দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নেতৃত্ব, নাগরিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের একটি বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আগামী প্রজন্মকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী দেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষা কাঠামো ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘোষণা করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে আগামী প্রজন্মকে দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির কথা বিবেচনা করে সুষম ও পুষ্টিকর দুপুরের খাবার বা মিড-ডে মিল চালুর কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে সরকার। উপস্থিত খুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আজকের এই আয়োজন কেবল কিছু শিক্ষার্থীর মিলনমেলা নয়, বরং এটি আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের সুদক্ষ রাষ্ট্রনায়ক ও নেতাদের সূতিকাগার। এখান থেকেই এমন এক আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম তৈরি হবে, যারা কেবল দেশের ভেতরেই নয়, বরং পুরো বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে।
শিক্ষার পরিবেশকে আনন্দময় করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমে শিশুদের ওপর থেকে পরীক্ষার ও বড় বড় বইয়ের মানসিক চাপ পুরোপুরি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুদের শৈশব হচ্ছে আনন্দের মাধ্যমে খেলার ছলে শেখার সময়, তাদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার দিন এখন শেষ। নতুন শিক্ষাক্রমকে এমনভাবে ঢেলে সাজানো হচ্ছে যাতে প্রতিটি শিশু গল্প, সৃজনশীলতা ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে বাস্তবমুখী জ্ঞান ও জীবনমুখী দক্ষতা অর্জন করতে পারে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কেবল মুখস্থ বিদ্যা শিখবে না, বরং কীভাবে একজন আদর্শ নাগরিক হতে হয়, কীভাবে নিজের ঘরবাড়ি, বিদ্যালয় ও চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হয় এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নিজের দায়িত্ব কীভাবে পালন করতে হয়—তা ছোটবেলা থেকেই বাস্তব অনুশীলনের মাধ্যমে শিখতে পারবে।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে সারা দেশ থেকে আগত কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মনোনীত ৫৭ জন খুদে সদস্যকে বিশেষ জাতীয় সম্মাননা পদকে ভূষিত করা হয়। প্রতিমন্ত্রী এই পুরস্কারপ্রাপ্ত সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই অর্জন দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত হতে এবং নিজেদের মেধার বিকাশ ঘটাতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে। বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, অভিভাবক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নেতৃত্ব, নাগরিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের একটি বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আগামী প্রজন্মকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী দেশের ভবিষ্যৎ শিক্ষা কাঠামো ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘোষণা করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে আগামী প্রজন্মকে দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির কথা বিবেচনা করে সুষম ও পুষ্টিকর দুপুরের খাবার বা মিড-ডে মিল চালুর কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে সরকার। উপস্থিত খুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আজকের এই আয়োজন কেবল কিছু শিক্ষার্থীর মিলনমেলা নয়, বরং এটি আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের সুদক্ষ রাষ্ট্রনায়ক ও নেতাদের সূতিকাগার। এখান থেকেই এমন এক আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম তৈরি হবে, যারা কেবল দেশের ভেতরেই নয়, বরং পুরো বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে।
শিক্ষার পরিবেশকে আনন্দময় করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমে শিশুদের ওপর থেকে পরীক্ষার ও বড় বড় বইয়ের মানসিক চাপ পুরোপুরি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুদের শৈশব হচ্ছে আনন্দের মাধ্যমে খেলার ছলে শেখার সময়, তাদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনার বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার দিন এখন শেষ। নতুন শিক্ষাক্রমকে এমনভাবে ঢেলে সাজানো হচ্ছে যাতে প্রতিটি শিশু গল্প, সৃজনশীলতা ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে বাস্তবমুখী জ্ঞান ও জীবনমুখী দক্ষতা অর্জন করতে পারে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কেবল মুখস্থ বিদ্যা শিখবে না, বরং কীভাবে একজন আদর্শ নাগরিক হতে হয়, কীভাবে নিজের ঘরবাড়ি, বিদ্যালয় ও চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হয় এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নিজের দায়িত্ব কীভাবে পালন করতে হয়—তা ছোটবেলা থেকেই বাস্তব অনুশীলনের মাধ্যমে শিখতে পারবে।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে সারা দেশ থেকে আগত কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মনোনীত ৫৭ জন খুদে সদস্যকে বিশেষ জাতীয় সম্মাননা পদকে ভূষিত করা হয়। প্রতিমন্ত্রী এই পুরস্কারপ্রাপ্ত সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই অর্জন দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত হতে এবং নিজেদের মেধার বিকাশ ঘটাতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে। বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, অভিভাবক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন