত হতে যাচ্ছে। ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে আসন্ন এই মহাযজ্ঞে অংশ নিতে যাচ্ছে বিশ্বের মোট ১৪টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিশ্লেষক ও গণমাধ্যমগুলোর দাবি অনুযায়ী, বিশ্বকাপের দীর্ঘ পথচলায় এর আগে কখনও এত অধিকসংখ্যক মুসলিম রাষ্ট্রের উপস্থিতি দেখা যায়নি। মূলত ফুটবলের বিশ্বায়নকে আরও ছড়িয়ে দিতে ফিফার প্রবর্তিত ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাট এই ব্যাপক অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করেছে। গত ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে যেখানে মাত্র ছয়টি মুসলিম দেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, সেখানে এবার সেই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১৪-তে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ বিশ্বকাপের মূল আসরের প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গাই এবার মুসলিম দেশগুলোর দখলে।

মহাদেশভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফুটবল বিশ্বের উদীয়মান শক্তি হিসেবে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ থেকে সমানসংখ্যক অর্থাৎ ছয়টি করে মুসলিম রাষ্ট্র চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। এশিয়া থেকে মাঠ মাতাতে আসছে শক্তিশালী সৌদি আরব, কাতার, ইরান ও ইরাকের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নজর কাড়া উজবেকিস্তান ও জর্ডান। অন্যদিকে ফুটবলের উর্বর ভূমি আফ্রিকা মহাদেশ থেকে যোগ্যতা অর্জন করেছে নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, মিশর, সেনেগাল, তিউনিসিয়া এবং গত আসরের চমক মরক্কো। ইউরোপীয় ফুটবলের আঙিনা থেকে তুরস্ক এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে। তবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবার মূল পর্বে জায়গা করতে পারেনি।

এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো বেশ কিছু দেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। প্রায় চার দশক অর্থাৎ ৪০ বছর পর ইরাক পুনরায় বিশ্বমঞ্চে ফেরার টিকিট পেয়েছে, যা দেশটির ফুটবল প্রেমীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। একইভাবে দীর্ঘ ২৪ বছরের খরা কাটিয়ে তুরস্কের মতো লড়াকু দলের ফিরে আসা ইউরোপীয় ফুটবলে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করবে। পাশাপাশি মরক্কোকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল কাজ করছে। গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে তারা যেভাবে ইতিহাস গড়েছিল, এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও বড় কোনো চমক দেখাবে কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ কেবল ফুটবল লড়াই নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ক্রীড়া সামর্থ্য প্রদর্শনের এক অনন্য ক্ষেত্র হয়ে উঠবে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল