দিকপাল

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা অভিযোগে উত্তাল ক্যাম্পাস, প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ | ০২:৩১ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা অভিযোগে উত্তাল ক্যাম্পাস, প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্তের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার দায়ে উপাচার্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবিতে এক উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি দল আজ রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকসহ ভেতরের একটি প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এই আকস্মিক অবরোধ কর্মসূচির কারণে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়লেও আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন যে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো কাজে যেন ভোগান্তি না হয়, সেই লক্ষ্যে বিশেষ প্রয়োজনে তাদের ভেতরে ঢোকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে সেখানে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহমিদা মুন নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, প্রশাসনের কাছে তাদের পূর্বঘোষিত সুনির্দিষ্ট ছয়টি দাবি ছিল। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান ও প্রথম দাবি ছিল—অনতিবিলম্বে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেই চিহ্নিত ধর্ষককে গ্রেপ্তার করতে হবে। প্রশাসন যদি এই সময়ের মধ্যে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো প্রক্টোরিয়াল বডিকে নৈতিক দায়িত্ব স্বীকার করে অনতিবিলম্ব পদত্যাগ করতে হবে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, বর্তমান প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে একের পর এক যে সমস্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে চলেছে, তার মূল দায়ভার আসলে কার? তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রশাসন সশরীরে তাদের সামনে এসে ধর্ষককে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি কঠোরভাবে বহাল থাকবে।

একই সুর শোনা গেছে ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আদৃতা রায়ের কণ্ঠেও। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে বলেন যে, ক্যাম্পাসের ভেতরে ঘটে যাওয়া এমন একটি স্পর্শকাতর ও গুরুতর অপরাধের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যেভাবে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা দেখানো উচিত ছিল, বাস্তবে তার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন তারা দেখতে পাচ্ছেন না। উপাচার্যের সাথে দেখা করে তদন্তের অগ্রগতি এবং অপরাধী গ্রেপ্তারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কেবল ‘কাজ এগোচ্ছে’ বলে দায়সারা জবাব দিচ্ছেন, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতির প্রমাণ দিতে পারছেন না। ঘটনার পর ইতিমধ্যেই দীর্ঘ ১০৬ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না দেখে বাধ্য হয়েই তারা উপাচার্যকে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি করতে এবং বোনটির প্রাপ্য বিচার নিশ্চিতের চাপ সৃষ্টি করতে এই কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই অবরোধের সূত্রপাত হঠাৎ করে হয়নি, বরং গত কয়েকদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মাঝে এই নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। এর আগে গত শনিবার সকাল ৯টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে সরাসরি প্রক্টর কার্যালয়ে চড়াও হন। সেখানে তারা প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন এবং কার্যালয়ের দরজার পুরোনো তালা ভেঙে নিজেদের পক্ষ থেকে নতুন তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের সংলগ্ন অন্ধকার রাস্তায় এক বহিরাগত যুবক এক নারী শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে হত্যার চেষ্টা চালায়। সে সময় ওই পথ দিয়ে যাওয়া অন্য কয়েকজন শিক্ষার্থীর তাৎক্ষণিক বাধা ও তৎপরতার কারণে ভুক্তভোগী রক্ষা পান এবং অপরাধী অন্ধকারে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই ঘটনার পরদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত অপরাধীকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্ষোভ এখন চরম রূপ ধারণ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬


জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা অভিযোগে উত্তাল ক্যাম্পাস, প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্তের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার দায়ে উপাচার্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবিতে এক উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি দল আজ রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকসহ ভেতরের একটি প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এই আকস্মিক অবরোধ কর্মসূচির কারণে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়লেও আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন যে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো কাজে যেন ভোগান্তি না হয়, সেই লক্ষ্যে বিশেষ প্রয়োজনে তাদের ভেতরে ঢোকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে সেখানে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহমিদা মুন নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, প্রশাসনের কাছে তাদের পূর্বঘোষিত সুনির্দিষ্ট ছয়টি দাবি ছিল। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান ও প্রথম দাবি ছিল—অনতিবিলম্বে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেই চিহ্নিত ধর্ষককে গ্রেপ্তার করতে হবে। প্রশাসন যদি এই সময়ের মধ্যে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো প্রক্টোরিয়াল বডিকে নৈতিক দায়িত্ব স্বীকার করে অনতিবিলম্ব পদত্যাগ করতে হবে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, বর্তমান প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে একের পর এক যে সমস্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে চলেছে, তার মূল দায়ভার আসলে কার? তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রশাসন সশরীরে তাদের সামনে এসে ধর্ষককে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি কঠোরভাবে বহাল থাকবে।

একই সুর শোনা গেছে ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আদৃতা রায়ের কণ্ঠেও। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে বলেন যে, ক্যাম্পাসের ভেতরে ঘটে যাওয়া এমন একটি স্পর্শকাতর ও গুরুতর অপরাধের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যেভাবে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা দেখানো উচিত ছিল, বাস্তবে তার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন তারা দেখতে পাচ্ছেন না। উপাচার্যের সাথে দেখা করে তদন্তের অগ্রগতি এবং অপরাধী গ্রেপ্তারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কেবল ‘কাজ এগোচ্ছে’ বলে দায়সারা জবাব দিচ্ছেন, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতির প্রমাণ দিতে পারছেন না। ঘটনার পর ইতিমধ্যেই দীর্ঘ ১০৬ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না দেখে বাধ্য হয়েই তারা উপাচার্যকে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি করতে এবং বোনটির প্রাপ্য বিচার নিশ্চিতের চাপ সৃষ্টি করতে এই কঠোর আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই অবরোধের সূত্রপাত হঠাৎ করে হয়নি, বরং গত কয়েকদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মাঝে এই নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। এর আগে গত শনিবার সকাল ৯টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে সরাসরি প্রক্টর কার্যালয়ে চড়াও হন। সেখানে তারা প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন এবং কার্যালয়ের দরজার পুরোনো তালা ভেঙে নিজেদের পক্ষ থেকে নতুন তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের সংলগ্ন অন্ধকার রাস্তায় এক বহিরাগত যুবক এক নারী শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে হত্যার চেষ্টা চালায়। সে সময় ওই পথ দিয়ে যাওয়া অন্য কয়েকজন শিক্ষার্থীর তাৎক্ষণিক বাধা ও তৎপরতার কারণে ভুক্তভোগী রক্ষা পান এবং অপরাধী অন্ধকারে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই ঘটনার পরদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত অপরাধীকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্ষোভ এখন চরম রূপ ধারণ করেছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল