বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের গহীন নদী ও সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা আবারো বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। গভীর রাতে সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচর এলাকার একটি নদী থেকে অস্ত্রের মুখে একটি মাছধরা ট্রলারসহ ১২ জন নিরীহ জেলেকে অপহরণ করেছে কুখ্যাত বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। এই অতর্কিত হামলার ঘটনায় সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
অপহৃত জেলেদের প্রায় সবাই বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা এলাকার বাসিন্দা। অপহৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করে জানা গেছে, দস্যুদের কবলে পড়া জেলেরা হলেন ইয়াসিন, মাসুম, সেলিম, জাকির, হোসেন, তৌহিদ, অন্য এক তরুণ ইয়াসিন, মাহবুব, হানিফ, হৃদয়, ইব্রাহিম ও সুমন। তারা সবাই জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনের দুবলারচর সংলগ্ন নদ-নদীতে মাছ ধরছিলেন।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শরণখোলার রাজাপুর এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের মহাজন জানান, গভীর রাতে যখন জেলেরা ক্লান্তি দূর করতে ট্রলারে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত দস্যু দল তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দস্যুদের গায়ে এক বিশেষ ধরনের পোশাক পরা ছিল। তারা ট্রলারে থাকা জেলেদের মারধর করে জিম্মি করে ফেলে এবং একটি ট্রলারসহ ১২ জন জেলেকে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যের দিকে নিয়ে যায়। ওই ব্যবসায়ী আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কেবল এই ১২ জনই নয়, ওই বাহিনীর কবলে আরও বেশ কয়েকজন জেলে আটকে থাকতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। দস্যুরা মূলত মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যেই এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগ সুন্দরবনের ভেতরে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, দুবলারচর এলাকায় ট্রলারসহ জেলে অপহরণের খবরটি পাওয়ার সাথে সাথেই গভীর রাতে বনরক্ষীদের একটি চৌকস দল দস্যুদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে এবং জেলেদের উদ্ধারে সুন্দরবনের ভেতরে বিশেষ অভিযানে নেমেছে। তবে বনের ভৌগোলিক জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত অপহৃত জেলেদের সুনির্দিষ্ট কোনো সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়নি, তবে অনুসন্ধান তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীমুল হক জানিয়েছেন, এই অপহরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী পরিবার বা মহাজনের পক্ষ থেকে থানায় সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুন্দরবনে দীর্ঘদিন শান্ত পরিস্থিতি থাকার পর হঠাৎ করে নতুন কোনো দস্যু বাহিনীর এই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা উপকূলের মৎস্য অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের গহীন নদী ও সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা আবারো বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। গভীর রাতে সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচর এলাকার একটি নদী থেকে অস্ত্রের মুখে একটি মাছধরা ট্রলারসহ ১২ জন নিরীহ জেলেকে অপহরণ করেছে কুখ্যাত বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। এই অতর্কিত হামলার ঘটনায় সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
অপহৃত জেলেদের প্রায় সবাই বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা এলাকার বাসিন্দা। অপহৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করে জানা গেছে, দস্যুদের কবলে পড়া জেলেরা হলেন ইয়াসিন, মাসুম, সেলিম, জাকির, হোসেন, তৌহিদ, অন্য এক তরুণ ইয়াসিন, মাহবুব, হানিফ, হৃদয়, ইব্রাহিম ও সুমন। তারা সবাই জীবিকার তাগিদে সুন্দরবনের দুবলারচর সংলগ্ন নদ-নদীতে মাছ ধরছিলেন।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শরণখোলার রাজাপুর এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের মহাজন জানান, গভীর রাতে যখন জেলেরা ক্লান্তি দূর করতে ট্রলারে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত দস্যু দল তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দস্যুদের গায়ে এক বিশেষ ধরনের পোশাক পরা ছিল। তারা ট্রলারে থাকা জেলেদের মারধর করে জিম্মি করে ফেলে এবং একটি ট্রলারসহ ১২ জন জেলেকে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যের দিকে নিয়ে যায়। ওই ব্যবসায়ী আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কেবল এই ১২ জনই নয়, ওই বাহিনীর কবলে আরও বেশ কয়েকজন জেলে আটকে থাকতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। দস্যুরা মূলত মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যেই এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগ সুন্দরবনের ভেতরে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, দুবলারচর এলাকায় ট্রলারসহ জেলে অপহরণের খবরটি পাওয়ার সাথে সাথেই গভীর রাতে বনরক্ষীদের একটি চৌকস দল দস্যুদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে এবং জেলেদের উদ্ধারে সুন্দরবনের ভেতরে বিশেষ অভিযানে নেমেছে। তবে বনের ভৌগোলিক জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত অপহৃত জেলেদের সুনির্দিষ্ট কোনো সন্ধান পাওয়া সম্ভব হয়নি, তবে অনুসন্ধান তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীমুল হক জানিয়েছেন, এই অপহরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী পরিবার বা মহাজনের পক্ষ থেকে থানায় সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুন্দরবনে দীর্ঘদিন শান্ত পরিস্থিতি থাকার পর হঠাৎ করে নতুন কোনো দস্যু বাহিনীর এই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা উপকূলের মৎস্য অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন